বাংলাদেশ সরকারের প্রতিহিংসার কোপ এবার সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক ভিটায়, নিন্দার ঝড় বিশ্বজুড়ে!
অর্পণ বন্দ্যোপাধ্যায় : স্বৈরাচারী ইউনুস সরকারের হাত এবার সত্যজিৎ রায়ের ময়মনসিংহে অবস্থিত পৈতৃকভিটায় নিন্দার ঝড় বিশ্বজুড়ে দিল্লির চাপে ইউনুস সরকার, নিন্দায় সরব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, ‘রায় পরিবার বাংলার সংস্কৃতির অন্যতম ধারক ও বাহক। উপেন্দ্রকিশোর বাংলার নবজাগরণের একজন স্তম্ভ। তাই আমি মনে করি, এই বাড়ি বাংলার সাংস্কৃতিক ইতিহাসের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। খবরে প্রকাশ যে, বাংলাদেশের ময়মনসিংহ শহরে সত্যজিৎ রায়ের ঠাকুরদা, স্বয়ং স্বনামধন্য সাহিত্যিক-সম্পাদক উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর স্মৃতিজড়িত তাঁদের পৈতৃক বাড়িটি নাকি ভেঙে ফেলা হচ্ছে। এই সংবাদ অত্যন্ত দুঃখের।’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশ সরকারের কাছে অনুরোধ জানান যাতে বাড়িটি রক্ষা করা যায়। কিন্তু হটাৎ কেন প্রশ্নের মুখে এই ভবন, বাংলাদেশে সত্যজিৎ রায়ের পূর্বপুরুষের বাড়ি ভেঙে ফেলে সেখানে নতুন শিশু অ্যাকাডেমি তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়ে মহম্মদ ইউনুসের সরকার। ময়মনসিংহের হরিকিশোর রায় চৌধুরী রোডে অবস্থিত উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর স্মৃতিবিজড়িত এই বাড়িটি এমনিতেই বহুকাল ধরে ভগ্নদশায় কোনওমতে দাঁড়িয়ে ছিল। সেই বাড়িটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে জানতে পেরে এবার কী বললেন সত্যজিৎ রায়ের ছেলে সন্দীপ রায়?
রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশে পূর্বপুরুষের বাড়ি ভাঙা নিয়ে সন্দীপ রায় সংবাদমাধ্যমকে জানান, তাঁরা এই বাড়ির অবস্থার বিষয়ে একদমই অবগত নন। তিনি বলেন, ‘এর আগে শুনেছিলাম, বাড়িটির সংস্কার করা হবে। হেরিটেজের মতো করা হবে। এখন দেখছি অন্য কিছু ঘটছে। আমি কোনওদিন ওখানে যাইনি। বাবা হয়ত একবার গিয়েছিলেন বহুকাল আগে। যে কারণে আমাদের পক্ষে বলা মুশকিল। তবে বাড়িটার অবস্থা খুবই খারাপ ছিল এটুকু বলতে পারি।’

এর আগে মঙ্গলবার ভারত সরকার জানিয়েছে যে তারা বাংলাদেশের ময়মনসিংহে সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক সম্পত্তি মেরামত ও পুনর্নির্মাণের জন্য বাংলাদেশ সরকারের সাথে সহযোগিতা করতে ইচ্ছুক।
মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ”আমরা গভীর দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, বাংলাদেশের ময়মনসিংহে চলচ্চিত্র পরিচালক ও সাহিত্যিক সত্যজিৎ রায়ের ঠাকুরদা ও বিখ্যাত সাহিত্যিক উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর বাড়ি ভেঙে ফেলা হচ্ছে।”
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ”এই বাড়ির বর্তমান মালিক বাংলাদেশ সরকার এবং বাড়িটির অবস্থা জরাজীর্ণ। বাড়িটি বাংলার সাংস্কৃতিক রেনেসাঁর প্রতীক। এই গুরুত্বের কথা বিচার করে ভারত এই বাড়ি ভাঙার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা এবং তা সারাই ও পুনর্নির্মাণ করে সাহিত্যের মিউজিয়াম হিসাবে গড়ে তোলার আবেদন জানাচ্ছে। তাহলে তা হবে ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ সংস্কৃতির একটা প্রতীক। তবে বাংলাদেশ সরকারের তরফে প্রত্নতাত্ত্বিক স্বপন ধর বলেন, ‘বাড়িটি ছিল রনদা প্রসাদের অস্থায়ী বাসভবন। এর মধ্যে কোনো দ্বিমত নেই। আমাদের কাছে সব ধরনের গবেষণা কাগজ রয়েছে। যে কথাটি বলা হচ্ছে, এটি সত্যজিৎ রায়ের বাড়ি, সেটি হচ্ছে দুর্লভ ভবন। সেই বাড়িটি এখান থেকে কিছুটা দূরে। এই রোডটি সত্যজিৎ রায়ের পরিবার হরিকিশোরের নামে এতে কোনো সন্দেহ নেই।’’
ময়মনসিংহে সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক বাড়ি ভেঙে ফেলার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার জন্য বাংলাদেশকে আহ্বান জানিয়েছে ভারত। এটিকে বাংলা সাংস্কৃতিক নবজাগরণের একটি মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছে ভারত। বিদেশ মন্ত্রক এই স্থানটিকে জাদুঘরে রূপান্তর করার প্রস্তাব দিয়েছে এবং সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ঐতিহ্যবাহী ভবনটি সংরক্ষণের জন্য আবেদন করেছেন। এখন দেখার বিষয় এই যে বাংলা ও বাঙালির আবেগ নাকি প্রতিহিংসা কোনটি জয়ী হয়, তার তার দিকেই আপামর সংস্কৃতি প্ৰিয় বিশ্ববাসী।

