কলকাতা 

ভাঙড়ে দল-মত নির্বিশেষে আমি সকলের জনপ্রতিনিধি তাই তাদের নিরাপত্তা চেয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এসেছিলাম, উনি পুলিশ মন্ত্রী! কিন্তু উনি দেখা করলেন না ব্যস্ত আছেন, নবান্ন থেকে বেরিয়ে জানালেন নওশাদ সিদ্দিকী

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : ইমেইল মারফত খবর দিয়ে নবান্নে এসেছিলেন বিরোধীদলের একমাত্র ধর্মনিরপেক্ষ বিধায়ক তথা ফুরফুরা শরীফের পীরজাদা নওশাদ সিদ্দিকী মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে। কিছুক্ষণ বসিয়ে রাখার পর তাকে জানিয়ে দেয়া হয় মুখ্যমন্ত্রী ব্যস্ত আছেন তিনি কথা বলতে পারবেন না। নওশাদ সিদ্দিকীর নবান্ন অভিযান বা মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে যাওয়াটা আজকের দিনের রাজনীতিতে একটি ব্যতিক্রমী ভূমিকা বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। পঞ্চায়েত নির্বাচনকে ঘিরে সমগ্র রাজ্যজুড়ে যখন শাসকবিরোধীদের মধ্যে যুদ্ধং দেহি মনোভাব চলছে ঠিক সেই সময় নিজের বিধানসভা এলাকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা দেওয়ার লক্ষ্যে এবং তাদের জান মালের নিরাপত্তার জন্য রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন একজন জনপ্রতিনিধি এটা একটা ব্যতিক্রমী রাজনীতি বলে মনে হয়েছে।

স্বাধীন ভারতের পশ্চিমবাংলার রাজনীতিতে কোন বিরোধী দলের নেতা মুখ্যমন্ত্রীকে আগাম খবর দিয়ে দেখা করতে যাওয়াটা স্বাভাবিক পর্যায়ে ছিল। বেশ কয়েক বছর আগেই আমরা দেখেছি কংগ্রেস নেতা আব্দুল মান্নান এর ভাই যখন পঞ্চায়েত নির্বাচনে  সিপিএমের হাতে আক্রান্ত হয়েছিলেন ঠিক সেই সময় ২৪ ঘন্টার নোটিশে জ্যোতিবাবুর সঙ্গে দেখা করেছিলেন সোমেন মিত্র এবং আব্দুল মান্নান। সোমেন মিত্র জ্যোতিবাবুর সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এক মিনিট সময় নষ্ট না করে জ্যোতিবাবু সরাসরি ডিজিপিকে ডেকে বলেছিলেন আসামি এখনো বাইরে কেন? চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে মান্নানের ভাইকে যারা মেরেছে তাদেরকে জেলের ভিতর দেখতে চাই বলেছিলেন জ্যোতি বাবু এবং ২৪ ঘন্টার আগেই গ্রেফতার হয়েছিল সিপিএমের নেতারা! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জ্যোতিবাবুর চেয়ে নিজেকে বড় জননেত্রী বলে দাবি করে থাকেন তিনি পারলেন না নওশাদের সঙ্গে দেখা করতে। ইচ্ছা করলেই পারতেন। করলেন না এর রাজনৈতিক লাভ পাবে কিন্তু ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট।

এ প্রসঙ্গে নবান্ন থেকে বেরিয়ে আসার পর নওশাদ সিদ্দিকী সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন,ভাঙড়ে পঞ্চায়েত ভোট পূর্ববর্তী পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন তিনি। আগে থেকে মুখ্যমন্ত্রীর অফিসে তাঁর আগমনের কথা ইমেল মারফত জানিয়েওছিলেন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর দেখা হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী ব্যস্ত ছিলেন।

নওশাদের ভাষায়, ‘‘ভাঙড়ের বিডিও অফিস ১৪৪ ধারা জারি থাকা সত্ত্বেও ঘিরে রাখা হয়েছে। বিরোধীরা মনোনয়ন জমা দিতে পারছে না। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী আমাদের রাজ্যের অভিভাবিকা। তাই আমার মনে হয়েছে, ওঁকে জানানো উচিত। তাই জানাতে এসেছিলাম। তার আগে দেখা করব জানিয়ে মেলও করেছিলাম। কিন্তু আমার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর সময় হয়ে ওঠেনি। আজ আবেদন জানিয়ে গেলে হয়তো আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দেখা করতে পারব। কিন্তু আগামিকালই মনোনয়ন জমা দেওয়া শেষ হয়ে যাবে। পরে কখনও প্রয়োজন হলে আবার আসব।’’

ভাঙড়ের বিধায়ক আরও বলেন, ‘‘আমি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলাম। যাতে তাঁর নজর আলাদা করে ভাঙড়ের দিকে থাকে। আমি জনপ্রতিনিধি। সাধারণ মানুষ ভাঙড়ে আক্রান্ত হচ্ছেন। তাঁরা যে দলেরই হন না কেন। আমি মানুষের জন্য ছুটে এসেছি। ভাঙড়ে যিনি তৃণমূল করেন আমি তাঁরও জনপ্রতিনিধি, যিনি বিজেপি করেন তাঁরও জনপ্রতিনিধি, যিনি আইএসএফ বা অন্য কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত, আমি প্রত্যেকের জনপ্রতিনিধি। সকলে যাতে সুরক্ষিত থাকেন, নিরাপদে যাতে সকলে মনোনয়ন জমা দিতে পারেন, যাতে নির্বিঘ্নে ভোট হয়, তা নিশ্চিত করতে আমি এখানে এসেছিলাম। নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। সেই কমিশন পুলিশের উপর আস্থা রাখছে এবং পুলিশের শীর্ষে আছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাই তাঁর কাছে আমি এ সব জানাতে এসেছিলাম।’’


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ