কলকাতা 

যোগ্য বঞ্চিত চাকরিহারাদের পাশে মানবিক ও রাজনৈতিকভাবে আমরা থাকবো : ব্রাত্য বসু

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি : গতকাল বৃহস্পতিবার ২৫ হাজার ৭৫২ জনের চাকরি বাতিলের যে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্ট দিয়েছে তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে দরজা শুরু হয়েছে। কার্যত কলকাতা হাইকোর্টের রায়কেই মান্যতা দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এই রায় সামনে আসার পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে। তারপর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দেন সুপ্রিম নির্দেশ মেনে তিন মাসের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হবে এবং শেষ করা হবে। আজ শুক্রবার এ নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। তিনি বলেন আমরা বঞ্চিত যোগ্য শিক্ষকদের পাশে রয়েছি, মানবিকভাবে থাকবো এবং রাজনৈতিকভাবে থাকবো।

তাঁর ভাষায়,”মুখ্যমন্ত্রী যা বলেছেন, আমরা যোগ্য-বঞ্চিত যাঁরা আছেন, তাঁদের পাশে আমরা থাকব। মানবিকভাবে থাকব। রাজনৈতিকভাবেও থাকব। যেটা বলা হচ্ছে টেইন্টেড এবং আনটেইন্টেড, বা একজনের বেতন ফেরত দেওয়া হবে আর একজনের বেতন ফেরত দেওয়া হবে না, এই কথাগুলো তো আমার কথা নয়। এগুলো মহামান্য বিচারপতির রায়ের প্রতিটি পাতায় আছে। আঠাশ নম্বর অণুচ্ছেদে স্পষ্ট করে আছে। অর্থাৎ যা বলা হচ্ছে, তা তো এসএসসির দেওয়া তথ্য থেকেই বলা হয়েছে। অর্থাৎ যোগ্য-অযোগ্যের তালিকা যে এসএসসি ভাগ করতে পারেনি, সেই কথাটা ঠিক নয়। এটা ঠিক সেই তথ্যে আদালত সন্তুষ্ট হতে পারেননি। কিন্তু নিশ্চিতভাবে প্রধান বিচারপতির রায়ের পর আমরা বুঝতে পারছি। এবং যাঁরা যোগ্য-বঞ্চিত তাঁদের প্রতি একটা মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি যাতে সব তরফ থেকে বেরোয়, আমি সেই আবেদনও করব। আমি শুধু একটাই কথা বলব, মাননীয় মুখমন্ত্রীর উপর ভরসা রাখুন।”

Advertisement

বস্তুত, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে শেষমেশ চাকরি বাতিল হয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারীর হতাশায় ভেঙে পড়ার ছবি এদিন দিনভর সংবাদমাধ্যমে দেখা গিয়েছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী কাল সাংবাদিক বৈঠক করে বলেছিলেন, “যাঁরা চাকরি হারিয়েছেন, তাঁরা ৭ এপ্রিল নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে একটি সভা ডেকেছেন। আমি জানিয়েছি, তাঁদের সভায় যাব। তবে আবারও বলছি, মানসিক চাপ নেবেন না, ধৈর্য্য হারাবেন না।”

প্রায় ২৬ হাজার চাকরি, পরিবার পিছু ৫ জন ধরলে প্রায় ১৫০ লক্ষ মানুষ। আদালতের নির্দেশ ঘিরে তাদের মধ্যে নেমে এসেছে হাহাকার। চাকরিহারাদের অনেকে ব্যাঙ্ক থেকে লোন নিয়েছেন। তাঁদেরও সংসার রয়েছে। মনে করিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এভাবে কয়েকলক্ষ পরিবারকে অচল করে দিল। এই পরিবারগুলোর কোনও অঘটন ঘটলে তার দায়ভার কিন্তু সিপিএম-বিজেপিকে নিতে হবে।”

 

 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ