কলকাতা 

আর জি কর দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত ডেপুটি সুপার আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে ফিরে এলেন? রহস্য?

শেয়ার করুন

শেষমেশ আদালতে হাজির হলেন আরজি করের প্রাক্তন ডেপুটি সুপার আখতার আলি। হাওড়ার হাসপাতাল থেকে শনিবার কলকাতার আলিপুরে সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতে গিয়েছেন সরকারি হাসপাতালে দুর্নীতিতে অভিযুক্ত প্রাক্তন ডেপুটি সুপার। শুক্রবার তাঁর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করেছিল আদালত। আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছিল। ঘটনাক্রমে শনিবার আদালতে হাজির হন আখতার। যদিও শেষমেশ আত্মসমর্পণ করা হয়নি। আবার সোমবার আত্মসমর্পণ করবেন বলে জানান তিনি।

পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেছেন আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা করা আখতার। আদালতে ঢোকার সময়ে তিনি বলেন, ‘‘যে টাকা নেওয়ার অভিযোগ করা হচ্ছে, সেটা দাদার চিকিৎসা জন্য ধার নিয়েছিলাম। এখন চক্রান্ত করে ফাঁসানো হচ্ছে।’’ তবে শনিবার হাসপাতাল থেকে আদালতে গেলেও সঙ্গে আইনজীবী নিয়ে যাননি আখতার। আগে থেকে আদালতকেও জানাননি। শনিবার আদালত সাড়ে ১২টার মধ্যে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তাই আত্মসমর্পণ না করে ফিরে যান প্রাক্তন সরকারি আধিকারিক।

Advertisement

তিনি বলেন, ‘‘আমি এখনও অসুস্থ। হাসপাতালে ছিলাম। মোবাইল সঙ্গে ছিল না। তাই আদালত আজ বন্ধ থাকবে জানা ছিল না। আমি এসেছি। কিন্তু ‘ব্যাড লাক।’ আদালত থেকে বলা হয়েছে সোমবার আত্মসমর্পণ করতে। সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ করব। আমার যদি কপাল খারাপ হয় গ্রেফতার করবে বলে, যদি টেনে নিয়ে আসে, তা-ই হবে।’’

উল্লেখ্য, আরজি করে চিকিৎসক-ছাত্রীর ধর্ষণ এবং খুনের সময় উঠে আসে আর্থিক দুর্নীতি সংক্রান্ত অভিযোগ। সেই সময় ওই মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ সন্দীপের বিরুদ্ধে আর্থিক কেলেঙ্কারি-সহ নানা অভিযোগ করেন তৎকালীন ডেপুটি সুপার আখতার। উচ্চ আদালতে মামলাও হয়। এই মামলার তদন্তভার যায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই)-এর হাতে। তদন্ত এগোনোর পরে দেখা যায়, দুর্নীতি নিয়ে সরব হওয়া আখতার নিজেও আর্থিক কেলেঙ্কারিতে যুক্ত। তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা পড়েছে আদালতে। কিন্তু একাধিক সমন সত্ত্বেও আদালতে হাজিরা দেননি আরজি করের প্রাক্তন ডেপুটি সুপার।  ভর্তি করানো হয় আখতারকে। জানা যায়, কোমরের ব্যথায় তিনি কাবু। চিকিৎসকেরা বিশ্রাম নিতে পরামর্শ দিয়েছেন। হাসপাতাল থেকে আখতার দাবি করেন, তিনি কোনও দুর্নীতিতে যুক্ত নন। তাঁকে ফাঁসানো হচ্ছে। কারণ, সরকারি মেডিক্যাল কলেজের দুর্নীতিবাজদের মুখোশ খুলে দিয়েছেন তিনি। শনিবারও একই দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘‘আমি নির্দোষ। আরজি করে ধর্ষণ-খুন হয়েছিল ২০২৪ সালে। আর সন্দীপ ঘোষ অধ্যক্ষ হয়েছিলেন ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। আমার দাদা অসুস্থ ছিলেন ২০২০ সালে। সেই সময় অসুস্থ দাদার চিকিৎসার জন্য টাকা ধার নিয়েছিলাম। দাদাকে বাঁচাতে পারিনি। এখন সেই সব টেনে দুর্নীতিতে অভিযুক্ত বলা হচ্ছে।’’

তবে হাসপাতাল থেকে আদালতে গেলেও সঙ্গে আইনজীবী নিয়ে যাননি আখতার। আগে থেকে আদালতকেও জানাননি। শনিবার আদালত ১২টার মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়। তাই আত্মসমর্পণ না করেই ফিরে যান প্রাক্তন সরকারি আধিকারিক। তিনি বলেন, ‘‘আমি এখনও অসুস্থ। হাসপাতালে ছিলাম। মোবাইল সঙ্গে ছিল না। তাই আদালত আজ বন্ধ থাকবে জানা ছিল না। আদালত থেকে বলা হয়েছে সোমবার আত্মসমর্পণ করতে। সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ করব।’’


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ