অন্যান্য 

শীর্ষ আদালতের রায়ের পর সমগ্র দেশ জুড়ে কংগ্রেস কর্মীদের উচ্ছ্বাস মোদির বিকল্প এবার রাহুল !

শেয়ার করুন

সেখ ইবাদুল ইসলাম: সুপ্রিম কোর্টে রাহুল গান্ধীর সাজা ওপর স্থগিতাদেশ পাওয়া গেল। গুজরাটের কোন আদালতে রাহুল গান্ধী তাঁর সাজার উপরে স্থগিতাদেশ পায়নি। এই প্রথম দেশের শীর্ষ আদালত গুজরাটের সুরাট এর নিম্ন আদালতের দেওয়া রায়ের উপরে স্থগিতাদেশ দিল। আর এর ফলে মোদি সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করল যত দ্রুততার সঙ্গে রাহুল গান্ধীকে সংসদ থেকে সরিয়ে দিয়েছিল বিজেপি সরকার কিংবা স্পিকার এবার স্পিকারের সামনে অগ্নিপরীক্ষা।

তিনি কি সংসদে ফিরিয়ে আনতে পারবেন রাহুল গান্ধীকে? শীর্ষ আদালতের এই রায়ের পর যদি রাহুল গান্ধীকে সংসদে ফিরিয়ে আনতে স্পিকার ব্যর্থ হন তাতে রাহুলের কোন ক্ষতি নেই। ক্ষতি হবে বিজেপির, ক্ষতি হবে এদেশের গণতন্ত্রের।

Advertisement

শীর্ষ আদালতের এই নির্দেশকে কেন্দ্র করে সমগ্র দেশ জুড়ে কংগ্রেস কর্মীরা উজ্জীবিত। কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত আমজনতার মধ্যে খুশির লহর বিদ্যমান। দিল্লিতে কংগ্রেস দফতরে রাহুল এবং প্রিয়াঙ্কা দুজনই হাজির হন শীর্ষ আদালতের নির্দেশের পর। আসলে রাহুল গান্ধীর ক্ষেত্রে যে সাজা দেওয়া হয়েছে তা যে পরিকল্পিত, বিজেপির নির্দেশে করা হয়েছে তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। বিজেপি চেয়েছিল আদানি ইস্যুতে রাহুল গান্ধী তীব্র ভাষায় মুখ খোলার কারণে তাকে সংসদের বাইরে রাখতে সে জন্যই কয়েক বছর আগের একটি কেসকে সামনে এনে নতুন করে মামলা সাজাতে হয়েছিল বিজেপিকে।

রাহুলের রায় প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই দেশজুড়ে উৎসবে মেতে ওঠেন কংগ্রেস কর্মীরা। কংগ্রেসের দলীয় দফতর বাজতে শুরু করে ঢোল, নাকাড়া। স্লোগান ওঠে মুহুর্মুহু। জয়ধ্বনি চলে রাহুলের নামে। তেমন পরিস্থিতিতে আকবর রোডের কংগ্রেসের সদর দফতরে হাজির হন রাহুল। সঙ্গে বোন প্রিয়ঙ্কা। মুহূর্তে আনন্দের বাঁধ ভাঙে কর্মী-সমর্থকদের। রাহুল, প্রিয়ঙ্কাকে ঘিরে শুরু হয়ে যায় জয়ধ্বনি। উড়তে থাকে আবির। ভেসে আসে ফুলের পাপড়ি। সাদা পোলো টি-শার্ট এবং কালো ট্রাউজার পরিহিত রাহুল হাসিমুখে সামাল দেন সমর্থকদের উচ্ছ্বাস।

পশ্চিমবাংলাও এর ব্যতিক্রম নয়।পশ্চিমবাংলার কংগ্রেসকর্মীরাও রাস্তায় নেমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা গেছে। আসলে রাহুল গান্ধীকে চেপে রাখার যে চেষ্টা করেছিল বিজেপি তা শেষ পর্যন্ত সফল হলো না আমরা সকলেই প্রত্যাশা করেছিলাম সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে রাহুল গান্ধী ন্যায়বিচার পাবেন। তিনি পেয়েছেন তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই।

তবে এ প্রসঙ্গে একটি কথা বলতে হয় মোদী পদবি নিয়ে যে বিতর্কিত মন্তব্য রাহুল গান্ধী করেছিলেন তার সঙ্গে আমরাও একমত নই। তবে রাহুল গান্ধীকে যেভাবে সাজা দেয়া হয়েছিল সেটা নিঃসন্দেহে পরিকল্পিত উদ্দেশ্য প্রণোদিত এবং দেশের সংসদের বাইরে পাঠানোর উদ্দেশ্যেই এ কাজটা যে করা হয়েছিল সে বিষয়ে ভারতবর্ষের কোন নাগরিকের মনে কোন সন্দেহ থাকার কথা নয়। নাহলে মানহানি মামলার ২ বছরই সাজা দেওয়া হবে কেন ? ওই সাজা তো দেড় বছর দেওয়া যেতে পারত ।ওই সাজা তো আঠারো মাস দেওয়া যেতে পারত ।ওই সাজা তো তেইশ মাস দেয়া যেতে পারত ।২৪ মাস কেন? কারন ২৪ মাস সাজা না দিলে সাংসদ পদ কেড়ে নেওয়া যাবে না!

এ নিয়ে হাওড়া জেলার কংগ্রেস নেতা হাফিজুর রহমান বলেছেন, মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আদেশ এ রাহুল গান্ধীর দুই বছরের কারাদণ্ডের উপর স্থগিতাদেশ দিলেন । লোকসভার সাংসদ পদ ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলো, সত্যের জয় চিরকাল হয় । মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট কে কুর্নিশ জানাই কংগ্রেস দল রাস্তায় নেমে চিরকাল সংঘর্ষ করে এবং আগামী ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতবর্ষ থেকে জয়লাভ করবে ।

রাহুল গান্ধীর সাজার উপর স্থগিতাদেশ দেওয়ার পর সমগ্র দেশ জুড়ে কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে যে উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে তা যদি আগামী লোকসভা নির্বাচনে কাজে লাগাতে পারে তা থেকে যে ডিভিডেন্ট পাবে তাতে কেন্দ্রে বিজেপি সরকারের পতন হতে পারে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ