কলকাতা 

চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপূজা মন্ডপের ঘটনায় তদন্ত করবে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির কমিশন জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গা পূজার মন্ডপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় কর্মরত বিচারপতিকে দিয়ে তদন্ত করার প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু কলকাতা হাইকোর্ট সেই প্রস্তাব নাকচ করে জানিয়ে দিয়েছে কোন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে দিয়ে এই তদন্ত করাতে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অবসরপ্রাপ্ত কোন বিচারপতিকে দিয়ে তদন্ত কমিশন গঠন করে বিষয়টির তদন্ত করা হবে। চোরবাগানে নিহত চাকদহের আরতি সরকারের বাড়িতে গিয়ে মঙ্গলবার তাঁর আত্মীয়-পরিজনদের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই এ কথা জানান তিনি।

এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা প্রধান বিচারপতিকে চিঠি লিখেছিলাম, এই ঘটনার তদন্তের জন্য কোনও বর্তমান বিচারপতিকে দেওয়া যায় কি না। মুখ্যসচিব আমাকে জানিয়েছেন, অবসরপ্রাপ্ত কোনও বিচারপতিকে দিয়ে কমিটি গঠনের কথা বলেছেন প্রধান বিচারপতি। আমরা অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করছি। আগেই বলেছি, এই কমিটিতে কলকাতা পুলিশ বা কলকাতা পুরসভার কেউ থাকবেন না। নিরপেক্ষ তদন্ত হবে।” তিনি আরও বলেন, “আগের সরকারের আমলে হাঁসখালির ঘটনা হোক বা অন্য কোনও ঘটনা, সিবিআই তদন্ত কিংবা উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবিতে আমাদের আদালতে যেতে হয়েছে। আমি সেই সুযোগ দিইনি। যাঁরা অনুমতি দিয়েছিলেন, তাঁদের কাজে গাফিলতি থাকলে নিশ্চয়ই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

প্রসঙ্গত, এই সংক্রান্ত বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের একটি নির্দেশ রয়েছে। যেখানে উল্লেখ রয়েছে যে, সমকালীন কোনও ঘটনার প্রশাসনিক তদন্তে কোনও কর্মরত বিচারপতি অংশ নিতে পারবেন না। এ ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী চেয়েছিলেন, কলকাতা হাই কোর্টের কোনও বর্তমান বিচারপতি এই তদন্ত কমিশনের নেতৃত্ব দিন। কিন্তু নবান্ন সূত্রে খবর, রাজ্য সরকারের সেই আবেদন ফিরিয়ে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে দিয়ে এই তদন্ত করানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।

উল্লেখ্য, শনিবার সপ্তমীর দিন চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোর মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় নদিয়ার চাকদহের বাসিন্দা আরতি সরকারের। চাকদহ পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নতুনপাড়ার বাসিন্দা রাম সরকার স্ত্রী আরতি এবং শ্যালিকা প্রতিমা প্রামাণিককে নিয়ে ঠাকুর দেখতে কলকাতায় এসেছিলেন। মণ্ডপে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার সময় আচমকা ভিড়ের চাপে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। কোনওক্রমে প্রাণে বাঁচেন রাম সরকার ও প্রতিমা প্রামাণিক। তবে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় আরতির। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে নিহতের বাড়িতে যান চাকদহের বিধায়ক বঙ্কিম ঘোষ এবং হরিণঘাটার বিধায়ক অসীম সরকার। সেখানেই তদন্তের বিষয়ে রাজ্য সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ