কলকাতা 

নিউটাউনের হোটেল মালিককে মারধরের ঘটনায় ক্ষমা চাইলেন তৃণমূল বিধায়ক সোহম চক্রবর্তী

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : নিউটাউনের এক রেস্তারার মালিককে মারধরের অভিযোগ এবং অশ্লীল ভাষায় গালাগালি দিয়েছেন বলে তৃণমূল বিধায়ক সোহম চক্রবর্তী এর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। তৃণমূল বিধায়কের অভিযোগ ওই রেস্তারার মালিক নাকি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কে কটাক্ষ করেছিলেন আর তা সহ্য করতে না পেরে তিনি মারধর করেছেন। এরপর দলের চাপে এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এর নির্দেশে তৃণমূল বিধায়ক প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেন।জনপ্রতিনিধি হিসেবে মেজাজ হারিয়ে কারও গায়ে হাত তোলা উচিত হয়নি বলে স্বীকার করলেন তিনি।

রাতেই মারধরের অভিযোগ মেনে নিয়ে সোহম দাবি করেছিলেন, বচসা চলাকালীন হোটেল মালিক তাঁর নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে কটূক্তি করেন। এতেই রেগে যান তিনি। এদিকে এই ঘটনায় সমালোচনা ঝড় বইতে থাকে। এরপর শনিবার দুপুরে ক্ষমা চেয়ে সোহম বলেন, ‘‘আমাকে ও আমার দেহরক্ষীকেও কটূক্তি করা হয়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে গালিগালাজ করায় আমার মাথা গরম হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে এমন কাজ করা উচিত হয়নি।”

Advertisement

যদিও হোটেল মালিক জানিয়েছেন তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। পাল্টা আবার এপ্রসঙ্গে সোহমের কথায় “ওনাকে চিনি না জানি না কেন ওঁর নামে মিথ্যে কথা বলতে যাব?

শুক্রবার নিউটাউন সাপুরজি এলাকায় সোহমের শুটিং চলছিল। সেই সময়ে রেস্তোরাঁর বাইরে শুটিংয়ের অনেক গাড়ি রাখা ছিল। হোটেল মালিকের দাবি, তিনি হোটেলের সামনে থেকে অন্তত একটি গাড়ি সরিয়ে নিতে অনুরোধ করেন। তখন সোহমের নিরাপত্তারক্ষীরা জানান যে বিধায়কের শুটিং চলছে, তাই আপাতত এখান থেকে কোনও গাড়ি সরবে না। যা নিয়েই গোলমালের সূত্রপাত।

হইচই শুনতে পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন সোহম। এরপর তাঁর সঙ্গেও হোটেল মালিকের বচসা বেঁধে যায়। অভিনেতার অভিযোগ, বচসা চলাকালীন হোটেল মালিক তাঁর নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে কটূক্তি করেন। এতেই রেগে যান তিনি।

সোহমের কথায়, “হোটেলের মালিক ঔদ্ধত্য দেখাতে শুরু করেন। আমি শুনতে পাই উনি বলেছেন কে এমএলএ আমার জানার দরকার নেই। সবথেকে বড় কথা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাজে কথা বলেছেন। তখনই মাথাটা গরম হয়ে যায়।”

এদিকে ঘটনার পর বিধাননগর কমিশনারেটের টেকনোসিটি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিল। রেস্তোঁরার মালিকের দাবি, তাঁকে থানার ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর পুরো ঘটনাটিতে কোনও অভিযোগ নেই বলে তাঁকে দিয়ে লিখিয়ে নেওয়া হয়েছে। শেষ পর্যন্ত প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর অভিযোগ দায়ের করেছে পুলিশ।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ