চলে গেলেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ রাম পেয়ারি রাম, শোকের ছায়া রাজনৈতিক মহলে!
বাংলার জনরব ডেস্ক : রাজ্যের অন্যতম প্রবীণ রাজনীতিবিদ তথা প্রাক্তন বিধায়ক এবং কলকাতা পুরসভার ৭৯ ওয়ার্ডের কাউন্সিলার রাম পেয়ারি রাম চলে গেলেন । বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর । তিনি ১৯৭১ সালে কলকাতার কবিতীর্থ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রথম বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন । জানা গেছে, গত ৬ নভেম্বর তিনি অসুস্থ অবস্থায় আলিপুরের উডল্যান্সে ভর্তি হয়েছিলেন । আজ রবিবার সকাল ১১টা নাগাদ ওই বেসরকারি হাসাপাতালেই তাঁর মৃত্যু হয় । রামপেয়ারি মৃত্যুতে কলকাতা বন্দর এলাকায় রাজনীতির একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি হল। শোকের ছায়া কলকাতা বন্দর এলাকায়। ওই এলাকায় ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক নেতা হিসাবে তাঁর পরিচিত ছিল। তিনি নিজেও এ নিয়ে মজা করে প্রায়ই বলতেন, ‘‘আমার নামের আগে রাম পিছে রাম। আমার মতো ধর্মনিরপেক্ষ ব্যক্তি হতে পারে না!’’
রামপেয়ারির রাজনৈতিক জীবন ছিল সুদীর্ঘ। তিনি সাত বার বিধায়ক হয়েছেন। কলকাতা পুরসভার ১০ বারের কাউন্সিলর ছিলেন। ১৯৭১ সালে কলকাতার কবিতীর্থ আসনে প্রথম বার কংগ্রেসের বিধায়ক হন রামপেয়ারি। পরের বছরের নির্বাচনে তিনি দ্বিতীয় বার জয়ী হন। ১৯৭৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ওই জয় ধরে রাখতে পারেননি রামপেয়ারি। রাজ্যে ক্ষমতায় আসে প্রথম বামফ্রন্ট সরকার। পরের বার বিধানসভাতেও লড়াই করে হেরে যান ওই নেতা। পর পর দু’বার ফরোয়ার্ড ব্লক নেতা কলিমুদ্দিন শামসের কাছে পরাজিত হতে হয় তাঁকে। ১৯৮৭ সালে প্রত্যাবর্তন হয় তাঁর। আবার বিধায়ক নির্বাচিত হন বন্দর এলাকার ওই নেতা। তার পর ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ এবং ২০০৬ সাল পর্যন্ত পর পর পাঁচ বার বিধায়ক হন রামপেয়ারি। পরে বিলুপ্ত হয় কবিতীর্থ আসনটি। ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জোট বেঁধে লড়াই করে তৃণমূল এবং কংগ্রেস। টিকিট পাননি রামপেয়ারি। নির্দল প্রার্থী হিসেবে ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ওই বছর কলকাতা বন্দর আসনে ফিরহাদ হাকিমের কাছে পরাজিত হন তিনি। দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রার্থী হওয়ায় তাঁকে বহিষ্কার করে কংগ্রেস। ওই বছরই রাজ্যে পালাবদল ঘটে। বাম সরকারের পতন হয়। ক্ষমতায় আসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল সরকার। পরে রামও তৃণমূলে নাম লেখান।
মৃত্যর খবর পাওয়ার পরেই হাসপাতালে ছুটে যান মেয়র ফিরহাদ হাকিম । তিনি এই প্রবীণ নেতার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন । একই সঙ্গে রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শোক প্রকাশ করেছেন । রাম পেয়ারি রামের এক সময়কার ঘনিষ্ঠ সহযোগী প্রাক্তন সাংসদ আমজাদ আলীও গভীর শোক ব্যক্ত করেছেন । পরিবার সূত্রে খবর, সোমবার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে তৃণমূল নেতার। ওই দিন তাঁর মরদেহ প্রথমে বিধানসভায় আনা হবে। সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হবে ক্যাওড়াতলা মহাশ্মশানে।

