সিবিআইয়ের নজরে আরজি করের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের এক প্রভাবশালী নেতা
বাংলার জনরব ডেস্ক : সিবিআই এর কাছে শেষ পর্যন্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে যা নিয়ে তৎপর হয়ে উঠেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। আর জি কর মেডিকেল কলেজের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান এবং শ্রীরামপুরের বিধায়ক সুদীপ্ত রায়ের মোবাইল ফোন চেক করে এক টিএমসিপি নেতার সন্ধান পায়। যিনি আরজিকর মেডিকেল কলেজের যে ঘরে তরুণী চিকিৎসকের লাশ উদ্ধার হয়েছিল সেই ঘরে তিনি গিয়েছিলেন পরে কয়েকবার তৃণমূল বিধায়ক সুদীপ্ত রায় এর সঙ্গে মোবাইলে কথা বলেন। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের এই নেতার নাম আশিস কুমার পান্ডে। যিনি ২০২১ সালে আরজিকর মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেছিলেন।
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে ৯ আগস্ট আশীষ কুমার পান্ডে সল্টলেকের একটি হোটেলে উঠেছিলেন এবং ১০ ই আগস্ট বেলা বারোটা নাগাদ তিনি ওই হোটেল ছেড়ে চলে যান। এ বিষয়ে খোঁজখবর করার জন্য সল্টলেকের ওই হোটেলের কর্তৃপক্ষকে তলব করেছিল সিবিআই। বৃহস্পতিবার সিবিআই এর সিজিও কমপ্লেক্স দফতরে হোটেল কর্মী হাজির হয়েছিলেন। এ বিষয়ে তথ্য দেওয়ার জন্য।
সিবিআই সূত্রে খবর, আরজি করের টিএমসিপি ইউনিটের সভাপতি আশিস কুমার পাণ্ডে সম্পর্কে বিশেষ খোঁজ খবর নিতে চাইছেন তদন্তকারীরা। সেই কারণেই ডেকে পাঠানো হয়েছে ওই হোটেল কর্মীকে। কারণ তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন ওই হোটেলে ৯ অগস্ট উঠেছিলেন আশিস। ১০ তারিখ হোটেল ছেড়ে দেন।
আরজি করের ছাত্রীর সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে তা কারও একার পক্ষে করা সম্ভব কিনা তা নিয়ে প্রথম থেকেই সন্দেহ প্রকাশ করছিলেন নির্যাতিতার বাবা-মা থেকে শুরু করে চিকিৎসকদের একাংশও। প্রশ্ন উঠছিল, ধৃত সিভিক ভলান্টিয়র কি একাই ছিলেন নাকি ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও অনেকে! সেই রহস্য উদ্ঘাটিত হয়নি এখনও। এবার সল্টলেকের হোটেল কর্মীকে সিবিআই তলব করার খবরে সাড়া পড়ল।
আরজি করের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান সুদীপ্ত রায়ের মোবাইল ফোনের কল রেকর্ডস নিয়ে বুধবার থেকেই তৎপর হতে দেখা গিয়েছে সিবিআইকে। বৃহস্পতিবার তাঁকে সিজিও কমপ্লেক্সে ডেকে পাঠানো হয়। সুদীপ্ত রায়ের মোবাইল ফোনের কল রেকর্ডস ঘেঁটে সিবিআই জানতে পারে ঘটনার দিন আশিস পাণ্ডের সঙ্গে কথা হয়েছিল তাঁর। সুদীপ্তবাবু অবশ্য দাবি করেন ঘটনার পর টিএমসিপির ইউনিট সভাপতি হিসাবে আশিসকে সেদিন ঘটনাস্থলে যেতে বলেছিলেন।

