পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদেশে প্রচার অভিযানে কেন ইউসুফ পাঠানের নামে আপত্তি তৃণমূলের? ব্যাখ্যা দিলেন অভিষেক
বাংলার জনরব ডেস্ক : আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ পেশ করার জন্য বিশ্বের ৩৩টা দেশে যাবেন ভারতের সর্বদলীয় সাংসদ প্রতিনিধি। সেই মোতাবেক বহরমপুরের সাংসদ ইউসুফ পাঠানকে এই দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল কিন্তু দেখা গেল তিনি এই সংসদীয় দলের প্রতিনিধি হিসাবে যাবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন। এনিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছিল। তবে সোমবার, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তার কারণ ব্যাখ্যা করে দিলেন।
এনিয়ে অভিষেকের স্পষ্ট বক্তব্য, তৃণমূলের তরফে কোন প্রতিনিধি যাবেন, তা একমাত্র তৃণমূলই ঠিক করবে। বিজেপি তা ঠিক করার কে? ইউসুফকে এই দলে অন্তর্ভুক্ত করার আগে তৃণমূলের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর, মত অভিষেকের।সোমবার দিল্লি যাওয়ার পথে কলকাতা বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক প্রশ্ন তোলেন, ”পহেলগাঁও ইস্যুতে কেন্দ্রের সমস্ত পদক্ষেপের পাশে তৃণমূল থাকা সত্ত্বেও কীভাবে একবিন্দু আলোচনা না করে দলের প্রতিনিধির নাম ঠিক করল বিজেপি? দৌত্যর ক্ষেত্রে কে যাবে সেটা পার্টির সিদ্ধান্ত। এটা বিজেপি ঠিক করে দিতে পারে না। একজন চাইলে পাঁচ জনের নাম আমরা দেব। কিন্তু সেটা তো দলের সিদ্ধান্ত। মনে রাখবেন, তৃণমূলই একমাত্র দল, যে রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে এই ইস্যুতে কেন্দ্রকে সবরকম সমর্থন জানিয়েছে স্রেফ জাতীয় সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে।”

শনিবার রাতে কিরেণ রিজিজু ফোনে ইউসুফ পাঠানকে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের বিদেশ সফরের বিষয়টি জানান। দিনক্ষণ জানিয়ে তৃণমূল সাংসদের কাছ থেকে পাসপোর্ট নম্বর-সহ নানা প্রয়োজনীয় তথ্যও নেন রিজিজু। কিন্তু পরদিনই তৃণমূল সূত্রে জানা যায়, ইউসুফ কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের সঙ্গে পাক বিরোধী বিদেশ সফরে যাচ্ছেন না। তৃণমূলই তাঁর নাম প্রত্যাহার করেছে। তখনই গুঞ্জন শুরু হয়েছিল, কী কারণে এমন সিদ্ধান্ত রাজ্যের শাসকদলের?
দলের তরফে পরে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, ”দেশের সুরক্ষার স্বার্থে কেন্দ্র যে পদক্ষেপ নেবে, রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে আমরা তা সমর্থন জানানোর নীতিতে বিশ্বাসী। বিদেশনীতি কেন্দ্রের বিষয়। কেন্দ্রই তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। এক্ষেত্রে তৃণমূলের কোনও ভূমিকা নেই।” তবে এদিন অভিষেক আসল কারণ ব্যাখ্যা করলেন। তাঁর কথায়, ”কাউকে ছোট না করেই বলতে চাই, ওই প্রতিনিধি দলে এমন একজনের থাকা উচিত যিনি সবদিক থেকে দলকে ভরসা জোগাতে পারবেন। দলের কী নীতি, আভ্যন্তরীণ বিষয়, সর্বভারতীয় বিষয়ে ব্যাখ্যা যিনি যথাযথভাবে দিতে পারবেন।”

