বিজেপি সাংসদের বিরুদ্ধে সরব কুস্তিগীররা, রাষ্ট্রীয় পদক ছাড়ার হিড়িক সাক্ষী মালিক বজরং পুনিয়ার পর এবার বিনেস ফোকাট, প্রধানমন্ত্রীকে লিখলেন খোলা চিঠি?
বাংলার জনরব ডেস্ক : মহিলা কুস্তিগীরদের যৌন হেনস্তার প্রতিবাদে বিজেপি নেতা ও সাংসদ ব্রীজ ভূষণ এর শাস্তির দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের ভারতীয় কুস্তিগীররা আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন। সম্প্রতি ভারতীয় কুস্তি সংস্থার নতুন যে কমিটি গঠিত হয়েছে সেই কমিটির প্রধান হয়েছেন বিজেপি সাংসদ ব্রিজ ভূষণ এর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি সঞ্জয় সিংহ। এর প্রতিবাদে অলিম্পিকে পদকজয়ী কুস্তিগীর এবং বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও এর হরিয়ানার ব্রান্ড অ্যাম্বাসাডর সাক্ষী মালিক কুস্তি না লড়ার সিদ্ধান্ত জানান সাংবাদিক সম্মেলন করে।
এরপরই আরেক আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কুস্তিগীর বজরং পুনিয়া পদ্মশ্রী পুরস্কার ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলেন এবং তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে পদ্মশ্রী পদক ফিরিয়ে দিতে যাওয়ার সময় পথে পুলিশ আটকালে তিনি রাস্তাতেই পদ্মশ্রী পদক রেখে বাড়ি ফিরে আসেন। এই পরম্পরা যখন চলছে সরকার যখন অস্বস্তিতে ঠিক সেই সময় সরকার নির্বাচিত কমিটিকে সাময়িকভাবে সাসপেন্ড করে রাখে। কেন্দ্রীয় ক্রীড়া দফতর এই সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানা গেছে।

নির্বাচিত কমিটিকে সাসপেন্ড করার পর অনেকেই ভেবেছিলেন সমস্যার হয়তো সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু তা হলো না আর এক কুস্তিগীর বিনেস ফোগাট প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে খোলা চিঠি লিখে ভারত সরকারের দেয়া খেলরত্ন এবং অর্জুন পুরস্কার ফিরিয়ে দেওয়ার ঘোষণা করেছেন।
মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীকে একটি চিঠি লিখে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে বিনেশ। তিনি জানিয়েছেন, কমনওয়েলথ ও এশিয়ান গেমসে সোনা জিতেছেন তিনি। তাঁর খেলার জন্য খেলরত্ন ও অর্জুন পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়েছে তাঁকে। কিন্তু ভারতের কুস্তি সংস্থায় দুর্নীতি কমছে না। যে ব্রিজভূষণ শরণ সিংহের বিরুদ্ধে এত দিন প্রতিবাদ করে তাঁকে গতি থেকে তাঁরা সরালেন সেই ব্রিজভূষণেরই ঘনিষ্ঠ সঞ্জয় সিংহ ফেডারেশনের নতুন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। তারই প্রতিবাদ হিসাবে নিজের দুই সম্মান ফিরিয়ে দিতে চাইছেন তিনি।
গত বৃহস্পতিবার ভারতীয় কুস্তি ফেডারেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন সঞ্জয়। তিনি যৌন হেনস্থায় অভিযুক্ত কুস্তিকর্তা ব্রিজভূষণের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। তার পরেই প্রতিবাদে কুস্তি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন সাক্ষী মালিক। সেই সিদ্ধান্ত জানাতে গিয়ে কেঁদে ফেলেছিলেন অলিম্পিক্স পদকজয়ী কুস্তিগির। আর এক পদকজয়ী কুস্তিগির বজরং ‘পদ্মশ্রী’ ফেরানোর সিদ্ধান্ত নেন।
বজরং পরে সাংবাদিকদের বলেন, “আগেই বলেছিলাম, আমি আমার মেয়ে এবং বোনেদের বাঁচানোর জন্য লড়াই করছি। ওদের ন্যায়বিচার এখনও দিতে পারিনি। তাই আমার মনে হয় আর এই সম্মানের যোগ্য নই আমি। এখানে এসেছি নিজের সম্মান ফিরিয়ে দিতে। তবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে পারিনি কারণ আগে থেকে কিছু জানিয়ে আসিনি। প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সূচি রয়েছে। তাই প্রধানমন্ত্রীকে যে চিঠি লিখেছি, তার উপরেই পদকটা রেখে দিচ্ছি। এই পদক আর বাড়ি নিয়ে যেতে চাই না।”
গত শুক্রবার বিকালে বজরং সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে জানান যে, তিনি পদ্মশ্রী ফিরিয়ে দিচ্ছেন। বজরং তাঁর বার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে লেখেন, “আমি আমার পদ্মশ্রী সম্মান ফিরিয়ে দিচ্ছি। আপনি নিশ্চয়ই বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত, তবুও আপনাকে লিখতে বাধ্য হচ্ছি। কারণ দেশের কুস্তিগিরদের সঙ্গে এমন অনেক কিছু ঘটছে যার প্রতি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করা জরুরি।”
বজরং তাঁর চিঠিতে এই বছর জানুয়ারি থেকে ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে যে প্রতিবাদ তাঁরা শুরু করেছিলেন, সেটার উল্লেখ করেন। ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে যৌন নিগ্রহের অভিযোগ ছিল কুস্তিগিরদের। দিল্লির যন্তর মন্তরের সামনে ধর্না দিয়েছিলেন বজরংরা। তিনি বলেন, “আমরা প্রতিবাদ বন্ধ করেছিলাম, কারণ সরকার আমাদের কথা দিয়েছিল ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু তিন মাস কেটে গেলেও এফআইআর হয়নি। আমরা আবার প্রতিবাদ শুরু করি। কিন্তু জানুয়ারিতে ১৯টি অভিযোগ থাকলেও তা কমে আসে সাতে। এটা প্রমাণ করে যে ব্রিজভূষণ কতটা প্রভাবশালী। ১২ জন কুস্তিগির প্রতিবাদ করা বন্ধ করে দেন।”

