দেশ 

ইউরোপিয়ান গার্লস ম্যাথমেটিক্স অলিম্পিয়াডে (EGMO) প্রথমবার স্বর্ণপদক জিতল মুম্বাইয়ের ছাত্রী শ্রেয়া: জানালো– এ এক অনন্য বিজয়ের স্বাদ

শেয়ার করুন

নায়ীমুল হকের প্রতিবেদন: মুম্বাইয়ের ছাত্রী শ্রেয়া শান্তনু মুন্ধাদা ফ্রান্সের বোর্দো শহরে অনুষ্ঠিত ১৫তম ইউরোপীয় বালিকা গণিত অলিম্পিয়াড ২০২৬-এ স্বর্ণপদক জয়ী প্রথম ভারতীয় ছাত্রী হয়েছেন। শ্রেয়া জানিয়েছেন, তাঁর কাছে দেশের জন্য এই পদকপ্রাপ্তি এক অনন্য বিজয়ের স্বাদ এনে দিয়েছে। তাঁর এই স্বর্ণপদক বিজয় এবং চার সদস্যের ভারতীয় দলের শক্তিশালী পারফরম্যান্সে খুশি ভারতীয় দল। কেবল একটি স্বর্ণপদকই নয়, সঙ্গে অন্যান্যরা পেয়েছেন একটি রুপো ও একটি ব্রোঞ্জ পদকও, সব মিলিয়ে মোট তিনটি পদক অর্জন করেছেন তাঁরা। অলিম্পিয়াডে ২০২৬-এ মুম্বাইয়ের শ্রেয়া শান্তনুর এই স্বর্ণপদক জয়কে এক ঐতিহাসিক বিজয় বলে মনে করছেন দেশের গণিতমহল। এটি এই প্রতিযোগিতায় ভারতের পক্ষ থেকে পাওয়া প্রথম স্বর্ণপদক। মর্যাদাপূর্ণ এই বৈশ্বিক গণিত প্রতিযোগিতায় ২০২৬ বছরটিকে উল্লেখযোগ্য মাইলফলকের বছর আখ্যা দিয়ে, ভারতের অলিম্পিয়াড দলগুলোকে প্রশিক্ষণ প্রদানকারী হোমি ভাবা বিজ্ঞান শিক্ষা কেন্দ্র (এইচবিসিএসই-টিআইএফআর) জানিয়েছে যে এটি জাতীয় গর্বের এক বিশেষ মুহূর্ত।

উল্লেখ্য, চার জনের এই জাতীয় দলে সুযোগ করে নিয়েছিলেন কলকাতার শ্রীময়ী বেরা। সব মিলিয়ে দলে ছিলেন

Advertisement

শ্রেয়া শান্তনু মুন্ধাদা (স্বর্ণপদক), সঞ্জনা ফিলো চাকো (রৌপ্যপদক), শিবানী ভারত কুমার (ব্রোঞ্জপদক) ও শ্রীময়ী বেরা। দলটিতে গাইড হিসেবে ছিলেন ডঃ বৈদেহী থাত্তে (দলনেতা), ডঃ মৃদুল থাত্তে (উপনেতা) এবং পর্যবেক্ষক অদিতি মুথখোদ।

শুধুমাত্র মেয়েদের জন্য আয়োজিত এই বৈশ্বিক গণিত প্রতিযোগিতায় এবার অংশ নিয়েছিল ৬৭ টি দেশ। এদের মধ্যে আমাদের অবস্থান ছয়, অভাবনীয় এই পারফরমেন্স, যা অভিষেকের পর থেকে সেরা। ইজিএমও-তে এটিই হল ভারতের সর্বোচ্চ দলীয় র‍্যাঙ্কিং। এই মর্যাদাপূর্ণ গণিত প্রতিযোগিতায় আমাদের ছাত্রীদের এই সাফল্যের নিরিখে বছরটিকে উল্লেখযোগ্য মাইলফলকের বছর আখ্যা দিয়েছেন ভারতের অলিম্পিয়াড দলগুলোকে প্রশিক্ষণ প্রদানকারী হোমি ভাবা সেন্টার ফর সায়েন্স এডুকেশন। তাঁরা জানিয়েছেন, নিঃসন্দেহে এটি একটি জাতীয় গর্বের মুহূর্ত।

গণিতের এই আসরে এবার সম্পূর্ণ নারীদের নিয়ে গড়া দল পাঠালো দ্বিতীয়বার।

গত বছর থেকেই শুরু হয়েছে নেতা ও পর্যবেক্ষকসহ পুরো দলটিতেই থাকছেন নারী। উল্লেখ্য, ভারত ২০১৫ সাল থেকে অতিথি দেশ হিসেবে ইজিএমও-তে অংশগ্রহণ করলেও, দলের নেতাদের মধ্যে সবসময় একজন পুরুষ সদস্য থাকতেন। উচ্চস্তরের গণিত প্রতিযোগিতায় নারীদের কম প্রতিনিধিত্বের সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ২০১২ সালে চালু হওয়া EGMO হলো কুড়ি বছরের নিচে উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের জন্য অন্যতম কঠিন একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা। আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াড (IMO)-এর আদলে তৈরি এই প্রতিযোগিতায় দুই দিনব্যাপী কঠোর পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়, যা গভীর সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং গাণিতিক সৃজনশীলতা যাচাই করে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো মেয়েদের গাণিতিক প্রতিভা বিকাশের জন্য একটি মঞ্চ তৈরি করে গণিতের প্রতি তাদের আরও বেশি আকৃষ্ট করা এবং STEM-এ নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা।

এ বছরের আয়োজনে ৪১টি ইউরোপীয় দেশসহ ৬৭টি দেশের ২৬০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে। ভারতের এই যুগান্তকারী সাফল্য শুধু দেশটির তরুণ গণিতবিদদের ক্রমবর্ধমান শক্তিকেই তুলে ধরে না, বরং উন্নত STEM ক্ষেত্রগুলিতে মেয়েদের বৃহত্তর অন্তর্ভুক্তির দিকে একটি শক্তিশালী পরিবর্তনেরও ইঙ্গিত দেয়।

মুম্বাইতে অবস্থিত এইচবিসিএসই বা হোমি ভাবা সেন্টার ফর সায়েন্স এডুকেশন হলো মুম্বইয়ে অবস্থিত টাটা ইনস্টিটিউট অফ ফান্ডামেন্টাল রিসার্চের একটি জাতীয় কেন্দ্র। ভারত সরকারের পারমাণবিক শক্তি বিভাগের অধীনস্থ একটি শীর্ষস্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। এটি পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান, জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং গণিতের মতো মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণের জন্য প্রতিভাবান শিক্ষার্থীদের চিহ্নিতকরণ, প্রশিক্ষণ দান এবং প্রস্তুত করার একটি প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। এইচবিসিএসই জাতীয় অলিম্পিয়াড পরীক্ষা পরিচালনা করে, যা শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন পর্যায় অতিক্রম করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য চূড়ান্ত দলে একটি কাঙ্ক্ষিত স্থান নিশ্চিত করার প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ