সংসদের বাইরে নকল অধিবেশন বিরোধীদের !
বাংলার জনরব ডেস্ক : দেশের শাসক দলকে অনেক বেশি সহিষ্ণু হতে হয় । কিন্ত শীতকালীন অধিবেশনে শাসক দল যেভাবে একের পর এক বিরোধী সাংসদকে বহিস্কার করেছে তাতে গণতান্ত্রিক শিষ্টাচার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে । ৭৭ বছরের ইতিহাসে বিরোধী সাংসদদের এভাবে বের করে দেওয়ার নজীর খুব বেশি নেই । সংসদকে বিরোধী শুন্য করে দেওয়ার নেপথ্যে কোনো বিশেষ কারণ আছে কিনা তা এখনও ষ্পষ্ট নয় । চলতি অধিবেশনে ১৪১ জন সাংসদকে সংসদের দুই কক্ষ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে যা এক কথায় নজীরবিহীন ।
আর মঙ্গলবার ৪৯ জন সাংসদকে বহিস্কার পর বিরোধীরা সংসদের বাইরে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন । বহিস্কার করা হয়েছে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো বর্ষীয়ান সাংসদকে । তা নিয়ে সংসদভবনের বাইরে বিক্ষোভে শামিল হয়েছেন বিরোধী শিবিরের সাংসদরা। মঙ্গলবার সেই বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সেখানে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান ধনকড়কে অনুকরণ করে দেখাচ্ছিলেন তিনি।
বিক্ষোভস্থল থেকে যে ভিডিও সামনে এসেছে, তাতে ধনকড়ের মতো অঙ্গভঙ্গি করে কল্যাণকে বলতে শোনা যায়, ‘আমার মেরুদণ্ড এত সোজা, আমি এত লম্বা…’। সেই সময় কল্যাণকে ঘিরে বাকি সাংসদরাও দাঁড়িয়ে ছিলেন। সামনে থেকে গোটা ঘটনাক্রম ক্যামেরাবন্দি করছিলেন রাহুল। সেই দৃশ্য সামনে আসতেই ক্ষোভপ্রকাশ করেন ধনকড়। কল্যাণ এবং তাঁর ভিডিও ক্যামেরাবন্দি করা রাহুলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন ধনকড়। তাঁর বক্তব্য, “চেয়ারম্যানকে নকল করা, স্পিকারকে নকল করা, অত্যন্ত লজ্জাজনক ঘটনা, একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। একজন সাংসদ নকল করছেন, আর অন্য জন ভিডিও ক্যামেরাবন্দি করছেন, অত্যন্ত লজ্জাজনক ঘটনা। অধঃপতনের একটা সীমা আছে। সদবুদ্ধি হোক।”https://twitter.com/BJP4India/status/1737016579286827092?ref_src=twsrc%5Etfw%7Ctwcamp%5Etweetembed%7Ctwterm%5E1737016579286827092%7Ctwgr%5E0b0bbc8d2e4d424386f26695336ec983fda38efc%7Ctwcon%5Es1_c10&ref_url=https%3A%2F%2Fbengali.abplive.com%2Fnews%2Fparliament-winter-session-kalyan-banerjee-mimics-jagdeep-dhankhar-parliament-premises-rahul-gandhi-watch-1032680
বিজেপি-র তরফেও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করা হয়। তাদের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলে লেখা হয়, ‘কেন বিরোধী সাংসদদের সাসপেন্ড করা হল, তা নিয়ে দেশের মানুষের মনে যদি ধন্দ থাকে, এই হল কারণ… তৃণমূল সাংসদ সম্মানীয় উপরাষ্ট্রপতিকে বিদ্রুপ করেছেন এবং রাহুল গাঁধী সানন্দে তাঁকে উৎসাহিত করেছেন। এ থেকেই বোঝা যায়, সংসগে কতটা বেপরোয়া আচরণ ছিল এঁদের’।
এই ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিজেপি-র নেতা-মন্ত্রীরাও। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, ‘মানুষ কতটা নামতে পারে? দেশের সম্মানীয় উপরাষ্ট্রপতিকে নকল করছেন সাংসদ। রাহুল গাঁধী তাঁকে উৎসাহ জোগাচ্ছেন এবং নিন্দনীয় এই ঘটনাকে ক্যামেরাবন্দি করছেন’।
তবে ক্ষমতার জোরে মোদী সরকার যা করছে তা দেশের মানুষ লক্ষ্য রাখছে বলে বিরোধীদের দাবি । সংসদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে যেভাবে একের পর এক সাংসদকে বহিস্কার করা হয়েছে তাতে আর যাইহোক এটা স্পষ্ট হয়েছে মোদী সরকার সংসদের নিরাপত্তা নিয়ে আদৌ ভাবিত নয় । আর এর ফলে, তিন রাজ্যে বিজেপির জয়ে যেভাবে উৎসাহিত দেখাচ্ছিল বিজেপিকে ঠিক ততটাই ব্যাকফুটে চলে গেল বিজেপি । এরফলে বিরোধী শিবির অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সুযোগ পেয়ে গেল । ঠান্ডা মাথায় এই ঘটনার মোকাবিলা করলে গনতান্ত্রিক শিষ্টাচার নিয়ে বিজেপিকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হতো না ।

