জেলা 

অমর্ত্য সেনকে শুনানির নোটিশ পাঠাল নির্বাচন কমিশন, বাঙালি বলে হেনস্থা অভিযোগ তৃণমুলের

শেয়ার করুন

তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবির অনতিবিলম্বে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও)-এর দফতর জানিয়েছিল অমর্ত্য সেনের বাড়িতে এসআইআরের শুনানি সংক্রান্ত নোটিস পাঠানো হয়নি। কিন্তু বুধবার সকালে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদের শান্তিনিকেতনের বাসভবন ‘প্রতীচী’তে গিয়ে নোটিস দিয়ে গেলেন সংশ্লিষ্ট এলাকার বিএলও। অমর্ত্যের আত্মীয় এবং ঘনিষ্ঠদের অভিযোগ, শুধুমাত্র হয়রানির জন্য এই নোটিস! আর তৃণমূলের খোঁচা, প্রমাণ হল তাদের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ১০০ শতাংশ নিশ্চিত হয়ে তবেই তথ্য দিয়েছেন। কমিশন শেষ পর্যন্ত লুকোতে পারল না। আর বিশ্ববরেণ্য অর্থনীতিবিদ বাঙালি বলেই তাঁকে হয়রানির চেষ্টা করা হচ্ছে।

বুধবার সকালে অমর্ত্যের বাড়িতে যান সংশ্লিষ্ট এলাকার বিএলও সোমব্রত মুখোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে আরও দু’জন ছিলেন। অর্থনীতিবিদের আত্মীয় শান্তভানু সেন জানান, আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা করে তাঁরা নোটিস গ্রহণ করেছেন।

ওই নোটিসে লেখা হয়েছে, প্রবাসী ভারতীয় অমর্ত্যের গণনাপত্রে কিছু তথ্যগত ভুল রয়েছে। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, তাঁর সঙ্গে বাবা অথবা মায়ের বয়সের পার্থক্য ১৫ বছর। যা ‘সাধারণত প্রত্যাশিত নয়।’ তাই এসআইআরের ভোটার তালিকার প্রেক্ষিতে নথিপত্রের মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট করা প্রয়োজন। এ জন্য আগামী ১৬ জানুয়ারি দুপুর ১২টায় অমর্ত্যের বাড়িতে গিয়ে শুনানি করা হবে। তার মধ্যে যাবতীয় প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করে রাখতে বলা হয়েছে।

বোলপুর ২ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার অমর্ত্য কর্মসূত্রে বছরের বেশির ভাগ সময়েই ভারতের বাইরে থাকেন। তাঁকে এসআইআরের নোটিস পাঠানোর পরে শান্তভানু বলেন, ‘‘সকলে জানেন অমর্ত্য সেনকে। এত বয়স্ক একজন মানুষকে শুধু শুধু হ্যারাস (হয়রানি) করার চেষ্টা। আর কী বলব! আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে নোটিস রিসিভ (গ্রহণ) করেছি।’’

মঙ্গলবার বীরভূমের রামপুরহাটে সভা ছিল অভিষেকের। সেখানে তিনি দাবি করেন, নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদকে এসআইআরের নোটিস পাঠিয়েছে কমিশন। তার কিছু ক্ষণ পরেই কমিশনের তরফে জানানো হয়েছিল, অমর্ত্যের পূরণ করা এসআইআর ফর্মে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি (তথ্যগত ভুল) রয়েছে। তাঁকে শুনানির জন্য ডেকে পাঠানো হয়নি। বুধবার ‘প্রতীচী’তে গিয়ে বিএলও নোটিস দিয়ে যাওয়ার পরে সমাজমাধ্যমে তৃণমূলের খোঁচা, ‘‘একজন নোবেলজয়ীকে সন্দেহের ঊর্ধ্বে রাখা উচিত। তাই না? কিন্তু যদি তিনি বাঙালি হন? তা হলে তাঁকে শুনানির নোটিস দিতেই হবে। যেন তিনিও কোনও অপরাধী।’’

একত্রে বিজেপি এবং কমিশনকে বিঁধে তৃণমূলের বক্তব্য, এসআইআর প্রক্রিয়াটাই প্রহসনে পর্যবসিত হয়েছে। সমাজের বিশিষ্টদেরও কাদার মধ্যে ফেলা হচ্ছে।

 

 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ