দেশ 

অযোধ্যার রাম মন্দির এলাকা থেকে নির্দল প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছেন মুসলিম যুবক, ওই ওয়ার্ডে তৃতীয় স্থানে বিজেপি !এরই নাম ভারতবর্ষ।

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : অযোধ্যার পুর নিগমের ভোটের ফলাফল গতকাল প্রকাশিত হয়েছে অযোধ্যার মোট সাতটি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৭ টি ওয়ার্ড জিতেছে বিজেপি। ১৭ টি ওয়ার্ড জিতেছে সমাজবাদী পার্টি, আর নির্দল জিতেছে ১০ টি আসন। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় গতকালই কর্ণাটক বিধানসভার ফল প্রকাশিত হয়েছে। কর্ণাটকের বিদায়ী শিক্ষা মন্ত্রী তার আসন থেকে হেরে গেছেন। কর্ণাটকের হিজাব বিতর্কে তিনি ছিলেন প্রধান উদ্যোক্তা কারণ তিনি যে বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হতেন সেখানে মুসলিম ভোটারের সংখ্যা কম তা সত্ত্বেও এবারের বিধানসভা নির্বাচনের ফলে হেরে গেছেন শিক্ষা মন্ত্রী স্বয়ং নিজের কেন্দ্র থেকে যার কাছে হেরেছেন তিনি একজন মুসলিম প্রার্থী।

কোথায় যেন কাকতালীয় বিষয়টি ঘটে, কর্নাটকে যখন হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা থেকে মুসলিম প্রার্থী জয়ী হচ্ছে একই রকম ভাবে অযোধ্যায় যেখানে রাম মন্দির আছে সেখান থেকে জয়ী হচ্ছেন মুসলিম যুবক।তাঁর নাম সুলতান আনসারি। তিনি নির্দল প্রার্থী হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন অযোধ্যার রাম অভিরাম দাস ওয়ার্ডে। হিন্দুপ্রধান সেই ওয়ার্ডে সুলতানের জয়ে খুশি হিন্দু, মুসলিম সবাই।

রাম জন্মভূমির ঠিক পিছন দিকে অবস্থিত এই এলাকার বাসিন্দা ছিলেন রাম অভিরাম দাস। রাম জন্মভূমি আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা রাম অভিরামের নামেই ওয়ার্ডের নামকরণ হয়। সেই ওয়ার্ডেই বাজিমাত করলেন সুলতান। জয়ের পর সুলতান সংবাদসংস্থা পিটিআইকে বলেন, ‘‘এটা অযোধ্যায় হিন্দু-মুসলিম শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের সেরা উদাহরণ হতে পারে।’’

রাম অভিরাম দাস ওয়ার্ডে মুসলিম জনসংখ্যা নগণ্য। হিন্দু ভোট ৩,৮৪৪টি, সেখানে মুসলিম ভোট কেবলমাত্র ৪৪০। জয়ী সুলতান একাই পেয়েছেন মোট প্রদত্ত ভোটের ৪২ শতাংশ। মোট ভোট পেয়েছেন ৯৯৬টি। দ্বিতীয় স্থানে আর এক নির্দল প্রার্থী নগেন্দ্র মাঝি। তিনি পেয়েছেন ৪৪২টি ভোট। বিজেপি প্রার্থী শেষ করেছেন তৃতীয় স্থানে।

সুলতান যোগ করেন, ‘‘আমি এই ওয়ার্ডেরই বাসিন্দা। যত দূর জানি, আমার পূর্বপুরুষ গত ২০০ বছর ধরে এখানকার বাসিন্দা। ভোটে লড়ার ইচ্ছের কথা প্রথম যখন আমার হিন্দু বন্ধুদের জানাই, তাঁরা সমস্বরে আমাকে সমর্থন করে। ওরাই আমার হয়ে খেটেছে।’’

ওই ওয়ার্ডের বাসিন্দা অনুপ কুমার বলছেন, ‘‘মানুষ বাইরে থেকে অযোধ্যাকে দেখেন আর ভাবেন এখানে মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা থাকেন কী করে! কিন্তু এখন দেখুন, মুসলিমরা যে থাকেন শুধু নয়, তাঁরা অযোধ্যায় ভোটেও জেতেন।’’

ওই ওয়ার্ডের বাসিন্দা পেশায় ব্যবসায়ী সৌরভ সিংহ বলছেন, ‘‘অযোধ্যা গোটা দুনিয়ায় রামমন্দিরের জন্য বিখ্যাত হয়েছে ঠিকই কিন্তু এখানে মুসলিমদেরও পবিত্রস্থান আছে। আমাদের সেই ঐতিহ্য ধরে রাখতে হবে।’’

সৌজন্যে ডিজিটাল আনন্দবাজার।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ