তৃণমূল সিপিএম জোট! অবিশ্বাস্য লাগছে? বিজেপিকে ঠেকাতে বাম তৃণমূল জোট! কোথায় এই জোট? সাফল্য পেল?
বাংলার জনরব ডেস্ক : বিজেপিকে ঠেকাতে শেষ পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসকে সিপিএমের সঙ্গে জোট করতে হয়েছে। অবিশ্বাস্য লাগছে না অবিশ্বাসের কিছু নেই এটাই বাস্তব। পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকের শ্রীরামপুর দু’নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার চংরাকালাগণ্ডা সমবায় কৃষি সমিতির নির্বাচনে এই অবিশ্বাস্য ঘটনাটি ঘটেছে। এখানে তৃণমূল কংগ্রেস এবং সিপিএমের সঙ্গে জোট বেঁধে নয় আসনের সমবায় সমিতির নির্বাচনে লড়াই করে। উল্লেখ্য তমলুকের এই পঞ্চায়েত এলাকায় বিজেপি যথেষ্ট শক্তিশালী। তাই বিজেপির আধিপত্যকে কমানোর লক্ষ্যেই শাসক দলের সঙ্গে বামেরা জোট করে বলে রাজনৈতিক মহলের খবর।
তবে এই এলাকার সাধারণ নাগরিকরা যে এখনো শাসকদলের প্রতি ততটা সন্তুষ্ট নয়, তাই নির্বাচনে প্রতিফলিত হয়েছে। কারণ নয় আসনের সমবায় সমিতির নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ছটি আসনে লড়াই করেছিল আর বামেরা করেছিল তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা। আজ মঙ্গলবার একুশে জানুয়ারি এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় নির্বাচন শেষ হওয়ার অববাহিত পরেই ভোট গণনা শুরু হয়।। ভোটের ফলাফলে জানা যাচ্ছে ছটি আসনে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী দিয়ে তিনটি আসন দখল করেছে অর্থাৎ ছটি আসনে প্রার্থী দিয়ে শাসক দল তিনটি আসনে জয়লাভ করেছে অন্যদিকে জোটের শর্ত অনুসারে তিনটি আসনে প্রার্থী দেয় সিপিএম দল দেখা যাচ্ছে সিপিএম তিনটি আসনেই জয়ী হয়েছে। মূলত তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপির সঙ্গে মুখোমুখি লড়াইয়ে পরাজিত হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস ছটি আসনে প্রার্থী দিয়ে তিনটিতে জিতেছে আর সবকটি আসনে অর্থাৎ নটি আসনের প্রার্থী দিয়ে বিজেপি তিনটি আসনে জয়ী হয়েছে।

এ থেকে এটাই স্পষ্ট যে এলাকার সাধারণ নাগরিকরা শাসকদলের প্রতি রুষ্ট। তবে বাম ও তৃণমূলের মধ্যে এই জোটকে কটাক্ষ করতে পিছপা হয়নি বিজেপি দল।
সমবায়ের প্রাক্তন সম্পাদক তথা জোট প্রার্থী সোমনাথ পাত্র বলেন, ‘‘আমি দীর্ঘদিন ধরে এই সমবায়ের সঙ্গে যুক্ত। ১০ বছর সেক্রেটারির দায়িত্ব সামলেছি। বিগত পরিচালন কমিটিতে সদস্য হিসাবেও কাজ করেছি। এ বার যাঁরা বিজেপির হয়ে লড়াই করছেন, তাঁরা একেবারে আনকোরা। সমবায়ের ক্ষমতা দখলে নিয়ে এলাকার মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করতেন এঁরা। বিজেপি-বিরোধী জোট গড়ে এঁদের বিপুল ভোটে পরাজিত করেছি আমরা। আমাদের জয়ের ব্যবধানও অনেক বেশি।’’
অন্য দিকে, ভোটে হেরে তৃণমূল এবং সিপিএমের এই জোটকে কটাক্ষ করেছেন স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলার-সহ সভাপতি তথা তমলুক পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা আশিস মণ্ডল বলেন, ‘‘চংরাকালাগণ্ডা সমবায়ের ক্ষমতা দখলে মরিয়া তৃণমূল নিজেদের নীতি-আদর্শকে বিসর্জন দিয়ে জোট বাঁধল কিনা সিপিএমের সঙ্গে!’’ আশিস আরও বলেন, ‘‘তৃণমূল এত দিন রাম-বাম জোট বলে অনেক প্রচার করত। কিন্তু শ্রীরামপুর সমবায়ের ভোট বুঝিয়ে দিল তৃণমূল মুখে সিপিএমের বিরোধিতা করলেও তলে তলে জোট বেঁধে ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকতে চায়।’’ শ্রীরামপুর-২ অঞ্চলের তৃণমূল সভাপতি দিলীপকুমার সাউ বলেন, ‘‘সমবায়ের মাধ্যমে এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে আমরা বিজেপি-বিরোধীরা একজোট হয়ে লড়াই করেছি। আমাদের এই লড়াই সাফল্য এনেছে। বিজেপিকে আমরা বিপুল ভোটে পরাজিত করেছি। এ বার শীঘ্রই সভাপতি, সম্পাদক নির্বাচন করে আমরা সমবায়ের কাজকর্ম স্বাভাবিক করতে উদ্যোগী হব।’’

