বিনামূল্যে রেশন দেওয়া নিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনে বিধিভঙ্গের অভিযোগ করে কংগ্রেস পাপ করেছে নির্বাচনী সভায় দাবি করলেন নরেন্দ্র মোদি
বাংলার জনরব ডেস্ক : নির্বাচন চলাকালীন সময়ে সাধারণত জনগণকে উপঢৌকন দেয়ার মত কোন ঘোষণা দেশের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা কোন ব্যক্তি করতে পারেন না। কিন্তু আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, প্রতিটি নির্বাচনী সভাতেই বিভিন্ন ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকেন। এবার তিনি ছত্রিশগড়ের ভোট প্রচারে গিয়ে বলেছিলেন যে আগামী পাঁচ বছরের জন্য 80 কোটি মানুষকে বিনামূল্যে রেশন দেয়া হবে আর এই ঘোষণাকে নির্বাচনবিধি ভঙ্গের শামিল মনে করে কংগ্রেস জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ করেছে।
আর এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে আজ মধ্যপ্রদেশের এক নির্বাচনী সভায় গিয়ে নরেন্দ্র মোদির ঠিক উল্টো কথা বললেন। স্বভাব সিদ্ধ ভঙ্গিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেছেন, বিনামূল্যে রেশন দেওয়া নিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনে নির্বাচন বিধি ভঙ্গের অভিযোগ করে কংগ্রেস পাপ করেছে। তাঁর ভাষায়,, ‘‘কংগ্রেস বিনামূল্যে রেশন দেওয়া নিয়ে যদি নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানানোর পাপ করতে চায়, তো করুক। আমি মানুষের ভালর জন্য কাজ করে যাব।’’
পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা ভোট ঘোষণার পরেই মোদী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আগামী পাঁচ বছর ৮০ কোটিরও বেশি মানুষকে বিনামূল্যে রেশন সরবরাহ করবে কেন্দ্রীয় সরকার। শনিবার ছত্তীসগঢ়ে বিধানসভা ভোটের প্রচারে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘‘আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বিজেপি সরকার দেশের ৮০ কোটির বেশি দরিদ্র মানুষকে বিনামূল্যে রেশন দেওয়ার প্রকল্প আরও ৫ বছর বাড়িয়ে দেবে। মানুষের ভালবাসা এবং আশীর্বাদ সব সময় আমাকে পবিত্র সিদ্ধান্ত নেওয়ার শক্তি দেয়।’’
ভোটের প্রচারে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সরকারি কর্মসূচি ঘোষণাকে ‘নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ’ বলে অভিযোগ করেছিল কংগ্রেস। কিন্তু তা খারিজ করে এ বার মধ্যপ্রদেশের জনতাকে আগামী পাঁচ বছর বিনামূল্যে রেশন সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, তাঁর অঙ্গীকার পরবর্তী লোকসভা নির্বাচনে জিতে ভারতকে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম আর্থিক শক্তিতে পরিণত করবেন তিনি। মধ্যপ্রদেশের পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রী কমল নাথের সরকার এবং রাজস্থান ও ছত্তীসগঢ়ের কংগ্রেস সরকার ‘দুর্নীতগ্রস্ত’ বলে অভিযোগ তুলে মোদী বলেন, ‘‘উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসে ওদের মুখ্যমন্ত্রীরা কালো টাকা জমিয়েছেন। তার খোঁজও মিলেছে।’’

