বাড়ি থেকে নগদ উদ্ধারের ঘটনায় ‘দোষী’ চিহ্নিত হলেন প্রাক্তন বিচারপতি যশবন্ত বর্মা!
বাড়ি থেকে নগদ উদ্ধারের ঘটনায় ‘দোষী’ বলে চিহ্নিত হলেন দিল্লি হাই কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি যশবন্ত বর্মা। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ‘প্রমাণিত’ বলে জানিয়েছে লোকসভা গঠিত তদন্ত কমিটি।
তবে ওই টাকার মালিক যে প্রাক্তন বিচারপতি বর্মাই— এমন কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছোতে পারেনি লোকসভা গঠিত কমিটি। তাদের পর্যবেক্ষণ, প্রাক্তন বিচারপতির বাসভবন চত্বর থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ পাওয়া গিয়েছে। সেই টাকা কোথা থেকে এল, তার উৎস কী— সে বিষয়ে কোনও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি প্রাক্তন বিচারপতি।
গত বছরের মার্চে দিল্লি হাই কোর্টের তৎকালীন বিচারপতি বর্মার বাসভবন থেকে উদ্ধার হয় পোড়া নোটের বান্ডিল। তাঁর বাসভবনের গুদামঘরে আগুন লেগেছিল। সেই আগুন নেবাতে গিয়েই দমকলকর্মীরা ওই নগদের খোঁজ পান। তা নিয়ে গোটা দেশে তোলপাড় পড়ে যায়। তৎকালীন বিচারপতি বর্মার বাসভবনে এত নগদ এল কোথা থাকে, কী তার উৎস, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে বিভিন্ন মহলে। তাঁকে বিচারপতির পদ থেকে সরাতে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবের প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে যায়। এরই মধ্যে চার মাস আগে, গত ৯ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দেন তিনি। তখন তিনি ছিলেন ইলাহাবাদ হাই কোর্টে।
প্রাক্তন বিচারপতি বর্মার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রেক্ষিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। বুধবার সেই কমিটির রিপোর্ট জমা পড়েছে। তদন্ত কমিটি তাদের রিপোর্টে প্রাক্তন বিচারপতিকে ‘দোষী’ বলে চিহ্নিত করেছে। তদন্ত কমিটি আরও জানিয়েছে, গুদামঘর থেকে পাওয়া নগদের উৎস এবং মালিকানা সম্পর্কে কোনও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি তিনি। প্রাক্তন বিচারপতির ব্যাখ্যা অস্পষ্ট বলেও জানিয়েছে লোকসভার তদন্ত কমিটি।
নগদ উদ্ধারের পরবর্তী তদন্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কমিটি। রিপোর্টে তারা জানিয়েছে, ঘটনাস্থলের তথ্যপ্রমাণ যথাযথ ভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সেটি সিল করার আগেই গুদামঘর ওলটপালট করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সেখানে আর কোনও নোট কেন দেখা যায়নি, সেই ব্যাখ্যাও মেলেনি বলে জানাচ্ছে কমিটি।
তদন্ত কমিটি রিপোর্টে উল্লেখ করেছে, অগ্নিকাণ্ডের পরে গুদামঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার সময়ে গুদামের কাছাকাছিই ছিলেন তৎকালীন বিচারপতি বর্মার ব্যক্তিগত সচিব রাজেন্দর সিংহ কার্কী এবং তাঁর বাসভবনের কর্মী মহম্মদ রাহিল। তবে তা থেকে এমন কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছোনো যায়নি যে প্রাক্তন বিচারপতি নিজেই ওই টাকা সরিয়ে ফেলেছিলেন।

