কলকাতা 

বাংলাভাষী হওয়ার জন্য এবার মতুয়া পরিবারকে বিজেপি শাসিত মহারাষ্ট্রে হেনস্তার অভিযোগ শাসকদলের

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : বিজেপি শাসিত মহারাষ্ট্রের বাংলাভাষী পরিবারকে বাংলাদেশী সন্দেহে হেনস্থা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রাজ্যের শাসকদলের পক্ষে রাজ্যসভার সাংসদ সামীরুল ইসলাম জানিয়েছেন, এবার হেনস্তার মুখে পড়েছেন এক মতুয়া পরিবার। তাদের কাছে বৈধ পরিচয় পত্র ছাড়া ও ছিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সই করা আইডেন্টিটি কার্ড তা সত্ত্বেও তাদেরকে হেনস্থা করা হয়েছে বলে, সামিরুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন।

মঙ্গলবার এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দিয়েছেন তৃণমূলের সাংসদ সামিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিজেপি শাসিত মহারাষ্ট্রের পুণেতে গিয়ে হেনস্থার শিকার হয়েছেন মতুয়া যুবক আরুষ অধিকারী এবং তাঁর পরিবার। হাবড়ার ওই যুবক সেখানে কাজ করতে গিয়েছিলেন। তিনি লিখেছেন, ‘‘হিংসার রাজনীতি কাউকেই রেয়াত করে না। বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের রোহিঙ্গা বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’’ তিনি আরও জানিয়েছেন, সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ বোর্ডের কাছে পুণেতে ওই মতুয়া পরিবারের ছ’জনের হেনস্থা হওয়ার খবর এসেছে। সেই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।

তৃণমূল সাংসদ জানিয়েছেন, ওই পরিবার নিশ্চিত করেছে যে ‘বাংলাদেশি সন্দেহে’ তাদের আটক করা হয়েছে। আটকদের মধ্যে রয়েছে শিশুও। সামিরুলের কথায়, ‘‘স্তম্ভিত হওয়ার মতো বিষয় যে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর নিজেও মতুয়া।’’ এর পরেই তিনি জানান যে, ওই মতুয়া পরিবারের কাছে আধার কার্ডের পাশাপাশি ‘অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘ’-এর (এআইএমএম) দেওয়া পরিচয়পত্র ছিল, যাতে সই ছিল খোদ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর।

এই নিয়ে সরব হয়েছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ তথা মতুয়া নেত্রী মমতা বালা ঠাকুর। তিনি বলেন, ‘‘কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের স্বাক্ষর করা মতুয়া মহাসংঘের কার্ড থাকা সত্ত্বেও হাবরা বিধানসভার এক বাসিন্দা মতুয়া সম্প্রদায়ের আরুষ এবং তাঁর পরিবারকে বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্য বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দিয়েছে মহারাষ্ট্রের বিজেপি সরকার।” এ বিষয়ে তিনি কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু, কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিজেপি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মতুয়া সম্প্রদায়কে নিয়ে রাজনীতি করার অভিযোগও এনেছেন। শান্তনু পোস্টে লিখেছেন, ‘‘বিজেপির বিষাক্তর রাজনীতি সকলকেই নিশানা করছে। স্পষ্টতই তা আসলে বাঙালি-বিরোধী।’’

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু যদিও পাল্টা আঙুল তুলেছেন তৃণমূলের দিকে। শান্তনুর কথায়, ‘‘বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় কারণে অত্যাচারিত হয়ে যাঁরা ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন, তাঁদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য দেশে আইন রয়েছে। সেই আইনের নাম সিএএ। মতুয়ারা সবাই সেই সিএএ-র আওতায়। পশ্চিমবঙ্গের সরকার সে সব মানছে না। বেছে বেছে মতুয়াদের নাম ভোটার তালিকা থেকে কাটা হচ্ছে।’’ মতুয়া সঙ্ঘাধিপতি তথা বনগাঁর বিজেপি সাংসদের দাবি, ‘‘ভোটার তালিকা থেকে মতুয়াদের নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্তের সঙ্গে জেলাশাসক, মহকুমাশাসকেরা যুক্ত। পুলিশ আর প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে বনগাঁ, বাগদা, গাইঘাটা-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় মতুয়াদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। কারণ এরা বিজেপিকে ভোট দেন। বিজেপির ভোট কমাতে তৃণমূল মানুষের বৈধ নাগরিকত্ব কেড়ে নিতে চাইছে।’’

তথ্যসূত্র ডিজিটাল আনন্দবাজার।

 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ