বেলঘরিয়া দেশপ্রিয় বিদ্যানিকেতন গার্লস হাই স্কুলে ব্যাগলেস-ডে উদযাপন
নায়ীমুল হক: খুদে পড়ুয়াদের ফিরিয়ে দিতে হবে ছেলেবেলা। ভার বেশি হওয়া চলবে না তাদের স্কুল-ব্যাগ। এমন নিয়মের কথাই বলা হয় ২০২০ সালের নিউ এডুকেশন পলিসিতে। কিশোরমতি পড়ুয়াদের এসমস্ত গুরুত্বপূর্ণ দিকের কথা খেয়াল রেখে শনিবার বেলঘরিয়া দেশপ্রিয় বিদ্যানিকেতন গার্লস হাই স্কুলে পালিত হয়ে গেল ব্যাগলেস-ডে। বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের বিশেষভাবে উৎসাহ দিতে ব্যাগলেস-ডে এর সাথে সাথে নানাভাবে সাজিয়ে তোলা হয়েছিল এ’দিনের অনুষ্ঠানমালা।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি যত এগোচ্ছে শিক্ষাক্ষেত্রেও তার ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছে। তাই সেদিকে তাকিয়ে বিদ্যালয়ে এদিন প্রথমেই স্মার্ট ক্লাসরুম উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ওয়েস্ট বেঙ্গল বোর্ড অফ প্রাইমারি এডুকেশন-এর ডেপুটি সেক্রেটারি গণিতের অধ্যাপক ড. পার্থ কর্মকার। এছাড়াও উপস্হিত ছিলেন বিদ্যালয় পরিচালন সমিতির সভাপতি শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিবর্গ। নানা স্বাদে এদিন সামগ্রিকভাবে অনুষ্ঠানটি ছিল সকলের নিকট সত্যিকারেরই বিশেষ উপভোগ্য।


এদিনের আয়োজনে বিশেষ আকর্ষণ ছিল আত্মরক্ষার কৌশল শিক্ষার একটি প্রদর্শনী। তাইকুন্ড প্রশিক্ষকরা নানারকম কৌশল ছাত্রীদের সামনে প্রদর্শন করেন। এতে ছাত্রীরাও বেশ অনুধাবন করতে পারে নিজেদের জন্য আত্মরক্ষার প্রাথমিক পাঠ কত প্রয়োজনীয় এবং তা সত্যিই কতখানি সহজে আয়ত্ত করা যায়।
ব্যাগলেস-ডে উদযাপন উপলক্ষে এদিন বই খাতা কলম ব্যতীত নতুন স্বাদের আস্বাদে ছাত্রীসহ সকলের নিকট ভরে উঠেছিল দিনটি।

এদিনের অনুষ্ঠানে অপর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ছাত্রীদের মায়েদের জন্য। মূলত গর্ভবতী মা ও শিশুর স্বাস্থ্য ,শিশুদের অপুষ্টি থেকে সুরক্ষার ব্যবস্হা কীভাবে হতে পারে, তা ছিল মূল বিষয়। এর দায়িত্বে ছিল সিনি [বা CINI– CHILD IN NEED INSTITUTE.]। সিনির সহযোগিতায় বিদ্যালয়ে গত ৮ই মার্চ নারী দিবস উপলক্ষে আরও একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। যেখানে ছাত্রীদের মায়েদের নিয়ে আয়োজিত হয়েছিল পুষ্টিকর খাদ্য তৈরীর প্রতিযোগিতা। এই প্রতিযোগিতায় বিজয়ী প্রথম তিনজনকে এদিনের অনুষ্ঠানে পুরস্কৃত করা হয় সিনির পক্ষ থেকে । এর ফলে খাবারে পুষ্টির মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় নিয়েও বিশেষ চর্চা শুরু হয় ছাত্রী ও অভিভাবক মহলে।

