জেলা 

অভিষেকের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেও মঞ্চে এলেন না বিজেপির কোন নেতা! “হাটে হাঁড়ি ভেঙে দিয়েছি” বিজেপি নেতাদের খোঁচা তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ডের

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বরাদ্দ নিয়ে বিজেপি যে প্রচার করছিল তার প্রতিবাদ জানিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি জানিয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবার এর সংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। একইসঙ্গে তিনি এও বলেছিলেন যে সাহস থাকলে বিজেপির কোন নেতা একই মঞ্চে উপস্থিত হয়ে প্রমাণ করুক যে কেন্দ্রীয় সরকার ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনের হেরে যাওয়ার পর কত টাকা রাজ্যের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ করেছে। কার্যত মুখোমুখি বিতর্কের প্রস্তাব দেন তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক। এক্স হ্যান্ডেলের এই বিতর্কের কথা প্রচারিত হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই বিজেপির রাজ্য কমিটির পক্ষ থেকে এই চ্যালেঞ্জ একসেপ্ট করা হয় অর্থাৎ গ্রহণ করা হয়। বলা হয় কোথায় কোন জায়গায় অভিষেকের সঙ্গে মুখোমুখি বসতে হবে তা জানালেই বিজেপির যুব মোর্চার কোন এক নেতা সেই মঞ্চে উপস্থিত হবেন।তার পরেও জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ির টাউন ক্লাবের মাঠে অভিষেকের নির্বাচনী জনসভায় দেখা গেল না গেরুয়া শিবিরের কাউকেই। মঞ্চ থেকেই প্রশ্ন করেন অভিষেক বিজেপির কেউ এসেছেন কিনা। তবে দেখা যায় গেরুয়া শিবিরের প্রতিনিধি অনুপস্থিত। এর পরই অভিষেকের খোঁচা, “হাটে হাঁড়ি ভেঙে দিয়েছি।”

এদিনের মঞ্চ থেকে অভিষেকের প্রশ্ন, ‘‘বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলাম। দুটো পোডিয়াম রেখেছি তর্ক হবে বলে। বলেছিলাম শ্বেতপত্র প্রকাশ করুন। কেউ কি এসেছেন?’’ কেউ আসেননি দেখার পর তিনি আরও বলেন, ‘‘হাটে হাঁড়ি ভেঙেছি।’’ এর পরই একটি ভিডিও দেখান। ওই ভিডিওর মাধ্যমে তুলে ধরা হয়, সাধারণ মানুষকে দেওয়া প্রতিশ্রুতিই সার। বাড়ি তো পাওয়া যায়নি। আবার কেন্দ্রীয় প্রকল্পে বরাদ্দও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেই অভিযোগ অভিষেকের। শুধু তাই নয়, ১০০ দিনের কাজের টাকাও দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। সবশেষে বিজেপির উদ্দেশে অভিষেক বলেন, ‘‘খুঁটিপুজো আজ করলাম, বিসর্জন মে মাসের শেষ সপ্তাহে করব।’’

Advertisement

উল্লেখ্য, লোকসভা ভোটের আগে বিজেপিকে চাপে ফেলতে কেন্দ্রীয় বঞ্চনাকেই হাতিয়ার করেছে তৃণমূল। বৃহস্পতিবার সকালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় X হ্যান্ডেলে দাবি করেন, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর থেকে আবাস যোজনা এবং ১০০ দিনের কাজের মতো প্রকল্পে এক পয়সাও বরাদ্দ করেনি কেন্দ্র। তা সত্ত্বেও মিথ্যা দাবি করা হচ্ছে। কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে আর্থিক বরাদ্দ সংক্রান্ত শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি জানান অভিষেক। এমনকী ‘ওয়ান টু ওয়ান’ বসে হিসাব দেওয়ার চ্যালেঞ্জও ছুঁড়ে দেন তৃণমূল নেতা। কিছুক্ষণের মধ্যেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে রাজ্য বিজেপি। X হ্যান্ডেলে একটি বিজ্ঞাপন পোস্ট করে গেরুয়া শিবির।

তাতে লেখা হয়, “আপনি আপনার সুবিধামতো স্থান ও সময় জানান। আমরা আমাদের যুব মোর্চার কোনও এক কর্মীকে পাঠিয়ে দেব বিতর্কের জন্য। আপাতত বিজ্ঞাপন পড়ে নিন।” ওই বিজ্ঞাপনে কোন প্রকল্পে কত বরাদ্দ করা হয়েছে, তা উল্লেখ করা হয়। আবার তেমনই রাজ্য সরকারের ‘অসহযোগিতা’য় কোন কোন প্রকল্প থেকে বাংলার মানুষ বঞ্চিত তার উল্লেখও রয়েছে। আবার ওই বিজ্ঞাপন-সহ বিজেপির পোস্টটি রিপোস্ট করেন অভিষেক।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টে নাগাদ ময়নাগুড়ির টাউন ক্লাবের মাঠে আবাস যোজনা এবং ১০০ দিনের কাজের আর্থিক বরাদ্দ সংক্রান্ত শ্বেতপত্র সঙ্গে নিয়ে আসার কথা বলেন অভিষেক। X হ্যান্ডলে তিনি আরও লেখেন, ‘দেখা হবে।’ তবে চ্যালেঞ্জ গ্রহণের পরেও ময়নাগুড়ির সভায় গরহাজির বিজেপি প্রতিনিধি।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ