শীতকালীন অধিবেশনে সংসদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ১৪১ জন বিরোধী সাংসদ সাসপেন্ড, পুলিশ রাষ্ট্রের পথে দেশ অভিযোগ বিরোধীদের
বাংলার জনরব ডেস্ক : স্বাধীন ভারতে বেনজীর ঘটনা ঘটলো সংসদে । বিরোধী সাংসদদের লোকসভা ও রাজ্যসভা বয়কট দেখেছে দেশ । স্বাধীনতার ৭৭ বছর দেশ দেখলো সংসদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অপরাধে একের পর এক বিরোধী সাংসদকে অধিবেশন কক্ষ থেকে বের করে দিচ্ছেন অধ্যক্ষ যা এক কথায় গণতান্ত্রিক শিষ্টাচার বিরোধী । গত সপ্তাহে দুই কক্ষের ১৫ জন বিরোধী সাংসদ, সোমবার দুই কক্ষের ৭৮ জন , আর আজ মঙ্গলবার লোকসভার ৪৯ জন বিরোধী সাংসদকে সাসপেন্ড করলেন স্পিকার ওম বিড়লা। এদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এরা সকলেই সংসদের কাজে বাধা দিয়েছেন এবং হট্টগোল করেছেন। কিন্ত বিরোধী সাংসদরা হইচই তো করবেই তা বলে সাসপেন্ড ।
মঙ্গলবার সাসপেন্ড হওয়া সাংসদদের তালিকায় রয়েছেন তৃণমূলের মালা রায়, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। কংগ্রেসের শশী তারুর, কার্তি চিদম্বরম, এনসিপির সুপ্রিয়া সুলে, এনসি-র ফারুক আবদুল্লা, এসপির ডিম্পল যাদব, ডিএমকে-র এস সেন্থিলকুমার, বিএসপির সাসপেন্ড হওয়া সাংসদ দানিশ আলি, আপের সুশীল কুমার রিঙ্কু প্রমুখ। সংসদের ভিতরে অভব্য আচরণ, সংসদের গরিমা নষ্ট এবং স্পিকারকে অবমাননার অভিযোগে এই সাংসদদের সাসপেন্ড করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। সাসপেন্ড করার প্রস্তাবটি লোকসভায় পেশ করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অর্জুনরাম মেঘওয়াল।
সাংসদদের সাসপেন্ড করার প্রসঙ্গে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী বলেন, “স্থির হয়েছিল যে সংসদে প্ল্যাকার্ড আনা যাবে না। কিন্তু নির্বাচনে হারার পরে তাঁরা (বিরোধী সাংসদ) মরিয়া হয়ে এই ধরনের পদক্ষেপ করছেন। তাই আমরা এই (সাসপেন্ড করার) প্রস্তাব আনছি।”
গত বুধবার লোকসভায় রংবোমা হানার ঘটনার পর থেকেই সংসদ ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অধিবেশনে সরব হয়েছেন বিরোধীরা। গত সপ্তাহের পর সোমবারও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিবৃতির দাবিতে ওয়েলে নেমে স্লোগান তোলেন তাঁরা। মঙ্গলবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত মোট ১৪১ জন সাংসদ সাসপেন্ড হলেন। শুক্রবার পর্যন্ত সংসদের শীতকালীন অধিবেশন চলার কথা। তার আগে কার্যত বিরোধীশূন্য হয়ে গেল সংসদের দুই কক্ষই।
সোমবার সাসপেন্ড হওয়া সাংসদদের তালিকায় ছিলেন লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীর চৌধুরী। ছিলেন বাংলার অনেক তৃণমূল সাংসদও। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, অপরূপা পোদ্দার, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, সুনীল মণ্ডল, সৌগত রায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, প্রতিমা মণ্ডল, অসিত মাল, শতাব্দী রায়কে সাসপেন্ড করেন স্পিকার। এ ছাড়া এই তালিকায় ছিলেন ডিএমকের তিন সাংসদ টিআর বালু, এ রাজা এবং দয়ানিধি মারান।

