জেলা 

শিলিগুড়িতে গরু পাচারকারী সন্দেহে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে দুজনকে খুন করার ২৪ ঘণ্টা কেটে যাওয়ার পরও অধরা দুষ্কৃতীরা

শেয়ার করুন

গরুপাচার করছে সন্দেহে শিলিগুড়িতে দু’জনকে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছে। শনিবারের ওই ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। মৃতদের এক জন চোপড়া এবং অন্য জন হরিয়ানার বাসিন্দা। চোপড়ার বাসিন্দা মৃত শহিদ আখতারের স্ত্রী থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ তার ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে।

অভিযোগ, মাটিগাড়ায় গরুচোর সন্দেহে যখন মারধর চলছিল, তখন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান শহিদ। বাকি চার জন প্রাণে বাঁচতে বাগডোগরার ব্যাঙডুবি সংলগ্ন সেনা ছাউনিতে ঢুকে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেখানে প্রবেশ করার জন্য ওই চার জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে সেনা। তারা ওই চার জনকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিল। পুলিশ ওই চার জনকে হাসপাতালে ভর্তি করায়। সেখানে এক জনের মৃত্যু হয়। বাকি তিন জনের চিকিৎসা চলছে।

স্থানীয়দের দাবি, শিলিগুড়ি সংলগ্ন নকশালবাড়ি, বাগডোগরা ও মাটিগাড়া এলাকায় বেশ কিছু দিন ধরে রাতে দামি গাড়িতে করে গবাদিপশু পাচার করা হচ্ছিল। অভিযোগ, শুক্রবার গভীর রাতে একটি পিকআপ ভ্যান ও একটি চারচাকা গাড়ি তারাবাড়ি এলাকায় প্রবেশ করে। দেখামাত্রই গ্রামবাসীরা গাড়ি দু’টি ঘিরে ফেলেন। সেখানে শুরু হয় গণপ্রহার। অভিযোগ, প্রথমে পিকআপ ভ্যানটিকে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। পিকআপ ভ্যানের চালক শহিদ আখতারকে ব্যাপক মারধর করা হয়। অভিযোগ, বড় পাথর দিয়ে তাঁর মাথা থেঁতলে দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। মৃত শহিদ উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়ার বাসিন্দা।

ছোট চারচাকা গাড়িতে আরও চার জন ছিলেন বলে খবর। তাঁরা পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সেখানেই গাড়ি ফেলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। গাড়িটিতে ভাঙচুর করে তাঁদের পিছু নেয় জনতা। চার জন তারাবাড়ি এলাকা থেকে দৌড়ে বাগডোগরা ধিমাল বস্তি এলাকায় পৌঁছোন। সেখানেই তাঁদের ধরে ফেলা হয় বলে অভিযোগ। ব্যাপক মারধর চলে সেখানে। মাটিগাড়া তারাবাড়ি এলাকা থেকে পালিয়ে ওই চার জন সোজা পৌঁছে যান বাগডোগরার ব্যাঙডুবি সংলগ্ন সেনা ছাউনিতে। অভিযোগ, সেনা ছাউনিতে ঢুকে পড়েন তাঁরা। পুলিশ সূত্রে খবর, সেই চারজনের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে তাঁদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিশ তাঁদের চিকিৎসার জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠায়। সেখানেই আরও এক জনের মৃত্যু হয়। তাঁর নাম শাদ মহম্মদ। গাড়িতে সওয়ার আমির, শাদ, আরিফ খান এবং আক্রম হরিয়ানার বাসিন্দা।

ঘটনার খবর পেয়ে শনিবার বিকেলে শিলিগুড়িতে উপস্থিত হন চোপড়ার বাসিন্দা শহিদের স্ত্রী। ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘‘প্রায় বছর দশেক ধরে শাহিদ গরু ও মহিষের লাইন ম্যানের কাজ করতেন৷ গরুর ব্যবসা করেন। প্রতিদিনের মতো শুক্রবার রাতে পিকআপ ভ্যান নিয়ে বের হয়েছিলেন। শনিবার সকালে একটি ফোন মারফত খবর পাই তাঁকে মেরে ফেলা হয়েছে৷’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘হাত পা ভেঙে দিত, কিন্তু একেবারে মেরে খতম করে দিল আমার স্বামীকে। দুই মেয়ে এক ছেলে আমার। গ্রামবাসীরা এটা উচিত কাজ করেনি। পুলিশের হাতে তুলে দিত। পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েছি, এই খুনের বিচার চাই৷’’

শিলিগুড়ি কমিশনারেটের এসিপি (পূর্ব) অনির্বাণ মজুমদার বলেন, ‘‘শহিদ আখতারের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে। এখনও কেউ গ্রেফতার হয়নি। অনেকটা বড় এবং প্রান্তিক এলাকা জুড়ে ঘটনা। মাটিগাড়ার তারাবাড়িতে শুরু হয়ে বাগডোগরা ও পানিঘাটা আউটপোস্ট এলাকায় গিয়ে শেষ হয়েছে। তদন্ত চলছে।’’


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ