কলকাতা 

আগামী লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে নিজের শক্তিতেই লড়তে হবে বিজেপিকে, রাজনৈতিক লড়াইয়ের মাধ্যমে পরাস্ত করতে হবে তৃণমূলকে, দলের প্রথম সারির নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বললেন অমিত শাহ

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : কেন্দ্রের সাহায্য নয়, বরং এ রাজ্যে বিজেপিকে লড়তে হবে নিজের সাংগঠনিক শক্তি দিয়ে! মঙ্গলবার কলকাতা সফরে এসে রাজ্য বিজেপির নেতৃত্বকে একথায় বলে গেলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

সোমবার মধ্যরাতে কলকাতায় আসেন শাহ। তাঁর সঙ্গেই আসেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নড্ডা। সকালে বড়বাজারের গুরুদ্বার এবং কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিতে যান দু’জনে। সঙ্গে ছিলেন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এর পরে দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত মধ্যাহ্নভোজ এবং বৈঠক চলে নিউ টাউনের হোটেলে। সেখানে মূলত ডাকা হয়েছিল রাজ্য বিজেপির সাংগঠনিক বিষয় যাঁরা দেখেন তাঁদের। সুকান্ত, শুভেন্দু ছাড়াও ছিলেন পাঁচ সাধারণ সম্পাদক। উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) অমিতাভ চক্রবর্তী এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) সতীশ ধন্দ।

Advertisement

বর্তমানে কোনও সাংগঠনিক দায়িত্বে না থাকলেও ডাক পেয়েছিলেন দুই প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি রাহুল সিংহ এবং দিলীপ ঘোষ। বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, লোকসভা নির্বাচনের আগে এই বৈঠকে কারা আসবেন, তা শাহ-নড্ডাই ঠিক করে দিয়েছিলেন। রাহুল এবং দিলীপকে ডাকার মধ্যে দিয়ে তাঁরা বুঝিয়ে দিয়েছে, দলের খারাপ সময়ে লড়াইয়ের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নেতাদেরও গুরুত্ব দেওয়া হবে লোকসভা নির্বাচনে। প্রসঙ্গত, রাহুল রাজ্য সভাপতি থাকার সময়ে ২০১৪ সালে বাংলা থেকে দু’টি আসনে জেতে বিজেপি। আর দিলীপের জমানায় ১৮টি আসন পায়। বিধানসভা নির্বাচনেও ৭৭ আসনে জয় এসেছিল দিলীপের সময়ে।

বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠকে উপস্থিত সকলেরই মতামত শুনেছেন শাহ ও নড্ডা। লোকসভা নির্বাচনে কী কী করা দরকার, তা নিয়ে সকলের পরামর্শও শুনতে চান তাঁরা। তবে এটাও স্পষ্ট করে দেন যে, শুধু পরামর্শ দিলেই হবে না। কাজ করে দেখাতে হবে সবাইকে। নেতারা কাজ না করলে কর্মীরা পথে নামবেন না বলেও বুঝিয়ে দেন শাহ। একই সুর ছিল নড্ডারও। অতীতে শাহ রাজ্য এসে বার বার বুথ স্তরের সংগঠন মজবুত করার নির্দেশ দিয়ে গিয়েছেন। গত বিধানসভা নির্বাচনের সময়েও কেন্দ্রীয় সরকারের উপর ‘নির্ভরতা’ কমিয়ে বুথে বুথে সংগঠন মজবুত করতে বলেছিলেন শাহ। দিল্লির নির্দেশে রাজ্যে ‘মেরা বুথ, সব সে মজবুত’ কর্মসূচিও নেওয়া হয়েছিল। এ বারেও ‘বুথ সশক্তিকরণ’ কর্মসূচি দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সে ‘কাজ’ কতটা হয়েছে, তার হিসাবও শাহ-নড্ডা মঙ্গলবারের বৈঠকে চেয়েছেন বলে খবর। রাজ্য নেতারা সে হিসাব দিয়েছেন। তবে বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতার মতে, তাতে দুই শীর্ষনেতা খুব খুশি হননি। পরে দিল্লিতে বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পরেই রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব তড়িঘড়ি বুধবারেই নিজেদের মধ্যে বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

মঙ্গলবারের বৈঠকে বাংলার দায়িত্বপ্রাপ্ত চার কেন্দ্রীয় নেতা সুনীল বনসল, মঙ্গল পাণ্ডে, অমিত মালব্য এবং আশা লাকড়াও ছিলেন। বাংলায় লোকসভা নির্বাচনের বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে এই চার জনই যে যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেবেন, বৈঠকে তা-ও জানিয়ে দেন শাহ-নড্ডা। তবে বারে বারেই তাঁরা বুঝিয়ে দিয়েছেন, বাংলার লড়াই রাজ্য বিজেপিরই! বৈঠকে উপস্থিত এক নেতার কথা অনুযায়ী শাহ এমনও বলেন যে, তৃণমূলকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে রাজনৈতিক ভাবেই। সেই রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। রাতারাতি কোনও বদল সম্ভব নয়। এমনটা আশা করাও ঠিক নয়!

দলের প্রথম সারির ১৫ জন নেতার সঙ্গে অমিত শাহের এই বৈঠকে এটা প্রমাণিত হয়েছে যে বিজেপিকে এবার লড়তে হবে সাংগঠনিক শক্তির জোরে। ইডি সিবিআই পাঠিয়ে তৃণমূল নেতাদের কে ভয় দেখানোর যে প্রক্রিয়া, দিল্লি নেতৃত্ব নিয়েছেন তা যে বাংলাতে বুমেরাং হবে সে বিষয়ে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই । এটা খুব ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছেন অমিত শাহ সেজন্যেই রাজ্য নেতৃত্বকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন সাংগঠনিক শক্তির জোরে নির্বাচনে লড়াই করতে হবে।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ