জেলা 

বিদ্যুৎহীন হয়ে গেল বিশ্বভারতী, বিদায় বেলাতেও ক্ষোভ অব্যাহত!

শেয়ার করুন

সেখ ইবাদুল ইসলাম : শেষ চেষ্টা করেছিলেন পদে টিকে থাকার জন্য। এমনকি দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নামে ফলকও লাগিয়েছিলেন। প্রতিষ্ঠাতাকে বাদ দিয়ে। প্রতিষ্ঠাতা কে? বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। বাঙালির আইকন বাঙালি সংস্কৃতির অন্যতম ধারক বাহক রবীন্দ্রনাথকে বাদ দিয়ে অন্যের নামে বিশ্বভারতীতে ফলক এটা আর যাই হোক এই রাজ্যের বাঙালি সমাজ যে মেনে নেবে না, সেটা হয়তো বুঝে উঠতেই পারেননি বিদ্যুৎ।

শুরু হয়ে গেল আন্দোলন মুখ খুললেন পশ্চিমবাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু বিদ্যুৎ তো আর মাথা ঝোকাবেন না। অতএব তিনি হঠাৎই বিশ্বভারতী থেকে গায়েব হয়ে গেলেন অথচ আটই নভেম্বর ছিল উপাচার্য হিসাবে বিদ্যুতের মেয়াদ শেষ হওয়ার দিন। অনুসন্ধানী মানুষগুলো খোঁজখবর শুরু করে দিল কোথায় গেলেন বিশ্বভারতীর কর্তা! খোঁজ নিয়ে জানা গেল আরও পাঁচ বছরের জন্য বিশ্বভারতীর উপাচার্য হতে চেয়ে তদবির শুরু করেছেন। আমরা সবাই ভাবলাম হয়তো আরএসএসের এই মানসপুত্রকে আরও একবার বিশ্বভারতির দায়িত্ব দেবে মোদি সরকার। কিন্তু এবার মোদি সরকার আর ভুল করেনি কারণ তারা জানত বিশ্বভারতীকে যদি বিদ্যুৎহীন করা না যায় তাহলে পশ্চিমবাংলায় বিজেপির বিদ্যুৎ বলে আর কিছু থাকবে না।

তাই সব চেষ্টা ব্যর্থ হল। দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে রবীন্দ্রনাথের সাধের সম্প্রীতির বিশ্ববিদ্যালয়কে সব রকম ভাবে সাম্প্রদায়িকরণ করার শেষ চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ার পর আর উপাচার্য পদে বসানোর সাহস দেখালো না মোদি সরকার। কারণ বিগত পাঁচ বছর ধরে বিদ্যুৎ চক্রবর্তী রবীন্দ্রনাথের প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ে বসে যে কাজগুলো করে গেছেন যা করেছেন তাতে আর যাই হোক বাঙালি সংস্কৃতির লজ্জা বললে ভুল হবে না।

যাইহোক রবীন্দ্রনাথের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিদায় নিয়েছেন বিদ্যুৎ চক্রবর্তী এটাই এখন এই রাজ্যের বাঙ্গালীদেরকে আশান্বিত করছে। আমরা মনে করছি মোদি সরকার এমন একজনকে স্থায়ী উপাচার্য করে রবীন্দ্রনাথ প্রতিষ্ঠিত বিশ্বভারতীতে পাঠাবেন যিনি অন্তত রবীন্দ্র আদর্শকে কার্যকরী করবেন। তাঁর হৃদয়ের মাঝখানে হয়তো থাকতে পারে গেরুয়া কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে প্রবেশ করার পর সেই গেরুয়া হৃদয়কে যেন অন্য কোথাও বন্ধক দিয়ে আসে এটাই আমরা কামনা করি।

আজ বুধবার ৮ নভেম্বর বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদ থেকে সরে গেলেন অধ্যাপক বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। অর্থাৎ উপাচার্য হিসাবে তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হলো। নতুন করে মেয়াদ বৃদ্ধি না হওয়ার কারণে বিশ্বভারতী থেকে তাকে বিদায় নিতে হলো। অস্থায়ী উপাচার্য হিসেবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন বর্ষীয়ান অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার মল্লিক। তবে আজ শেষ দিনেও বিদ্যুৎ চক্রবর্তীকে ঘিরে বিক্ষোভ রবীন্দ্র অনুরাগীরা বিক্ষোভ দেখাতে পারেন সেই আশঙ্কায় বিশাল পরিমাণে নিরাপত্তা রক্ষী নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে হয়েছে। এটা কষ্টের এটা দুঃখের।

 

 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ