মুর্শিদাবাদের ভরতপুর দু’নম্বর ব্লকের আস্ত একটা পঞ্চায়েতের প্রধানসহ সব সদস্যই পদত্যাগ করলেন ! নেপথ্যে রহস্য কী? জানতে হলে ক্লিক করুন
বাংলার জনরব ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার নামের তালিকায় গরমিল সাধারণ মানুষের মধ্যে জনরোষ প্রবল হয়ে উঠছে এই পরিস্থিতিতে নিজেদেরকে বাঁচাতে শেষ পর্যন্ত গণ ইস্তফা দিয়ে দিলেন আস্ত একটা গ্রাম পঞ্চায়েত। এই ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদের ভরতপুরে।মুর্শিদাবাদের ভরতপুর ২ ব্লকের মালিহাটি কান্দ্রা গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৭ সদস্য শনিবার বিডিওর কাছে ইস্তফাপত্র জমা করেছেন তাঁরা।
স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার তালিকা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে। কান্দি মহকুমার ভরতপুর-২ ব্লকের মালিহাটি কান্দ্রা পঞ্চায়েত এলাকায় তালিকায় ঠাঁই পায়নি বহু উপযুক্ত উপভোক্তা। দেদার দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। যার জেরে জনরোষ বাড়ছে। পঞ্চায়েত প্রধান, উপপ্রধান-সহ ১৭ সদস্যর অভিযোগ, চারপাশে যা হচ্ছে তাতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছন তাঁরা ও তাঁদের পরিবার। যে কোনওদিন জনরোষের শিকার হতে পারেন বলে আশঙ্কা। সেই আশঙ্কায় এদিন কাঁদতে কাঁদতে এবার গণপদত্যাগ করেন মালিহাটি কান্দ্রা পঞ্চায়েতের ১৭ সদস্য। বিডিও অফিসে পদত্যাগপত্র জমা পড়লেও তা এখনও গৃহীত হয়নি।

এ প্রসঙ্গে এদিন পঞ্চায়েত প্রধান সৈয়দ নাসিরুদ্দিন বলেন, “২০১৮ সালে যে সরকারি সার্ভে হয় তার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে এবার। তাতে বহু দুঃস্থ, ঘর না থাকা অর্থাৎ উপযুক্ত উপভোক্তাদের নাম নেই। তালিকায় দুর্নীতি হয়েছে। আবার এমন অনেকের নাম তালিকায় রয়েছে যাদের পাকাবাড়ি রয়েছে। তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার খাতিরে এদিন আমরা গণইস্তফা দিলাম।”
আতঙ্কিত গলায় তিনি আরও জানান, “চারিদিকে যা হচ্ছে তাতে আমাদের পরিবার ও আমাদের উপর আক্রমণ হতে পারে। আমাদের হেনস্তা করা হতে পারে।” পঞ্চায়েত প্রধান আরও জানান, পঞ্চায়েতের সকল সদস্য মিলে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিডিওর কাছে পদত্যাগপত্র জমা করেছেন তাঁরা। যদিও বিরোধীদের অভিযোগ, পিঠ বাঁচাতেই পদত্য়াগ করলেন পঞ্চায়েত সদস্যরা।
ব্লক প্রশাসন সূত্রে খবর, এদিন বিডিওর তরফে জানানো হয়েছে আগামী মঙ্গলবার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হবে। তবে বিরোধীদের দাবি, দুর্নীতির আবহে পিঠ বাঁচাতেই এই গণইস্তফা।
সৌজন্যে ডিজিটাল সংবাদ প্রতিদিন।

