কলকাতা 

সমকাজে-সমবেতনের দাবিতে হাজার হাজার শিক্ষক নবান্নের পথে হাঁটবেন ২০ নভেম্বর

শেয়ার করুন
  • 7
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিশেষ প্রতিনিধি : সুপ্রিম কোর্টে নির্দেশ মত এবং সাংবিধানিক অধিকার হল সমকাজে সমবেতন । কিন্ত দুঃখের হলেও সত্য সংবিধানের এই অধিাকারকে খোদ সরকারই মানত্য দিচ্ছে না বলে অভিযোগ । এরাজ্যের পার্শ্বশিক্ষকরা স্থায়ী শিক্ষকদের মতো সব কাজ করে থাকেন । এমনকি স্থায়ী শিক্ষকদের চেয়ে বেশি কাজ করেন পার্শ্বশিক্ষকরা । কিন্ত সমকাজ করা তারা স্থায়ী শিক্ষকদের মতো সমান বেতন পান না । সমকাজে-সমবেতনের দাবিতে  রাজ্যের প্রায় ৪৩ হাজার পার্শ্বশিক্ষক আগামী মঙ্গলবার (২০ নভেম্বর) নবান্ন ঘেরাও অভিযানে সামিল হবেন।

অবশৗ এর আগে ১৯ নভেম্বর সোমবার থালা বাজিয়ে শিয়ালদা থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিল করবেন তাঁরা। মুখে থাকবে স্লোগান- “এবার নাহলে নেভার।” তাঁদের হুঁশিয়ারি, নবান্ন যাওয়ার পথে পুলিশ তাঁদের যেখানে আটকাবে সেখানেই অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান বিক্ষোভ করা হবে।তাঁরা।পার্শ্বশিক্ষক ঐক্য মঞ্চের আহ্বায়ক ভগীরথ ঘোষ বলেন, “আমরা যে খিদের জ্বালায় মরছি সেটা বোঝাতে থালা বাজিয়ে শিয়ালদা থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিল করব। সেখানে একটি সভা হবে। সেই সভায় উপস্থিত থাকবেন বিশিষ্টজনরাও।”

দীর্ঘদিন ধরেই বেতনবৃদ্ধি নিয়ে সরব হয়েছেন এরাজ্যের পার্শ্বশিক্ষকরা। তাঁদের দাবি, স্থায়ী শিক্ষকদের মতোই কাজ করতে হয়। তা সত্ত্বেও স্থায়ী শিক্ষকদের তুলনায় বেতন অনেক কম। তার জেরে সংসার চালানো দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। শেষপর্যন্ত চলতি বছরে তাঁদের দাবি মেনে নেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবছরের ৯ মার্চ নজরুল মঞ্চে তৃণমূলের কোর কমিটির বৈঠক চলাকালীন তিনি পার্শ্বশিক্ষকদের বেতন বাড়ানোর বিষয়ে ঘোষণা করেন। তিনি জানান, প্রাথমিক স্কুলের পার্শ্বশিক্ষকদের বেতন বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকা করা হবে। উচ্চ-প্রাথমিক পর্যায়ের পার্শ্বশিক্ষকদের বেতন বেড়ে দাঁড়াবে ১৩ হাজার টাকা। এছাড়াও তিনি আশ্বস্ত করেন, যোগ্যতাসম্পন্ন পার্শ্বশিক্ষকদের স্থায়ীপদে নিয়োগ করা হবে। পরে জুলাইয়ে পার্শ্বশিক্ষকদের সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রীর গলাতেও শোনা যায় একই সুর।

পার্শ্বশিক্ষকদের অভিযোগ, আজও কার্যকর হয়নি সেই ঘোষণা। যদিও শিক্ষামন্ত্রী তখনই জানিয়েছিলেন আগামী বছরের মার্চ থেকে কার্যকর হবে এই সিদ্ধান্ত। সে বিষয়ে পার্শ্বশিক্ষকদের প্রশ্ন, মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করে দিয়েছেন। তারপরেও সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে এক বছর সময় লাগবে কেন? অভিযোগ, তাঁদের অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে অনেক পার্শ্বশিক্ষক বেছে নিয়েছেন আত্মহত্যার পথ। তাতে শেষতম সংযোজন আলিপুরদুয়ারের পার্শ্বশিক্ষিকা সমিতা লাকরা।

সেপ্টেম্বরে তিনি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ পার্শ্বশিক্ষকদের। এর পাশপাশি সিসিএল প্রদান, নিয়োগের দিন থেকে ইপিএফ কার্যকর করা, কর্মরত অবস্থায় মৃত পার্শ্বশিক্ষকের পোষ্যকে চাকরি ও অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা প্রদান সহ একগুচ্ছ দাবিতে নবান্ন ঘেরাও করবেন।

 


শেয়ার করুন
  • 7
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment