দেশ 

মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নির্দেশে অসমের গোয়ালপাড়ায় বন্ধ হয়ে গেল মিঞা মিউজিয়াম!

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক: অবিভক্ত বাংলার বিভিন্ন প্রান্ত অসমে গিয়েছিল বাঙালি মুসমানদের একটা বিরাট অংশ। যারা মূলত কৃষি কাজ করার জন্য অসম গিয়েছিল। কালের বিবর্তনে এই জনগোষ্ঠী এখন অসমের স্থায়ী বাসিন্দা। সেই ইতিহাসকে নতুন করে তুলে ধরার উদ্যোগ নেয় বর্তমান প্রজন্ম। এই জন্য তারা অসমের (Assam) গোয়ালপাড়ায় গড়ে তোলে মিঞা মিউজিয়াম (Miya museum) । গত রবিবার এই মিউজিয়ামের উদ্বোধন হয়। এর দুইদিন পর মুখ্যমন্ত্রী  হিমন্ত বিশ্ব শর্মার (Himanta Biswa Sarma) তীব্র আপত্তি ও নির্দেশে মঙ্গলবারই গোয়ালপাড়ার সেই মিউজিয়ামে তালা ঝোলাল জেলা প্রশাসন।

প্রশাসনের অভিযোগ, ওই মিঞা মিউজিয়ামটি গড়ে উঠেছিল যে বাড়িতে, সেটি প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ আবাস যোজনার অনুদানে তৈরি। অসমের মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, মিউজিয়ামটি অর্থহীন। সেখানে যা কিছু রয়েছে সবই অসমিয়া জনজাতির পোশাক। “লুঙ্গি ছাড়া ওদের (মিঞাদের) কিছু নেই।”

সোমবার হিমন্ত মন্তব্য করেন, “আমি বুঝতে পারছি না এটা কী ধরনের মিউজিয়াম। অসমিয়াদের লাঙল, মাছ শিকারের জিনিসপত্র রাখা হয়েছে এখানে। একমাত্র লুঙ্গি বাদে ওদের নিজস্ব কিছুই নয়। এখানে নতুন আছেটা কী? ওদের প্রমাণ করতে হবে লাঙল শুধুই মিঞারা ব্যবহার করেন। নাহলে পদক্ষেপ করুক সরকার।” উল্লেখ্য, অসমিয়া মিঞা পরিষদের সভাপতি মোহর আলির বাড়িতে মিঞা মিউজিয়াম গড়ে উঠেছিল। জানা গিয়েছে, মোহর ও তাঁর সঙ্গী আবদুল লতিফ বাতেনের বিরুদ্ধে ইউএপিএ ধারায় মামলা করেছে পুলিশ।

মিঞাদের বিষয়ে আগেও তোপ দেগেছিলেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। এদিন তিনি বলেন, “মিঞা স্কুলের পরে মিঞা মিউজিয়ামও তৈরি হল। তাঁরা কোথা থেকে মিউজিয়াম তৈরির টাকা পেলেন পুলিশ তার তদন্ত করবে।” যদিও ইতিমধ্যে সিল করা হয়েছে গোয়ালপাড়ার মিঞা মিউজিয়ামটিকে। উল্লেখ্য, উনবিংশ শতকে বাংলাদেশ থেকে ব্রহ্মপুত্রের চরে চাষ করতে আসা মানুষের পরবর্তী প্রজন্মকে সাধারণ ভাবে মিঞা বলা হয়। যারা মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ।

 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ