তৃণমূল কংগ্রেস দল ছাড়লেন বলাগড়ের বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী
বিশেষ প্রতিনিধি : বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক এবং হুগলি জেলার বলাগড়ের বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। বুধবার সকালে সোশ্যাল মিডিয়ায় অর্থাৎ ফেসবুক প্রোফাইলে মনোরঞ্জন ব্যাপারী এ কথা জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি এও বলেছেন বিধায়ক পদ থেকে পদত্যাগ করতে পারতাম কিন্তু একটা চাকরি আমি করতাম বিধায়ক হওয়ার জন্য সেই চাকরি আমাকে ছাড়তে হয়েছিল এখনো পর্যন্ত সেই চাকরির জন্য নির্দিষ্ট পেনশন বা গ্রাচুইটি কিছুই পাইনি, যেদিন পাবো সেদিন আমি বিধায়ক পদ থেকেও পদত্যাগ করব।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন বিশিষ্ট এই সাহিত্যিক কে বলাগড় বিধানসভা কেন্দ্রে ২০২১ সালে প্রার্থী করেছিলেন দলনেত্রী। এর ফলে ২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনে এই বিধানসভা কেন্দ্র থেকে পিছিয়ে থাকার পরেও বিপুল ভোটের ব্যবধানে মনোরঞ্জন ব্যাপারী জয়ী হয়েছিলেন। একজন সাদাসিধে এবং বাংলার সাধারণ মানুষের আপনজন হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিলেন বিশিষ্ট এই সাহিত্যিক। কিন্তু দুর্ভাগ্যের হলেও সত্য তৃণমূল কংগ্রেস দলের মধ্যে লুপ্ফেন রাজ এবং দুর্নীতি এমনভাবে বাসা বেধেছে কোন সৎ ব্যক্তি এই দলে থাকতে পারবেন না। মনোরঞ্জন ব্যাপারীর ক্ষেত্রেও এটা সত্য বলে প্রমাণিত হলো।

বিশিষ্ট এই সাহিত্যিক ও বলা গড়ের বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী সোশ্যাল মিডিয়ায় যে পোস্ট করেছেন তা সকলের জন্য তুলে ধরা হলো :
“প্রিয় বলাগড়বাসী জনগন ও জেলা সহ তৃনমুল কংগ্রেস নেতৃত্বকে এই পোষ্টের মাধ্যমে জানাই,
আমাকে দল দুটি পদ প্রদান করেছিল
(1) 2023 পঞ্চায়েত নির্বাচন কমিটির সদস্য, হুগলী জেলা ( জোনাল 6)
( 2 ) সাধারন সম্পাদক পশ্চিম বঙ্গ রাজ্য তৃনমুল কংগ্রেস কমিটি,
উক্ত দুটি দলীয় পদ থেকে ব্যক্তিগত কারনে পদত্যাগ করলাম।
বিধায়ক পদ থেকেও ইস্তফা দেবার ইচ্ছা ছিল কিন্তু যে হেতু আগে আমি একটি চাকরি করতাম, নির্বাচনে দাঁড়াবার জন্য সেটি ছাড়তে হয়েছিল! দু বছরের অধিক সময় হয়ে গেল পঞ্চাশ বার ছোটাছুটি করেও যার পেনশন ও গ্রাচুইটির কিছু পাইনি, তাই এই মুহূর্তে বিধায়ক পদ ছাড়তে পারছি না। তা হলে খাবো কী?
যেদিন পেনশন পেতে আরম্ভ করবো এই পদ থেকেও সরে দাঁড়াব।
এতদিনে বুঝতে পেরেছি এই রাজনীতি আমার মতো মানুষের জন্য নয়।
সবাইকে ধন্যবাদ ও নমস্কার।”

