কমিশন আইন না-মেনে কোনও সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকলে তা বাতিল করব: জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে মামলা শুনে পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে মামলায় এ বার কেন্দ্র এবং নির্বাচন কমিশনকে নোটিস পাঠাল সুপ্রিম কোর্ট। এক সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে তাদের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, কমিশন যদি আইনানুগ ভাবে কোনও সিদ্ধান্ত না নিয়ে থাকে, তবে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেওয়া হবে। তবে আদালত এ-ও জানিয়েছে, তারা ধরে নিচ্ছে কমিশন আইন মেনে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশের নেতৃত্বে কমিশন যে ভাবে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, সেই পদ্ধতিকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। মামলাগুলির সুরাহা না-হওয়া পর্যন্ত জ্ঞানেশকে সাসপেন্ডের আর্জিতেও একটি জনস্বার্থ মামলা রুজু হয়। এসআইআর পর্বে প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার ঘটনা খতিয়ে দেখতে একটি বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিশন কিংবা একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠনেরও আর্জি জানানো হয় আদালতে। এই সংক্রান্ত মামলাগুলি সোমবার শুনানির জন্য ওঠে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে। তদন্তের আর্জির প্রেক্ষিতে কেন্দ্রের বক্তব্য জানতে চেয়েছে আদালত।
ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তি উপেক্ষা করে এসআইআর সংক্রান্ত একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ওই প্রতিবেদন ঘিরে তোলপাড় হচ্ছে জাতীয় রাজনীতি। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ধারাবাহিক ভাবে বিক্ষোভ চলছে জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে। তবে সোমবার সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, কোনও সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত কোনও নির্দেশ দিতে পারে না।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, “কোনও সংবাদপত্রের প্রতিবেদন ১০০ শতাংশ ঠিকও হতে পারে, আবার আংশিক ঠিকও হতে পারে, আবার ভুলও হতে পারে। আমরা এর ভিত্তিতে কোনও নির্দেশ দিতে পারি না। আমরা অবশ্যই তাদের (কমিশনের) জবাব চাইব। যদি আমরা দেখি যে কোনও ক্ষেত্রে আইন মানা হয়নি, তাহলে আমরা তা বাতিল করে দিতে পারি।”
জ্ঞানেশকে সাসপেন্ড করার যে আবেদন জানানো হয়েছে, তা নিয়েও এ দিন কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয়নি আদালত। এ দিন প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ কমিশনকে নোটিস পাঠানোর নির্দেশ দিয়ে বলে, “নোটিসের পরে যদি দেখা যায় কোনও সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে নেওয়া হয়নি, তবে আমরা সেই সিদ্ধান্তগুলি প্রত্যাহার করে নেব। সব সিদ্ধান্তই একতরফা ভাবে নেওয়া হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায় না।”
সংবিধানের ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদে নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক কাঠামোর কথা বলা হয়েছে। তিন সদস্যের কমিশনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার রয়েছেন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ‘সমমর্যাদার মধ্যে প্রথম’ হিসেবে বর্ণনা করা হলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাঁকে একক ক্ষমতা দেওয়া হয়নি।

