জেলা 

নারী অধিকার ও সুরক্ষার ডাক জামাআতে ইসলামী হিন্দের উত্তরবঙ্গ মহিলা সম্মেলনে

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি: জামাআতে ইসলামী হিন্দের উদ্যোগে উত্তরবঙ্গ মহিলা সম্মেলন হয়ে গেল মুর্শিদাবাদ জেলার শামশেরগঞ্জ ব্লকের অন্তর্গত ধুলিয়ান ফিডার ক্যানেল ফিল্ডে। ২৩ শে জানুয়ারি সোমবার এই ঐতিহাসিক উত্তরবঙ্গ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামাআতের সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি সাইয়েদ আমিনুল হাসান। বিশেষ অতিথি হিসাবে মহিলা শাখার সর্বভারতীয় সম্পাদিকা আতিয়া সিদ্দিকা। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা ড: হোসনেআরা খাতুন সাহেবা, মালদার রাষ্ট্রপতি পুরস্কার প্রাপ্ত প্রাক্তন প্রধান শিক্ষিকা মিনতি দত্ত মিশ্র মহাশয়া, বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী ছোটন দাস মহাশয় প্রমুখ।

এছাডাও অতিথিদের হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জামাআতের রাজ্য সভাপতি মাওলানা আব্দুর রফিক, প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি রহমত আলি খান, সেক্রেটারি হালকা মসিউর রহমান সাহেব, রাজ্য বিভাগীয় সম্পাদক মাওলানা তাহেরুল হক সাহেব, সেখ নাসিম আলি সাহেব, ডা: মশিহুর রহমান সাহেব, জিল্লুর রহমান সাহেব, নুরুল ইসলাম মাজিদি সাহেব, মমতাজ আহমেদ ইসলাম সাহেব, দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গ মহিলা সম্পাদিকা যথাক্রমে রেহেনা সুলতানা সাহেবা ও নাঈমা আনসারী সাহেবা, ছাত্রী সংগঠন জি. আই.ওর রাজ্য সভাপতি শরীফা ইয়াসমিন, মানবাধিকার এপিসিয়ার এর রাজ্য প্রধান আব্দুস সামাদ প্রমুখ।

প্রধান অতিথির ভাষণে আমিনুল হাসান বলেন, “বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও” স্লোগান যারা দেয়, তারাই হাথরস, উন্নাও, কাঠুয়া থেকে বিলকিস বানু – সবক্ষেত্রে ধর্ষকদের পাশে দাঁড়িয়েছে। অথচ নির্ভয়াকাণ্ডে এরাই সহিংস প্রতিবাদে মুখর হয়েছিল। আর এখন তারাই ক্ষমতায় এসে দেশকে ওইসবে যুক্ত অপরাধীদের ছাড় দিচ্ছে। বিভিন্ন রাজ্যে ধর্ষণে অভিযুক্তদের সবথেকে বেশি সংখ্যায় নির্বাচনে প্রার্থী করেছে বিজেপি। মনুবাদ নারীজাতিকে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকে পরিণত করতে চায়। আশারাম বাপু থেকে রামরহিম পর্যন্ত সবার পাশে দাঁড়াচ্ছে তারা। ২০১৪ থেকে দেশে সবচেয়ে বেশি নারীদের ওপর অ্যাসিড হামলা, যৌন নির্যাতন ও নিপীড়ন, ধর্ষণ, গণধর্ষণ, গার্হস্থ্য হিংসা, গর্ভপাত, নারী পাচার সবথেকে বেশি হচ্ছে।

ডা: আতিয়া সিদ্দিকা বলেন, ইসলাম মহিলাদের প্রাপ্য অধিকারের পাশপাশি কিছু দায়িত্ব, কর্তব্য নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। সেইসব দায়িত্ব, কর্তব্য যথাযথ পালন করলে তাদের অধিকারসমূহ সহজলভ্য হয়ে যায়। তাঁর কথায়, নারীজাতির আজ ঘরে-বাইরে দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ। দেশ তথা বিশ্বজুড়ে নারীরা আজ ভোগের পণ্যে পরিণত হয়েছে। তাদের ওপর অত্যাচার, নির্যাতন এবং শোষণ চলছে। নারীজাতির সহজাত মূল্যবোধের অবমূল্যায়ন হচ্ছে। মনুষ্য রচিত বিধানে নারী কোনদিন সুখ শান্তির সন্ধান পেতে পারে না। এটা প্রমাণিত সত্য। ইসলামেই একমাত্র নারীদের মুক্তি নিহিত রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গ মহিলা সম্পাদিকা

রেহানা সুলতানা বলেন, স্বাধীনতার ৭৫ বছর পর কী এমন ঘটল যে, মেয়েদেরকে তাদের প্রাপ্য অধিকার আদায়ের জন্য পথে নামতে হল? এর উত্তর রয়েছে এনসিআরবি রিপোর্টে। নারীদের স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে দেওয়া হচ্ছে না। স্রষ্টার বিধানেই একমাত্র সৃষ্টির কল্যাণ সম্ভব, অন্যথায় নারীদের অধিকার, মর্যাদা, সুরক্ষা সবই মরিচীকা।

রাজ্য সভাপতি মাওলানা আব্দুর রফিক সাহেব বলেন, আমরা কেবলমাত্র মুসলিমদের কথা বলছি না। নারীদের সমস্যা কেবল মুসলিমদের ক্ষেত্রেই নয়, সমস্ত জাতি ধর্ম বর্ণের মহিলাদের সমস্যা একই। তাই এই আন্দোলন শুধু মুসলমানদের নয়, এ আন্দোলন সবার জন্য। এ আন্দোলন সময়ের দাবি। তিনি আরও বলেন, যতদিন না নারীর অধিকার ও মর্যাদা সুরক্ষিত হচ্ছে, ততদিন এই আন্দোলন জারি থাকবে। আমরা নারীদের প্রাপ্য অধিকার, সম্মান ও মর্যাদা ইনসাফপূর্ণভাবে পাইয়ে দিতে চাই। আমরা নারী-পুরুষ সহ সমগ্র মানবজাতির কল্যাণ ও মুক্তির জন্য সওয়াল করি এবং আওয়াজ ওঠাই। সব রকম সামাজিক অন্যায় ও অবিচারের প্রতিবাদে আমরা সোচ্চার হই, গর্জে উঠি। নারী স্বাধীনতা ও অধিকার সুনিশ্চিত করতে প্রশাসনের কর্মকর্তাদেরকেও তিনি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনাদেরকে আরও সংবেদনশীল হতে হবে।

উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার মহিলা প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেন। সুবিশাল সমাবেশের নিরাপত্তা ও শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে আকাশপথে নজরদারি চালানো হয়। গুরুগম্ভীর বিষয়ে বক্তব্যের একঘেঁয়েমি কাটাতে মাঝেমধ্যে ছাত্রীদের কোরাস ইসলামী সংগীত এবং স্লোগান সমাবেশকে অন্য মাত্রা এনে দেয়।

সম্মেলন ঘোষণাপত্র পাঠ করেন রাজ্য সম্পাদক মসিউর রহমান সাহেব। শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন মহিলা সম্মেলনের সহকারী কনভেনর মুর্শিদাবাদ জেলার সহকারী জেলা নাজিম আব্দুল্লাহিল কাফি সাহেবের ধন্যবাদ জ্ঞাপন দিয়ে সম্মেলনের শেষ হয়।

সমগ্র প্রোগ্রামটি সঞ্চালনা করেন জি.আই.ওর রাজ্য সম্পাদক সুমাইয়া ইয়াসমিন শিফা ও জি.আই.ওর রাজ্য বিভাগীয় সম্পাদক নুর্ষিমা খাতুন।দোয়ার মাধ্যমে সম্মেলনের সমাপ্তি হয়।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ