শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ, গতকাল রাহুলের উপর পুলিশের আক্রমণ, দেশ জুড়ে আন্দোলনের পথে সাধারণ মানুষ, বিদেশেও চলছে বিক্ষোভ, শুধু শিক্ষা মন্ত্রী নয় প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগের দাবি করল কংগ্রেস
হাসপাতালে এখনও অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষাবিদ তথা সমাজসৈনিক সোনম ওয়াংচুক। আর যন্তর মন্তর ছাড়তে নারাজ ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। বুধবার সকাল থেকেই যন্তর মন্তরে ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। তাঁদের দাবি এখন একটাই— কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা! শুধু ভারতে নয়, এই আন্দোলনের আঁচ গিয়ে পড়ল নিউ ইয়র্ক, লন্ডনেও। ওয়াংচুকের সমর্থনে বিক্ষোভ হয়েছে দুই শহরেও।
নিটে প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদে সোমবার সিজেপি-র সংসদ অভিযানকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল দিল্লি। পুলিশের লাঠি-কাঁদানে গ্যাসের বাধা কাটিয়ে সোমবার দুপুরে সংসদ ভবনের কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন বিক্ষোভকারীরা। তবে শেষপর্যন্ত সংসদে পৌঁছোতে পারেননি তাঁরা। সিজেপি এবং বিরোধী নেতৃত্বের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে দমনমূলক আচরণ করেছে পুলিশ। সেই আচরণের প্রতিবাদে মঙ্গলবার পথে নামেন রাহুল, প্রিয়ঙ্কা গাঁধী, উদ্ধব ঠাকরেরা। মঙ্গলবার মোদীর বাসভবনে কংগ্রেসের বিক্ষোভ, পরে রাহুলদের আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া, রাতে পুলিশকে লক্ষ্য করে যন্তর মন্তরে ইট, পাথর ছোড়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার পারদ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। অন্য দিকে, বিজেপি বিরোধী জোটও পথে নেমেছে। দিল্লিতে ছাত্র-যুবদের মিছিলে লাঠি, কাঁদানে গ্যাস নিয়ে ‘পুলিশি হামলা’র প্রতিবাদে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলোর সামনে ধর্নায় বসেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গাঁধী। আটক থাকা অবস্থায় সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবিও জানান তিনি। এই বিক্ষোভ সরকারের কাছে ‘আউট অফ সিলেবাস’ বলে কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র।
এই আবহেই লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল কেন্দ্রের কাছে পাঁচ দফা দাবিও জানিয়েছেন। আটক থাকাকালীনই একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেন রাহুল। শুধু ধর্মেন্দ্র নন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহেরও ইস্তফার দাবি তুলেছেন কংগ্রেস নেতা। এ ছাড়াও তাঁর দাবি, সোমবার বিক্ষোভকারীদের উপর ‘হামলাকারী’ পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর প্রত্যাহার করতে হবে। পাশাপাশি, পুলিশি অত্যাচারের দায় স্বীকার করে মোদী সরকারের ক্ষমাপ্রার্থনা, সংসদে শাহের বিবৃতি এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতি নিয়ে সংসদের বাদল অধিবেশনে আলোচনার দাবি জানান কংগ্রেস নেতৃত্ব। ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে ‘আরশোলাদের’ পাশে দাঁড়ানোর কথা বলেছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তার পরের দিনই ছাত্র-যুবদের মিছিলে ‘পুলিশি হামলা’ নিয়ে আলোচনা চেয়ে নোটিস দিলেন রাজ্যসভায় তৃণমূলের মুখ্যসচেতক নাদিমূল হক।

প্রথম থেকেই সিজেপি-র আন্দোলনের পাশে রয়েছেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। যন্তর মন্তরে গিয়ে ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখাও করে এসেছিলেন তিনি। মঙ্গলবারও তাঁকে দিল্লির রাস্তায় প্রতিবাদে যোগ দিতে দেখা গিয়েছে। বুধবার সকালে নিজের সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়োবার্তা পোস্ট করেন মহুয়া। কৃষ্ণনগরের সাংসদের মতে, সরকার যতই চেষ্টা করুক, বিক্ষোভকারীরা যন্তর মন্তর ছাড়ছেন না। এই বিক্ষোভ সরকারের কাছে ‘আউট অফ সিলেবাস’ বলেও কটাক্ষ করেন মহুয়া। তাঁর দাবি, ‘‘মোদী, শাহেরা জানেন না, কী ভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়। তাঁরা শুধু জানেন যাঁরা ভয় পান, তাঁদের সামলাতে।’’ অন্য দিকে, সিজেপি-র প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস দাবি করেছেন, তাঁর হোয়াট্সঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ‘ব্লক’ করা হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, ‘‘মেটা কি পারবে সিজেপি-র অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতে?’’

