অন্যান্য কলকাতা 

২০২৩ এর প্রতিষ্ঠা দিবসে তৃণমূল কংগ্রেসকে মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে এটাই মমতার কাছে চ্যালেঞ্জ

শেয়ার করুন

সেখ ইবাদুল ইসলাম: আগামীকাল পহেলা জানুয়ারি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা দিবস। সময়ের বিচারে তৃণমূল কংগ্রেসের বয়স ২৫শে পড়ল। অর্থাৎ তৃণমূল কংগ্রেসের ২৫ তম প্রতিষ্ঠা দিবসে এই দলকে এখন মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে হবে। অবশ্য অনেকেই বলবেন একটানা ১২ বছর ক্ষমতায় থাকার পর এই প্রশ্নটা তোলার কোন অবকাশ আছে কিনা। অবশ্যই প্রশ্ন তোলার অবকাশ রয়েছে। কারণ মনে রাখতে হবে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯৯৯ সালে যে তৃণমূল কংগ্রেসের জন্ম দিয়েছিল সেই তৃণমূল কংগ্রেস তখন বাংলার মানুষের আশীর্বাদে পুষ্ট ছিল।

তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার মাত্র ১২ বছরের মধ্যেই সিপিএমের মত একটা ক্যাডার ভিত্তিক দলকে এই বাংলা থেকে সরিয়ে ক্ষমতাসীন হয়েছিলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিপিএম দলের নানা অনাচার অত্যাচার মানুষের প্রতি নির্বিচারে যে অত্যাচার চলেছে তার তার বিরুদ্ধে ছিল জনাদেশ। একথা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই বাংলার মানুষ সিপিএমের নিষ্পেশনের হাত থেকে মুক্তির উপায় খুঁজছিল। বিকল্প হিসাবে তারা পেয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বাংলার জনরব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়কে সেদিন হেডলাইন করেছিল ‘বাংলা আবার স্বাধীন হলো।’

একথা অস্বীকার করার উপায় নেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা নেত্রী সুতরাং এই রাজ্যের নিম্নবিত্ত পরিবারের মানুষেরা তাঁর কাছ থেকে যে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাবে তা নিয়ে কোন সন্দেহ ছিল না। তবে তিনি বামপন্থী না হয়ে বাম আদর্শকে বাস্তবায়ন করেছেন। রুটি কাপড়া মাকান এই তিনটি প্রধান বিষয়কে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পর গুরুত্ব দিয়েছিলেন। একথা অস্বীকার করার উপায় নেই এখনো পর্যন্ত পশ্চিমবাংলার রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোন বিকল্প নেতা বা নেত্রী নেই।

তবে বাংলার মানুষকে যে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই স্বপ্ন অনেকটাই বাস্তবায়িত হয়েছে। এটা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। তবে সরকারি চাকরি দেওয়ার ক্ষেত্রে যে দুর্নীতি সামনে এসেছে তাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাবমূর্তি অনেকটাই ধাক্কা খেয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মত একজন পোড় খাওয়ার রাজনীতিককের আমলে যে নজির বিহীন ব্যতিক্রমী দুর্নীতি হয়েছে তা নিয়ে কোন কথা বলার মত অবস্থায় আমরা নেই। আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বচ্ছ রাজনীতির কথা বললেও তাঁর ধারে কাছে যারা থাকেন তাঁদের সেই অর্থে স্বচ্ছতা নেই। তবে এ কথা স্বীকার করতেই হবে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের  দলের ৮০ শতাংশ নেতা নানাভাবে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত। এ কথা আমি জোর দিয়ে বলছি এই কারণে যে এ বিষয়ে আমার কাছে যথেষ্ট তথ্য রয়েছে। তবে যে কুড়ি শতাংশ তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা রয়েছেন তাঁদের সততা নিয়ে কোন প্রশ্ন নেই। কিন্তু দুঃখের হলেও সত্য এই সৎ নেতাদের দল গুরুত্ব দেয় না।

ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের সৎ নেতারা দলের মধ্যেই ব্রাত্য হয়েছে এবং এখনো ব্রাত্য হয়ে রয়েছে। শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে যে দুর্নীতি হয়েছে তা এক কথায় নজিরবিহীন এবং এই ঘটনা ঘটতে পারে তা কল্পনাতিত। আক্ষরিক অর্থেই বলতে হয় এটা অকল্পনীয়। এই ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরেও তৃণমূল কংগ্রেস বা মমতার সরকার কারোরই সেই অর্থে টনক নড়েনি বলেই মনে হয়। সম্প্রতি আরেকটি শিক্ষা দফতর মাদ্রাসা শিক্ষা দফতর। এই দফতরের বিভিন্ন অনিয়ম সামনে এসেছে। মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের আইন অনুসারে স্পেশাল গ্রাউন্ডে বদলির কোন সংস্থা নেই । তারপরেও দিনের পর দিন আইনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে নজিরবিহীন ভাবে বদলি করে চলেছে। স্কুল সার্ভিস কমিশনের আইনে যেখানে বলা হয়েছে ২৫ কিলোমিটারের দূরত্বের মধ্যে কোন শিক্ষক শিক্ষকতা করলে তাকে বদলি করা হবে না বা তিনি বদলির আবেদন করতে পারবেন না। রাজ্যে মাত্র ৬ ১৪ টি মাদ্রাসা রয়েছে সরকার অনুমোদিত। এক্ষেত্রে বদলির নিয়ম অনুসারে কিলোমিটার তা বাড়িয়ে দেওয়া যেতে পারতো তা বাড়ানো হয়নি।

ফলে যিনি কুড়ি কিলোমিটারের মধ্যে চাকরি করছেন তিনি যদি স্কুলে চাকরি করতেন তাহলে বদলির আবেদনই করতে পারতেন না কিন্তু মাদ্রাসায় আবেদন করে দিব্যি বাড়ির কাছে পোস্টিং নিচ্ছেন। আর এই অনিয়ম বেআইনি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কোন ব্যক্তি আদালতের দ্বারস্থ হলে আদালতের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় এ বিষয়ে কোনো কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করলে তাকে যখন অরণ্য দেব বলে ব্যঙ্গ করে শাসকদলের কোন নেতা আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন সে বিষয়ে চুপ করে থাকেন তখন সততা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে বইকি!

বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় এখনো পর্যন্ত যে রায় দিয়েছেন সেই রায়ে তিনি কি পক্ষপাতিত্ব করেছেন! তাহলে তাকে কটাক্ষ কেন? শাসক দলের যে নেতারা বিচারপতিকে কটাক্ষ করছেন সেই সব নেতাদের বিরুদ্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নীরব কেন? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন একবারের জন্য আত্মপক্ষ সমর্থন করার কথা বলছেন না, কেন নিজের দলের নেতা-নেত্রীদের আত্মসমালোচনা করতে বলছেন না! শিক্ষক নিয়োগে যে নজির বিহীন দুর্নীতি হয়েছে সেই দুর্নীতির জন্য কেন দলের নেতা মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে আগেই কড়া পদক্ষেপ নিলেন না!

হয়তো তৃণমূল কংগ্রেসের কোন কোন নেতা বলবেন আমরা নাকি বিজেপির হয়ে কথা বলছি। কিন্তু বাস্তব বিষয়টি একটু তলিয়ে দেখুন। বিচার করতে বসুন ,আয়নার সামনে নিজেদের দাঁড় করিয়ে প্রশ্ন করুন। যে দুর্নীতি হয়েছে সেই দুর্নীতি এর আগে কোনদিন কেউ কল্পনা করেছিল। আপনারা ভাবুন আর ভাবতে থাকুন!

তৃণমূল কংগ্রেসের ২৫ তম প্রতিষ্ঠা দিবসের দিন যেদিন সমগ্র রাজ্যজুড়ে ক্ষমতায় থাকার কারণে এই দিনটিকে বিশেষ দিন হিসাবে পালন করা হবে। সেই দিন যদি তৃণমূলের প্রতিটা নেতা কর্মী নিজেদের আত্মসমালোচনা করে ভাবতে থাকেন মানুষের স্বার্থে মানুষের জন্য কতটা কাজ তারা করেছেন তাহলে আমার মনে হয় প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করার সার্থকতা হবে। না হলে সবই মিথ্যে।

জনসমর্থন হারাতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস এ নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। ঘুরে দাঁড়াতে হলে নতুন করে কুড়ি শতাংশ সৎ আদর্শবান তৃণমূলের নেতা নেত্রীদের সামনের সারিতে তুলে আনতে হবে নচেৎ যা হবার হবে এ রাজ্য থেকে সিপিএম প্রায় মুছে গেছে। কংগ্রেস মুছে গেছে, তৃণমূল কংগ্রেস কি বেশিদিন থাকতে পারবে সেটাই এখন বাংলার সাধারন মানুষের প্রশ্ন।

 

 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ