বাজেট অধিবেশনের মাধ্যমে শহর কলকাতায় উন্নয়নের বার্তা তুলে ধরেছেন খোদ মেয়র
স্মৃতি সামন্ত,কলকাতা : শহর কলকাতায় জল ব্যবহারের জন্য পূর্ব কলকাতায় ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। ভারতবর্ষের কোনও শহরে এই পরিষেবা নেই।মঙ্গলবার কলকাতা পুরসভার বাজেট অধিবেশনের শেষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই কথা জানান মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তিনি এই প্রসঙ্গে আরও বলেন, ইএম বাইপাসে এই প্রকল্পের জন্য ২৮৯ কোটি টাকা খরচ হয়েছে।গড়িয়া ঢালাই ব্রিজের কাছে আরো একটি প্রকল্প গড়ে তোলা হচ্ছে। ডিপ টিউবওয়েল থেকে বেশ কিছু জায়গায় জল ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছিল পুরসভার গত মাসিক অধিবেশনে। তা বন্ধ করার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে রাজ্য সরকার ৭৫ শতাংশ ও কেন্দ্র ২৫ শতাংশ অর্থ প্রদান করে থাকে।এদিন মেয়র ফিরহাদ হাকিম আরও বলেন, অনেকে ধারাভি বস্তি নিয়ে কথা বলেছেন। সেখানে জয়েন্ট ভেঞ্চারে উন্নয়নের কাজ হয়েছে। আদানি গোষ্ঠীর জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বস্তি উন্নয়নের যে পদক্ষেপগুলি গ্রহণ করেছে তা দেখে আসুন বলে মন্তব্য করেন তিনি। উত্তরণ প্রকল্পে বাংলার বাড়ির মাধ্যমে ২১ কোটি টাকা খরচ করে ৩২৩টি বাড়ি গড়ে তোলা হয়েছে।আরও বাড়ি তৈরি হচ্ছে, যেখানে ১৬৪.৭৩ কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। বস্তিবাসীদের বাড়ি তৈরি করে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন জায়গায় জমি দেখা হচ্ছে।মেয়র এদিন আরও বলেন, ৮৩৫টি বেআইনি বাড়ি ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। বিরোধীরা সমালোচনা করতেই ব্যস্ত, তারা কোনও সঠিক পরামর্শ দিতে পারছে না। চন্দন মরা যতটা সম্ভব জলাভূমিকে সুরক্ষিত রাখার জন্য উদ্যোগ নিয়েছি।
গ্রীন এন্ড ক্লিন সিটি এবং কেন্দ্রীয় সরকার স্বরাষ্ট্র দপ্তর থেকে সবথেকে সেফেস্ট সিটি হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়েছে কলকাতা পৌরসভাকে

বিরোধীরা বাজেটের প্রশংসা করায় মেয়র বলেন, আমাদের প্রশংসা বিরোধীদের করতেই হবে। কলকাতা আগে কি ছিল আর এখন কি হয়েছে, তা আমাদের কাজের মাধ্যমেই প্রতিফলিত হবে। মঙ্গলবার বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষ বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, কলকাতা ও দিল্লির বায়ু দূষণের মধ্যে কোনও তফাত নেই।কলকাতায় দূষণ ক্রমাগত বেড়ে চলেছে, কিন্তু সে ব্যাপারে উদাসীন রাজ্য সরকার ও পুরসভা। ১০০ দিনের কর্মী, চুক্তিভিত্তিক কর্মীরা যে টাকা পাচ্ছে, তাতে তাদের সংসার চলছে না।বেআইনি নির্মাণের কথা বলা হচ্ছে, গার্ডেনরিচে গেলে দেখা যাবে কত বেআইনি নির্মাণ হয়েছে। সেই বেআইনি নির্মাণ ভেঙ্গে ফেলার জন্য কলকাতা পুরসভার তরফ থেকে কোনও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। তৃণমূল কাউন্সিলার সজল ঘোষ এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান।

