স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্কে জেনেই বন্ধুর হাতে খুন! পূর্ব বর্ধমানের ঘটনায় চাঞ্চল্য !
বাংলার জনরব ডেস্ক : বন্ধুর হাতে খুন হলেন বর্ধমানের এক যুবক। তিনি পেশাই স্বর্গ শিল্পী বাড়ি এসেছিলেন চেন্নাই থেকে। কয়েকদিনের মধ্যেই তিনি চেন্নাই ফিরে যেতেন। শোনা যাচ্ছে মৃত শফিকুল ইসলাম এর স্ত্রীর সঙ্গে তার বন্ধু মমতাজ উদ্দিন শেখ ওরফে উজ্জলের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল বা অবৈধ সম্পর্ক ছিল বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জেরেই খুন বলে শফিকুলের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের দেওয়ানদিঘী থানায় এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতের নাম সফিকুল ইসলাম আনসারি ওরফে আরিফ। বয়স ৪৪ বছর। দেওয়ানদিঘির বাসিন্দা আরিফ রবিবার সকালে স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা এবং কন্যাকে নিয়ে মিলিকপাড়ায় বন্ধু মমতাজউদ্দিন শেখ ওরফে উজ্জ্বলের বাড়িতে নিমন্ত্রণরক্ষা করতে গিয়েছিলেন। সন্ধ্যায় মিলিকপাড়ার সেচখাল থেকে আরিফের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের পরে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অর্ক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ভারী কোনও বস্তুর আঘাতে আরিফের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ছেলেকে খুন করা হয়েছে বলে পুত্রবধূর দিকে আঙুল তোলেন আরিফের মা মাস্তন্নিসা আনসারি।

চেন্নাইয়ে একটি সোনার দোকানে কাজ করতেন আরিফ। মাসখানেক আগে বাড়ি ফেরেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আবার তাঁর চেন্নাই ফেরার কথা। ট্রেনের টিকিটও কাটা ছিল। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে যাত্রা বাতিল করেছিলেন বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে। স্ত্রীর সঙ্গে বন্ধুর ঘনিষ্ঠতা জানার পরে এই সিদ্ধান্ত কি না, তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
এ পর্যন্ত যা তথ্য পাওয়া গিয়েছে, তাতে জানা গিয়েছে, বন্ধুর স্ত্রীর সঙ্গে পরিকল্পনা করেই সপরিবার তাঁদের বাড়িতে নিমন্ত্রণ করেছিলেন উজ্জ্বল। সন্ধ্যায় একটি জিনিস কেনার কথা বলে বন্ধুকে নিয়ে বাড়ি থেকে বার হন উজ্জ্বল। তার পরে সেচখালের ধারে নির্জন জায়গা দেখে বন্ধুকে তিনি খুন করেন বলে অভিযোগ।
পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মৃতের স্ত্রী এবং বন্ধুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উজ্জ্বলও বিবাহিত। পেশায় ব্যবসায়ী তিনি। ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারী আধিকারিকেরা।

