ভোটারের চেয়ে ভোট সংখ্যা বেশি, হাবরার তিনটি বুথের ঘটনায় বিস্মিত বিচারপতি অমৃতা সিনহা, বিডিওর কাছে রিপোর্ট তলব!
বাংলার জনরব ডেস্ক : বিরোধীদের অভিযোগ ছিল পঞ্চায়েত নির্বাচনে এমন কয়েকটি বুথ আবিষ্কার হয়েছে যেখানে ভোটারের সংখ্যার চেয়ে ভোট পড়েছে বেশি! এনিয়ে শাসক দল কটাক্ষ করলেও বাস্তব বলছে শুধু ভোটারের চেয়ে বেশি ভোট পড়েছে নয় অনেক জায়গায় দ্বিগুনের বেশি ভোট পড়েছে। আর এ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে মামলা দায়ের হতেই বিষয়টি সামনে এসে গেছে।
জানা গেছে উত্তর চব্বিশ পরগনার একটি দুটি নয় হাবরা ব্লকের তিনটি বুথে এরকম ঘটনা নাকি ঘটেছে। কলকাতা হাইকোর্টের মামলাকারীরা তথ্য প্রমাণ পেশ করে দেখিয়েছে বুথে ভোটার সংখ্যা ১৪৮৮ কিন্তু ভোট পড়েছে প্রায় আড়াই হাজারের কাছাকাছি। আর এই পরিসংখ্যান দেখে চমকে উঠেছেন হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা।

হাবড়া ২ ব্লকের তিনটি বুথে ১০০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনাচক্রে, এই ব্লকেই গণনার দিন ব্যালট পেপার খেয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছিল। ভুরকুণ্ডা গ্রামের ৩১ নম্বর বুথের তৃণমূল প্রার্থী মহাদেব মাটি কয়েকটি ব্যালট খেয়ে ফেলেন বলে অভিযোগ। পরে ওই বুথে ভোট বাতিল করে নির্বাচন কমিশন।
ভোটগণনায় গোলমালের কারণে হাবড়া ২ ব্লক আবার উঠে এল শিরোনামে। ভোটারের চেয়ে বেশি ভোট পড়ার অভিযোগ নিয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন জনৈক মহঃ নূরউদ্দিন-সহ কয়েক জন প্রার্থী। দেখা গিয়েছে, ওই ব্লকের দিঘরা মালিকবেরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ৮৩ নম্বর বুথে মোট ভোটারের সংখ্যা ১,৪৮৮। কিন্তু মোট ভোট পড়েছে ২,৪৯৬টি। এ ছাড়া, ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের ৭১ নম্বর বুথে মোট ভোটারের সংখ্যা ১,৫২৯। কিন্তু মোট ভোট পড়েছে ১,৭৪০টি। একই ভাবে ৬৮ নম্বর বুথে মোট ভোটারের সংখ্যা ১,৪৮১। কিন্তু ভোট পড়েছে ২,১৭৭টি।
প্রতি ক্ষেত্রেই মোট ভোটের পরিমাণ ভোটারের সংখ্যার চেয়ে ১০০ শতাংশের অনেকটা বেশি। ভোটার না থাকলে এত ভোট দিলেন কারা? এই মামলায় বুধবার বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বিচারপতি। তিনি হাবড়া ২ ব্লকের বিডিওর কাছে এ বিষয়ে রিপোর্ট তলব করেছেন। আগামী ৪ অগস্ট রিপোর্ট জমা দিতে হবে আদালতে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ১০ অগস্ট।
পঞ্চায়েত নির্বাচনের গণনায় কারচুপির অভিযোগ নতুন নয়। গত ১১ জুলাই গণনার দিন থেকেই রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে নানা ভাবে ভোট ‘লুটের’ অভিযোগ উঠেছে। কখনও শাসক তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রভাব খাটিয়ে ভোটে জেতার অভিযোগ তুলেছেন বিরোধীরা। কখনও আবার বিরোধীদের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছে শাসকদল। অনেক ক্ষেত্রেই ‘ভুয়ো’ ভোটারের অভিযোগ তোলা হয়েছে। হাবড়ার তিনটি বুথের পরিসংখ্যানে সেই ‘ভুয়ো’ ভোটারের ছাপই দেখা গিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। কী ভাবে এমন ঘটনা ঘটল, তার জবাব রিপোর্ট আকারে আদালতে জমা দিতে হবে সংশ্লিষ্ট বিডিওকে।

