কলকাতা 

কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে জয়নগরের মৃত নাবালিকার ময়নাতদন্ত হবে কল্যাণীর এমসে, পুলিশকে পকসো ধরা যোগ করতে নির্দেশ দিল আদালত

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি : জয়নগরে মৃত নাবালিকার ময়না তদন্ত কোন কেন্দ্রীয় সরকারের হাসপাতালে করা এবং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে এই ময়নাতদন্ত করার যে আবেদন মৃতার বাবা-মা রেখেছিলেন তাতেই সীলমোহর দিল কলকাতা হাইকোর্ট। জয়নগর পুলিশের কাছে মৃতার বাবা-মা দাবি করেছিলেন যে তাদের কন্যার মৃতদেহ ময়নাতদন্ত করার সময় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে উপস্থিত থাকতে হবে এবং কোন কেন্দ্রীয় সরকারের হাসপাতালে তা করাতে হবে। মৃতার বাবার এই দাবি মেনে জয়নগর তথা দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলা পুলিশ প্রথমে নিম্ন আদালতে আবেদন করে কিন্তু নিম্ন আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেওয়ার পর। শনিবার রাতেই কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে বিশেষ অনুমতি প্রার্থনা করে পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুরোধ করা হয়।

পুলিশের অনুরোধ মেনে প্রধান বিচারপতির নির্দেশে রবিবার ছুটির দিনে কলকাতা হাইকোর্টে বিশেষ বেঞ্চ বসে। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ এ বিষয়ে নির্দেশ দিয়ে বলেছেন জয়নগরে নিহত নাবালিকার দেহের ময়নাতদন্ত কল্যাণীর এমসে হবে এবং সেখানে বারুইপুর কোটের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে উপস্থিত থাকতে হবে। যদি কোন কারণে কল্যাণী এমসে তা করা সম্ভব না হয় তাহলে সেটা হবে কল্যাণীর জহরলাল নেহেরু মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। কিন্তু ময়নাতদন্ত করবেন এমসের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। এই ময়নাতদন্ত চলাকালীন সময় জে এম এন হাসপাতালে কোন চিকিৎসক উপস্থিত থাকতে পারবেন না। শুধুমাত্র সাহায্য করার জন্য ওই হাসপাতালে কোন এক কর্মী উপস্থিত থাকতে পারে বলে কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে। একইসঙ্গে পোকসো ধারা এই মামলার সঙ্গে পুলিশকে যোগ করতে বলেছেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ।এ বিষয়ে বিচারপতির প্রশ্ন, মেয়েটির বয়স ১০ বছরের কম হওয়া সত্ত্বেও কেন পকসো আইনে মামলা রুজু করেনি পুলিশ? সুরতহালের পরেও কেন পুলিশ পকসো ধারায় মামলা রুজু করল না? এর পরেই জয়নগরকাণ্ডে পুলিশকে পকসো আইনের ধারা যুক্ত করার নির্দেশ দেন বিচারপতি।

Advertisement

সোমবার কল্যাণী এমসে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। তবে সেখানে যদি ময়নাতদন্তের সঠিক পরিকাঠামো না থাকে, তা হলে কল্যাণী জেএনএম হাসপাতালে ময়নাতদন্ত করানো যেতে পারে বলে জানিয়েছেন বিচারপতি। তিনি বলেন, ‘‘কল্যাণী এমসের চিকিৎসকেরাই ময়নাতদন্ত করবেন। ময়নাতদন্তের সময় জেএনএম হাসপাতালের এক জন কর্মীও উপস্থিত থাকতে পারবেন না। সোমবার বেলা ১১:৪৫ মিনিটে কল্যাণী এমসে দেহ যাবে। বারুইপুর কোর্টের ম্যাজিস্ট্রেটকে সেখানে উপস্থিত থাকতে হবে। শুধুমাত্র বাবা-মা চাইলে ময়নাতদন্তের ভিডিয়ো দেখতে পারবেন। ময়নাতদন্ত কক্ষের বাইরে তাঁরা থাকতে পারবেন।’’

ন’বছরের শিশুকে ধর্ষণ-খুনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শনিবার দিনভর অগ্নিগর্ভ ছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগর। শুক্রবার রাতে বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার দূরে একটি জলাভূমি থেকে উদ্ধার হয় নাবালিকার দেহ। তার পর শনিবার সকাল থেকেই এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। পরিবার ও গ্রামবাসীদের দাবি, নাবালিকা নিখোঁজ হওয়ার পর পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তাঁরা।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ