জেলা 

ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট নেই ! গ্রামের কয়েকশো মানুষের নামে এলো এটিএম কার্ড! নেপথ্যে রহস্য কি?

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : গ্রামের কারোরই ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট নেই তারপরেও চলে এলো এটিএম কার্ড। না এই এটিএম কার্ড কোন নতুন গ্রাহকের নয় বরং পুরানো গ্রাহকের এটিএম কার্ডের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার জন্য নতুন এটিএম কার্ড পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় এলাকার মানুষ বিস্মিত। বর্ধমান জেলার খণ্ডঘোষ থানার কালনা গ্রামে এরকমই আশ্চর্য এটিএম কার্ড ঘিরে এলাকাবাসীর মনের দ্বিধা দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে।

ওই গ্রামের একজন দুজনের নয় কয়েকশো ব্যক্তির নামে এটিএম কার্ড এসেছে। আর এই এটিএম কার্ড ক্যুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ডেলিভারি হওয়ার সময় বিষয়টি সকলের নজরে পড়ে যায়। এটিএম কার্ডের গ্রাহকের নাম ঠিকানা সঠিক থাকলেও মোবাইল নম্বরটা সঠিক ছিল না। তাই কুরিয়ারের ডেলিভারি বয় যখন এই এটিএম ডেলিভারি করতে চাই তখনই বিষয়টি সামনে এসে যায়। আর এই ঘটনায় হতচকিত গ্রামবাসী ছুটে যায় বর্ধমান শহরে এক বেসরকারি ব্যাংকে। এই ব্যাঙ্কে তারা কোন অ্যাকাউন্ট খোলে নি তারপরেও কিভাবে কার া এই অ্যাকাউন্ট খুলেছে তা জানতে গেলে প্রথমে ব্যাংকের কর্তৃপক্ষ কাউকে পাত্তা দেয়নি। তারপর আরো বেশি লোক জানতে গেলে তখন বাধ্য হয়ে বলা হয় যে এই এখানে আপনাদের সকলের অ্যাকাউন্ট ছিল তাই এটিএম কার্ড পাঠানো হয়েছে।

Advertisement

আর এরপরেই শুরু হয়েছে এলাকার জুড়ে চাঞ্চল্য কারা বেসরকারি ব্যাংকে গ্রামের চাষা ভুষদের নামে  আকাউন্ট খুললো তা নিয়েই শুরু হয়েছে জোর জল্পনা শুধু তাই নয় অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য যে ছবি দরকার হয় আধার কার্ডের দরকার হয় তাও ওই ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়েছে। আর এ নিয়ে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে সিপিএম এবং বিজেপি দুজনেই বলেছে এর নেপথ্যে রয়েছে শাসকদলের কারসাজি। শাসক দলের নেতারা সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা সরানোর লক্ষ্যে এই ধরনের অ্যাকাউন্ট খুলেছে।

ওই গ্রামের বাসিন্দা রামকৃষ্ণ চক্রবর্তী বলেন, ‘‘বলা হয়, আমাদের নাকি অ্যাকাউন্ট আছে ওই ব্যাঙ্কে! তাই গ্রাহকদের নামে এটিএম কার্ড এসেছে। আরও অদ্ভুত ব্যাপার হল, এটি প্রথম কার্ড নয়। প্রথম বার এটিএম কার্ডের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয় বার যে এটিএম কার্ড ইস্যু হয়, তাই এসেছে!’’ গ্রামবাসীদের স্পষ্ট দাবি, তাঁরা কোনও দিনই ওই বেসরকারি ব্যাঙ্কের শাখায় কোনও অ্যাকাউন্ট খোলেননি। না চাইতেই পাওয়া এটিএম কার্ড ফেরাতে ওই বেসরকারি ব্যাঙ্কের সিটি টাওয়ার শাখাতে হাজির হন কয়েক জন গ্রামবাসী। গ্রামবাসী শেখ মতিউর রহমান বলেন, ‘‘আমরা কয়েক জন মিলে ব্যাঙ্কের শাখায় গেলে প্রথমে কর্তৃপক্ষ কোনও পাত্তাই দেননি। পরে আরও বেশি লোক নিয়ে ব্যাঙ্কে যাই। তখন ব্যাঙ্কের ম্যানেজার জানান, আমাদের নামে নাকি এখানে অ্যাকাউন্ট আছে! তাই এটিএম কার্ড গিয়েছে বাড়িতে।’’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গ্রামবাসী বলেন, ‘‘আরও জানতে পারি, গত কয়েক বছরে এক এক জনের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মোটা টাকার লেনদেন হয়েছে। অথচ আমরা গ্রামের মানুষ পুরোপুরি অন্ধকারে।’’

অ্যাকাউন্ট যে তাঁদেরই, তা বোঝাতে ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে পাসবুকে তাঁদের ছবিও দেখানো হয়। যা দেখে চমকে যান গ্রামবাসীরা। মতিউর বলে চলেন, ‘‘সে-ও এক অদ্ভুত! কেউ মাঠে একশো দিনের কাজ করছেন, কেউ বাড়িতে রান্না করছেন, আবার কেউ গোয়ালে কাজ করছেন— সেই অবস্থার ছবি দিয়ে ব্যাঙ্কে নাকি আমরা অ্যাকাউন্ট খুলেছি!’’ গ্রামবাসীরা এর পর প্রশাসনের কাছে লিখিত ভাবে অভিযোগ জানান। তবে তাতে এখনও পর্যন্ত কোনও কাজ হয়নি বলে দাবি তাঁদের। পাঁচ মাস ধরে তদন্তই কেবল চলছে!

বিরোধীদের অভিযোগ, গোটা ঘটনায় শাসকদলের নেতারা জড়িত। তাঁরাই এই কারসাজি করছেন।

খণ্ডঘোষ ব্লক তৃণমূলের সভাপতি তথা জেলা পরিষদের অধ্যক্ষ অপার্থিব ইসলাম বলেন, ‘‘এই ধরনের কোনও ঘটনার কথা জানা নেই। যদি কিছু হয়ে থাকে তা হলে তদন্তের মাধ্যমে তা প্রকাশ্যে আসবে।’’ জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার বলেন, ‘‘অভিযোগ জমা পড়েছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।’’

তথ্যসূত্র ডিজিটাল আনন্দবাজার।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ