কলকাতা 

নিউটাউন যাত্রাগাছিতে খুদেদের দখলে রাজপথ। বর্ণময় বিশ্ব নবী দিবসের শোভাযাত্রায় ঘরে ঘরে শান্তি সম্প্রীতির বাণী পৌঁছে দেয়ার অঙ্গীকার

শেয়ার করুন

নায়ীমুল হকের প্রতিবেদন: ‘শান্তি-সম্প্রীতি ও সৌভ্রাতৃত্বের বার্তাবাহী তুমি, হে রাসুল। তোমাকে জানাই সালাম।’ বিশ্ব নবী দিবসের প্রভাত ফেরী অনুষ্ঠানে হাজার-হাজার শিশু কিশোরদের এই ধ্বনি মুখরিত করে রেখেছিল কলকাতা নিউটাউনে ঘুনি-যাত্রাগাছির আকাশ বাতাস। অত্যন্ত শৃঙ্খলার সঙ্গে এদিনের শোভাযাত্রায় সমবেত হয়েছিল শিশু-কিশোরদের দল, সঙ্গে ছিল তাদের বড়রাও। ছোটদের-বড়দের হাতে ধরা বর্ণময় সব পোস্টারে প্রিয় রাসূলের (সা) বাণী তো ছিলই, সঙ্গে ছিল পবিত্র কোরআনের আয়াত আর ছিল মনীষীদের কথা।

তবে সম্পূর্ণ শোভাযাত্রা যে নিপুন হাতে নিয়ন্ত্রণ করেছে ঘুনি যাত্রাগাছির যুবকবৃন্দ, তা কোনো প্রশংসাই যথেষ্ট নয়। প্রায় দেড় কিলোমিটার শোভাযাত্রার পথে সবটাতেই দেখা গিয়েছে রাস্তার দু’ধারে পুরুষ মহিলা হাত নাড়তে নাড়তে শিশুদেরকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। যেন তাঁরাও বলতে চেয়েছেন, আমরাও আছি তোমাদের সঙ্গে সুন্দর সমাজ গড়ার এই আহবানে, এগিয়ে চলো হে বীর সেনানি খুদের দলেরা।

এদিন শোভাযাত্রার কিছু দূর অন্তর অন্তর মানুষজন অপেক্ষা করেছে অভ্যর্থনা জানাতে বিস্কুট, চকলেট, শরবত, কেক, পানীয়, কোল্ড-ড্রিংস ইত্যাদি নিয়ে। হিন্দু-মুসলমান এখানে একাকার। সত্যিই বেশ বোঝা যাচ্ছিল আমাদের প্রকৃত সমাজের আসল শক্তি কেমন, কতখানি ঐক্যবদ্ধ! তাঁরা যেন পৌঁছে দিতে চান এই বার্তা, আমাদের সমাজ এরকমই ঐক্যবদ্ধ, বিশ্বাস করি না আমরা ভেদাভেদ-হানাহানিতে।

সব অর্থেই এদিন ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে ১২ রবিউল আউয়াল-এর এই শোভাযাত্রা সম্প্রীতির-বাহক হিসেবে ইতিহাসের পাতায় লেখা হয়ে থাকবে। বারবার মনে পড়বে দানবীর হাজী মোহাম্মদ মহসিন লাইব্রেরির এই উদ্যোগের কথা।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ