কলকাতা 

সাতঘরা হাই মাদ্রাসায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করলেন প্রাক্তন ডিজিপি নাপরাজিত মুখোপাধ্যায়, শিক্ষায় উন্নতির একমাত্র পথ বললেন প্রাক্তন পুলিশ কর্তা

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি: ১৫ ই আগস্ট মঙ্গলবার সম্ভবত পশ্চিমবাংলার মাদ্রাসা গুলির ইতিহাসে প্রথম স্বাধীনতা দিবসের দিন পতাকা উত্তোলন করছেন এই রাজ্যের কোন প্রাক্তন অমুসলিম পুলিশ কর্তা। কার্যত সাতঘরা হাই মাদ্রাসা বাংলার মাদ্রাসা শিক্ষার ইতিহাসে নজির সৃষ্টি করল বলা যেতে পারে। বলা যেতে পারে আড়াল ভাঙছে সাতঘরা।

সাতঘরা মাদ্রাসার পরিচালন সমিতির পক্ষ থেকে এবং মাদ্রাসার বর্তমান টিচার ইনচার্জ এর পক্ষ থেকে রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন ডাইরেক্টর জেনারেল পুলিশ এবং বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ মানবাধিকার কমিশনের সদস্য না পরাজিত মুখোপাধ্যায় কে প্রধান অতিথি হিসাবে স্বাধীনতা দিবসের দিনে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল। তিনি আন্তরিকতার সঙ্গে এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং কথা দিয়েছিলেন নির্দিষ্ট সময়ে তিনি উপস্থিত হবেন এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলন করবেন।

সেই মতো স্বাধীনতা দিবসের দিন আজ মঙ্গলবার ঠিক ১১:০৫ মিনিটে মাদ্রাসার প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন প্রাক্তন এই পুলিশকর্তা। প্রাক্তন এই পুলিশকর্তার উপস্থিতিতে সমগ্র মেটিয়াবুরুজ এলাকা উদ্বেলিত হয়ে পড়ে। কয়েকশো মানুষ হাজির হন শুধুমাত্র না পরাজিত মুখোপাধ্যায় কে দেখার জন্য। আসলে বাঙালি মুসলমান অধ্যুষিত এই এলাকাটি বস্ত্র শিল্পের জন্য প্রসিদ্ধ হলেও এখান থেকে কোটি কোটি টাকা সরকারের আই হলেও এই এলাকাকে মুসলমান সমাজের যারা উচ্চশিক্ষিত তারাই এড়িয়ে চলেন, তাই না পরাজিত মুখোপাধ্যায়ের এই উপস্থিতি এলাকার মানুষকে আপ্লুত করেছে বলে সাধারণ মানুষ বললেন।

 

পতাকা উত্তোলনের পর স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত মাদ্রাসার শ্রেণীকক্ষে আলোচনা সভায় যোগদান না পরাজিত মুখোপাধ্যায়। তিনি বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই এলাকার সমাজসেবী এবং মাদ্রাসার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা শেখ তৈয়ব আলী অর্থাৎ এসপি আলী নামে খ্যাত ব্যক্তির প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন। তিনি বলেন শিক্ষার জন্য এই পরিবার যে দান করেছেন ত্যাগ কথায় অনবদ্য এরাই আসলে প্রকৃত মানুষ এবং মানুষের জন্য কাজ করে চলেছেন।

 

একই সঙ্গে পিছিয়ে পড়া বাঙালি মুসলিম সমাজের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন শিক্ষাকে আত্মস্থ করুন শিক্ষাকে গ্রহণ করুন সমাজের মূল স্রোতে থেকে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। এদিনের অনুষ্ঠানে প্রাক্তন পুলিশ কর্তা মাদ্রাসার পরিচালন সমিতির কাছে অনুরোধ করেন স্কাউট গাইড এবং এনসিসি শাখা খোলার জন্য। পরিচালন সমিতি এই প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন আগামী দিনে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এদিনের সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মাদ্রাসার টিচার ইনচার্জ সেখ ইবাদুল ইসলাম বলেন, স্বাধীনতা দিবসের প্রাক দিন আমাদেরকে শপথ নিতে হবে শিক্ষা আমাদেরকে গ্রহণ করতে হবে। এই বিশ্বে সবচেয়ে সংখ্যালঘু জাতি হচ্ছে ইহুদীরা, তারা কিন্তু সমগ্র বিশ্বকে পরিচালনা করছে। বেশ কয়েকটা উন্নত দেশের রাষ্ট্রনায়ক কারা হবেন সেই সিদ্ধান্ত ইহুদীরাই ঠিক করে দেন কারণ তারা বিজ্ঞানপ্রযুক্তিকে জয় করতে পেরেছে। আমাদের সমাজকে এগিয়ে যেতে হলে শিক্ষাকেই পাথেয় করতে হবে।

 

পরিচালন সমিতির সম্পাদক শেখ নূর নবী বলেন, আমার আব্বা এবং চাচারা যে স্বপ্ন এবং উদ্দেশ্য নিয়ে এই মাদ্রাসা গড়ে তুলেছিলেন সেই মাদ্রাসার শিক্ষার প্রসার এবং প্রচারে আমরা অগ্রণী ভূমিকা নেব। আগামী দিনে এই মাদ্রাসা এই অঞ্চলের শিক্ষার প্রসারে আরো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

 

বিশিষ্ট সমাজসেবী জানে আলম বলেন, ইসলাম ধর্মের জেহাদ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে এই জেহাদের মধ্যে জিহাদে আকবরকে সর্বশ্রেষ্ঠ বলা হয়েছে। এই জেহাদে আকবর হল কলম কলমের শিক্ষা অর্থাৎ শিক্ষা। নবী সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম যে শিক্ষার কথা বলে গেছেন সেই শিক্ষাটাকেই জেহাদে আকবর বলছেন। তাহলে আমাদের প্রত্যেকটি মানুষের উচিত শিক্ষাকে আত্মস্থ করা।

এদিনের সবাই বক্তব্য রাখতে গিয়ে ১৪০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জনাব মোঃ আবু তারিক বলেন সাতঘরা হাই মাদ্রাসা আমার ওয়ার্ডের বা আমার এলাকার মধ্যে না হলেও এই মাদ্রাসার সুখ-দুঃখ সমস্যা সব সমাধান সব কিছুর সঙ্গে আমরা থাকবো। চেষ্টা করব এই মাদ্রাসাকে এই এলাকার শিক্ষার প্রসারে আলোর দিশারী করে তুলতে।

এদিনের সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে কলকাতা জেলা সংখ্যালঘু দপ্তরের আধিকারিক আহসানুল মল্লিক বলেন, সরকার সব রকম সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সংখ্যালঘু ছেলে মেয়েদের পাশে রয়েছে আপনারা সেই সুযোগকে কাজে লাগান। শিক্ষার প্রসার ঘটান। সাতঘরা হাই মাদ্রাসার দশম শ্রেণীর এক ছাত্রীর অকাল মৃত্যুর কারণে এদিন এক মিনিট নীরবতা পালন করেন সবাই উপস্থিত সকল অতিথি এবং ছাত্র-ছাত্রীরা। ওই ছাত্রীর রুহের মাগফেরাত কামনা করে মহান আল্লাহতালার কাছে প্রার্থনা করেন মুফতি আহমাদুল্লাহ।

এদিনের সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, পরিচালন সমিতির সভাপতি গোলাপ রহমান সহ-সভাপতি শাহজাদি মেহতাব, সদস্য নিজামুদ্দিন, মেহতাব উদ্দিন মোল্লা, মোহাম্মদ আসলাম, ইউনুস সাহেব প্রমুখ। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শিক্ষক ওলিউল ইসলাম। বিশেষ সহযোগিতায় ছিলেন কুতুব উদ্দিন মোল্লা, শেখ মনির উদ্দিন, শফিউল ইসলাম এবং শান্তনু ব্যানার্জি। সংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন শিক্ষক সমীরণ জানা এবং শিক্ষিকা রিয়া সোনার।

 

 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ