কোন কোন কারণে নির্বাচনী বন্ড প্রকল্পকে অসংবিধানিক বলল শীর্ষ আদালত? জানতে হলে ক্লিক করুন
বাংলার জনরব ডেস্ক : ২০১৮ সালে মোদি সরকার যে নির্বাচনী বন্ড প্রকল্প চালু করেছিল তাকে ‘অসাংবিধানিক’ বলে উল্লেখ করে তা ‘বাতিল’ করা উচিত বলে বৃহস্পতিবার রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন দেশের বিরোধী দলের নেতারা। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ নির্বাচনী বন্ড প্রকল্প বাতিলের সুপারিশ করে।
সুপ্রিম কোর্ট কী কী কারণ দেখিয়ে নির্বাচনী বন্ড প্রকল্প বাতিল করার সুপারিশ করল শীর্ষ আদালত?
প্রথমত, এই নির্বাচনী বন্ড প্রকল্পটিকে অসংবিধানিক বলে শীর্ষ আদালত মনে করছে। বৃহস্পতিবার এই মামলার রায়দানের সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘‘এই প্রকল্প অসাংবিধানিক। তাই এটি বাতিল করা উচিত। এই প্রকল্প নাগরিকদের তথ্যের অধিকার আইন লঙ্ঘন করে। এ ছা়ড়াও এই প্রকল্পের মাধ্যমে সংবিধানের ১৯(১)(ক) অনুচ্ছেদের অধীনে বাক্ এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতাও লঙ্ঘন করে।’’
দ্বিতীয়তঃ সুপ্রিম কোর্ট এর মতে, যে ব্যাঙ্কগুলি নির্বাচনী বন্ড দিত, তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। সেই সঙ্গে নির্বাচনী বন্ডের মাধ্যমে জমা পড়া অনুদানের বিশদ তথ্য জাতীয় নির্বাচন কমিশনের হাতে তুলে দিতে হবে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়াকে (এসবিআই)।
তৃতীয়ত, প্রধান বিচারপতি বৃহস্পতিবার নির্বাচনী বন্ডকে ‘কুইড প্রো কুয়ো’ বলে মন্তব্য করেছেল। অর্থাৎ কোনও কিছুর বিনিময়ে কাউকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়া। সুপ্রিম কোর্ট বলে, রাজনৈতিক দলগুলিতে আর্থিক অনুদান দু’টি পক্ষের জন্য তৈরি করা হয়। রাজনৈতিক দলগুলিকে সমর্থন করার জন্য নয়তো ‘কুইড প্রো কুয়ো’ উপায়ে অবদান রাখার জন্য।
চতুর্থত, প্রধান বিচারপতি মতে, ‘‘সর্বজনীন নীতি পরিবর্তন করার ক্ষেত্রে শুধু রাজনৈতিক দলগুলির অবদান থাকতে পারে না। এক জন ছাত্র বা এক জন দিনমজুরও অবদান রাখেন।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় এক জন ব্যক্তির থেকে কোনও সংস্থার অংশগ্রহণ অনেক বেশি প্রভাব ফেলে। কোম্পানি আইনের ১৮২ নম্বর সংশোধন করে কোনও কোম্পানি এবং ব্যক্তিকে একই স্তরে নিয়ে আসা স্বেচ্ছাচারিতা।’’
পঞ্চমত, ভোটে কালো টাকার খেলা বন্ধ করার কথা বলে নির্বাচনী বন্ড চালু করেছিল মোদী সরকার। সুপ্রিম কোর্ট এই প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার বলে, ‘‘নির্বাচনী বন্ড প্রকল্প কালো টাকা আটকানোর একমাত্র উপায় হতে পারে না। অন্য অনেক বিকল্প রয়েছে।’’
রাজনৈতিক দলগুলি নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে সেই বন্ড ভাঙিয়ে নিতে পারবে। কিন্তু কে, কত টাকা দিচ্ছেন, তা বোঝা যাবে না। নির্বাচনী বন্ড চালু হওয়ার পর বিষয়টির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সেই নিয়ে করা মামলায় ‘ঐতিহাসিক’ রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট।

