কলকাতা 

স্বাধীনোত্তর ভারতে ধর্মীয় শিক্ষার সঙ্গে আধুনিক শিক্ষার মেলবন্ধন তৈরি করেছিলেন মৌলানা আবুল কালাম আজাদ : সরদার আমজাদ আলী

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি : মৌলানা আবুল কালাম আজাদ স্বাধীন ভারতে প্রথম শিক্ষা মন্ত্রী হিসাবে এমন এক শিক্ষা নীতি গ্রহণ করেছিলেন যাতে দেশে মূল্যবোধ সম্পন্ন নাগরিক এবং আধুনিক শিক্ষা সম্পূর্ণ ভবিষ্যৎ দেশে গড়ে ওঠে।  নিজে একজন আরবি শিক্ষার পাশাপাশি ইসলামিক স্কলার হওয়া সত্ত্বেও আধুনিক শিক্ষার সবকটি স্তর তিনি আত্মস্থ করেছিলেন। ইংরেজি জানতেন। তিনি ফিজিক্স জানতেন। তিনি কেমিস্ট্রি জানতেন। তিনি গণিত জানতেন। সবকটি বিষয়ে তিনি পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন। সেই জন্যেই স্বাধীন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী হিসাবে তাকে বেছে নিয়েছিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহেরু। আজ শনিবার ১১ই নভেম্বর মৌলানা আবুল কালাম আজাদের জন্মদিন উপলক্ষে জাতীয় শিক্ষা দিবসে সাতঘরা হাই মাদ্রাসায় এক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের প্রবীণ আইনজীবী ও প্রাক্তন সাংসদ সরদার আমজাদ আলী এ কথাগুলি বলেন।

তিনি এদিন মৌলানা আবুল কালাম আজাদের স্মরণে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তাকে এ যুগের একজন মনিষী বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন ২০০ বছরের ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত হওয়ার পর পরাধীনতার শৃংখল ভেঙ্গে স্বাধীন হওয়ার পর এদেশের শিক্ষার গোড়পত্তনের দায়িত্ব যাকে দেওয়া হয়েছিল তিনি ছিলেন একজন আরবি শিক্ষায় শিক্ষিত ইসলামী পন্ডিত। দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী এরকম একজন মানুষকে শিক্ষা মন্ত্রী হিসাবে বেছে নেওয়ার নেপথ্যে নিশ্চয়ই বিশেষ কোনো কারণ ছিল। মৌলানা আবুল কালাম আজাদ একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী ছিলেন একইসঙ্গে তিনি ছিলেন ইসলামিক স্কলার। কিন্তু আমরা কি দেখলাম ভারত স্বাধীন হওয়ার পরে প্রথম শিক্ষামন্ত্রী হিসাবে তিনি এদেশে এমন এক শিক্ষানীতি গ্রহণ করলেন যেখানে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হলো।

ধর্মীয় শিক্ষা যে মূল্যবোধের শিক্ষা দেয় সেই শিক্ষার যেমন গুরুত্ব রয়েছে একই সঙ্গে আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞান গণিত ইতিহাস ভূগোলের পাঠকেও তিনি গুরুত্ব দিলেন। তিনি এমন এক এদেশে নেতৃত্ব গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন যারা কারো মুখাপেক্ষী থাকবে না। সোজা কথা সোজা ভাষায় বলতে পারবেন। মৌলানা আবুল কালাম আজাদ দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর সব কথাতে সায় মেলাতেন না। তিনি প্রধানমন্ত্রীর মুখের উপরে বলে দিতে পারতেন এটা আপনার ভুল হচ্ছে। যা আজকের দিনে কল্পনা করা যায় না। মৌলানা আবুল কালাম আজাদের এই গুণের জন্যই আজ তাকে নিয়ে আমাদেরকে আলোচনা করতে  হচ্ছে।

৭৭ বছর আগে তিনি যে শিক্ষা বুনিয়াদ স্থাপন করে গেছেন স্বাধীন ভারতে তাকে এখনো অস্বীকার করা যাবে না। তিনি যে আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে মূল্যবোধের শিক্ষাকে সংযুক্ত করে বিশ্বের সামনে নতুন শিক্ষানীতি এনেছিলেন তাকে এখনো পর্যন্ত কেউ অস্বীকার করতে পারবেন না! তিনি এদিন বলেন, আমাদের ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এ বিষয়ে এগিয়ে আসতে হবে। মৌলানার আদর্শকে আমাদের সকলের মধ্যে সঞ্চারিত করতে হবে। দেশপ্রেমকে সঞ্চারিত করতে হবে।

এদিনের আলোচনার সভায় বিশেষ অতিথির ভাষণে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জনাব জাফর সাদিক বলেন, শিক্ষাকে আমাদেরকে আত্মস্থ করতে হবে। ইসলামী শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষাকে আমাদেরকে গ্রহণ করতে হবে। সরকার পরিচালিত স্কুলগুলোতে পড়াশুনা হয় না। এটা ঠিক কথা নয় কারণ এখানে বিশেষজ্ঞ শিক্ষকরা থাকেন তুলনায় বেসরকারি স্কুলে এগুলো পাওয়া যায় না। কিন্তু আমাদের একটা প্রবণতা হয়েছে বেসরকারি স্কুলের ছেলেমেয়েদেরকে পড়ানো। কিন্তু আমি মনে করি সরকারি স্কুলে পড়লেই ছেলে মেয়েরা ভালো জানতে পারবে বুঝতে পারবে একটু সচেতন হলে। মৌলানা আবুল কালাম আজাদ সেজন্যেই দেশজুড়ে সরকারি স্কুল কলেজ মাদ্রাসা তৈরির জন্য উদ্যোগ নিয়েছিলেন বলে জাফর সাদিক এদিন মন্তব্য করেন।

এদিনের অনুষ্ঠানে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিয়ান নাসিমা খাতুনের কাজী নজরুল ইসলামের ইসলামি গান সকলকে মুগ্ধ করে। অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাতঘরা হাই মাদ্রাসার পরিচালন সমিতির সভাপতি গোলাপ রহমান, সহ সভাপতি শাহাজাদি মেহতাব, পরিচালন সমিতির সদস্য, আসলাম আলী খান, মেহতাব উদ্দিন, নিজামুদ্দিন, শিক্ষক শেখ মনির উদ্দিন, শিক্ষক কুতুব উদ্দিন মোল্লা, শিক্ষিকা খোদেজা খাতুন, সানজিদা খাতুন, সিরাজুল ইসলাম, সান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় সমীরন জানা প্রমুখ। এদিনের সভায় সভাপতিত্ব করেন মাদ্রাসার পরিচালন সমিতির সম্পাদক সেখ নূরনবী। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সেখ ইবাদুল ইসলাম ও শিক্ষক ওয়ালিউল ইসলাম।

 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ