দক্ষিণ ২৪ পরগণার ঢোলাহাটে অনুষ্ঠিত হল এসডিপিআই-এর রক্তদান শিবির ও সপ্তম বৈষম্যবিরোধী সমাবেশ
১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ঢোলাহাট: রাষ্ট্রব্যবস্থার মধ্যে ক্রমে বৃহত্তর আকার ধারণ করা সকল প্রকার বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম জোরদার করে একটি সুন্দর রাজ্য ও রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে লাগাতার বৈষম্যবিরোধী সমাবেশ করে চলেছে সোস্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এসডিপিআই)। সেই ধারাবাহিকতায় আজ দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার ঢোলাহাট বিধানসভা এলাকার মাদারপাড়া হাই মাদ্রাসা ময়দানে অনুষ্ঠিত হল দলের সপ্তম বৈষম্যবিরোধী সমাবেশ ও এক মহতী রক্তদান শিবির।
দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা করেন এসডিপিআই দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলা সভাপতি সাহাজাদা মোল্লা। এদিন মোট ১৪১ জন স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন। জেলা কমিটির পক্ষ থেকে রক্তদাতাদের পুরস্কৃত করা হয়। পাশাপাশি স্থানীয় দুঃস্থ মানুষদের মধ্যে বস্ত্র ও কম্বল বিতরণ করা হয়। শিবিরে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ইসিজি পরিষেবাও প্রদান করা হয়।

সমাবেশে বৈষম্যের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে এসডিপিআই রাজ্য সভাপতি হাকিকুল ইসলাম রাজ্যের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার করুণ অবস্থার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের মাধ্যমেই রাজ্যের অভ্যন্তরীণ শক্তিকে দুর্বল করে দিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার।” বিশেষ করে বাঙালি মুসলিম সমাজের আর্থ-সামাজিক অবক্ষয়ের জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই দায়ী করেন তিনি।
হাকিকুল ইসলাম স্মরণ করান, মাদ্রাসা তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এলেও রাজ্য সরকার আজও আন-অ্যাডেড মাদ্রাসাগুলিতে মিড-ডে মিল চালু করেনি, অথচ কুকুরকে মিড-ডে মিল খাওয়ানোর নির্দেশ জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি ওবিসি শংসাপত্র বাতিল ও পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি অভিযোগ করেন, “মুসলিম সমাজকে কুকুরের থেকেও নিকৃষ্টভাবে দেখছে বর্তমান সরকার।” তাঁর বক্তব্য, সমাজ থেকে সকল প্রকার বৈষম্য দূর করতে হলে তৃণমূল কংগ্রেসকে পরাজিত করে এসডিপিআই-কে ক্ষমতায় আনতে হবে। তিনি জোরালো আহ্বান জানান—“কাগজ সংশোধনের নয়, সরকার সংশোধনের সময় এসেছে।”
এছাড়াও তিনি বিজেপি ও তৃণমূল বিরোধী সকল রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামার আহ্বান জানান।
এসআইআর সংক্রান্ত তথ্য ও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন এই সকল ঘটনার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই সূচনা লগ্নে দায়ী হিসেবে চিহ্নিত করেন।
পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর ধারাবাহিক নির্যাতন ও হত্যার ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে রাজ্য সরকারের নিষ্ক্রিয় ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিশিষ্ট সমাজকর্মী হোসেন গাজী। তিনি এসডিপিআই-এর রাজনৈতিক শক্তিকে আরও মজবুত করার আহ্বান জানান।
এসডিপিআই-এর নীতি, আদর্শ ও কর্মপদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন দলের মহিলা শাখা ওমেন ইন্ডিয়া মুভমেন্ট-এর জাতীয় সভাপতি ইয়াসমিন ইসলাম। তিনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন, “এসডিপিআই কখনও ফ্যাসিবাদী শক্তির সামনে মাথা নত করবে না। বৈষম্যের বিরুদ্ধে এবং বিজেপি-আরএসএসের বিরুদ্ধে আপোষহীন সংগ্রাম প্রথম সারিতে থেকেই চালিয়ে যাবে।”
মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন এসডিপিআই রাজ্য কোষাধ্যক্ষ মো. আফতাব আলম, কলকাতা জেলা সাধারণ সম্পাদক আখতার হোসেন, দক্ষিণ মুর্শিদাবাদ জেলা সাধারণ সম্পাদক মনিরুল মোল্লা সহ দলের অন্যান্য জেলা ও স্থানীয় নেতৃত্ব।

