কলকাতা 

ছেলের বিচার চেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষার পর ৮১ বছর বয়সে পৃথিবীর ছেড়ে চলে গেলেন রিজওয়ানুর রহমানের কিসওয়ার জাহান

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : ছেলের রহস্য মৃত্যুর দাবি জানিয়ে ছিলেন। দেখা হলেই বলতেন আমার ছেলে ইনসাফ পাবে তো? কিন্তু ছেলের ইনসাফ সময়ের বিচারে ১৮ বছর কেটে গেলেও বিচার পায়নি। ৬২ বছরের মা কিসওয়ার জাহান ছেলের মৃত্যু দেখেছিলেন তারপর কেটে গেছে ১৮ টা বছর বৃদ্ধ থেকে অতি বৃদ্ধ হয়েছেন শেষ পর্যন্ত ৮১ বছর বয়সে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন নিজের ছেলের বিচার না দেখেই। পরিবারের সুত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত ৮ঃ০০ টায় হৃদরোগে আক্রান্ত হন কিসওয়ার জাহান। মৃত্যুর সময় পাশে ছিলেন বড় ছেলে রুকবানুর রহমান । তাঁর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরেই কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে তাঁদের পার্ক সার্কাসের বাড়িতে পাঠান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । কথা বলেন রুকবানুরের সঙ্গে। রুকবানুর বর্তমানে নদীয়া জেলার চাপড়া বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূলের বিধায়ক ।

রাতে নিজের এক্স হ‍্যান্ডলে শোকপ্রকাশ করে পরিবার পরিজনদের সমবেদনা জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি লেখেন, “ওঁর সঙ্গে আমার গভীর ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল। আমায় উনি আপনজন হিসাবে খুব ভালবাসতেন। আমি প্রতি ইদে ওঁর সাথে দেখা করতে যেতাম। কত পুরোনো স্মৃতি আজ মনে আসছে। আমার হৃদয়ে উনি চিরদিন থাকবেন। আমি রুকবানুর-সহ ওর পরিবার-পরিজন সকলকে আমার আন্তরিক সমবেদনা জানাই।”

রহমান পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, বুধবার রাতে বাড়িতেই থাকবে কিসওয়ার জাহানের দেহ । বৃহস্পতিবার তাঁকে পার্ক সার্কাসের কবরস্থানে তাঁর শেষকৃত্য হতে পারে। ২০০৭ সালের ২১ সেপ্টেম্বর মারা যান কিসওয়ার জাহানের ছোট ছেলে রিজওয়ানুর । সন্দেহজনক অবস্থায় রেললাইনে ছোট ছেলের মৃতদেহ পাওয়ার পর কিসওয়ার জাহান ছেলের মৃত্যুর জন্য রিজওয়ানের স্ত্রী প্রিয়ঙ্কা টোডির পিতা অশোক টোডিকে দায়ী করেন । সঙ্গে তৎকালীন কলকাতা পুলিশের কর্তা জ্ঞানবন্ত সিংহ এবং অজয় কুমারকেও ছেলের মৃত্যুর জন‍্য দায়ী করে বিচার চেয়ে পথে নেমেছিলেন । সেই সময় বামফ্রন্ট সরকারের বিরুদ্ধে রিজওয়ানুরের মৃত্যুর ঘটনায় বিচারপতি চেয়ে কিসওয়ার জাহানের পাশে দাঁড়িয়েছিল মমতা-সহ তৃণমূল । সেই থেকেই মমতার সঙ্গে রহমান পরিবারের সম্পর্ক দৃঢ় হয় । পরে রিজওয়ানুরের দাদা তৃণমূলে যোগদান করে বিধানসভার সদস্য হয়েছেন । শেষদিন পর্যন্ত বড় ছেলে রুকবানুরের কাছেই থাকতেন কিসওয়ার । বড় ছেলে ছাড়াও পুত্রবধূ এবং দুই নাতনিকে রেখে গিয়েছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসের এই রাজ্যে হঠাৎ উত্থানের পেছনে রিজওয়ানুর রহমানের মৃত্যু বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। রাজ্যের সাধারণ মধ্যবিত্ত সমাজের রেজওয়ানুরের মৃত্যুকে ভালোভাবে মেনে নিতে পারেনি। এর ফলে এই রাজ্যের সংখ্যালঘু ও সচেতন নাগরিকদের ভোট বামপন্থীদের ছেড়ে তৃণমূলের দিকে চলে যায়। ফলে ২০১১ বিধানসভায় মমতার জয়ের পথকে সুগম করে দিয়েছিল রিজওয়ানুর রহমানের মৃত্যু। কিন্তু দীর্ঘ ক্ষমতায় আসার দীর্ঘ 14 বছরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রিজওয়ানুর রহমানের মাকে ইনসাফ দিতে পারেননি। বরং রিজওয়ানুর রহমানের মৃত্যুর জন্য যাদেরকে বা যেসব পুলিশ অফিসারকে দায়ী করা হতো তাদের প্রত্যেকের প্রমোশন হয়েছিল মমতার আমলে। ৮১ বছর বয়সেই মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়তে লড়তে রিজওয়ানুর রহমানের মা কোথায় যেন ছেলের মৃত্যু রহস্য উদঘাটনের জন্য বারবার কেঁদেছেন কিন্তু সবাই কথা দিলেও, কেউ কথা রাখেনি। একজন মা ছেলের মৃত্যুর রহস্য উৎঘাটন এবং ইনসাফের দাবিতে তিল তিল করে মৃত্যুর মুখে ধাবিত হলো। এই দেশ এই সমাজ কোন উত্তর দিতে পারবে কি!


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ