কলকাতা 

শুধু ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার নয় প্রশাসকও হতে হবে আমানত ফাউন্ডেশন আয়োজিত মেধাবীদের স্কলারশিপ প্রোগ্রামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বললেন বিশিষ্ট প্রশাসক নাইমুর রহমান

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি: আজ রবিবার ৫ ফেব্রুয়ারি কলকাতার ইন্ডিয়ান সায়েন্স কংগ্রেস অডিটোরিয়ামে আমানত ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট এর পক্ষ থেকে মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের স্কলারশিপ দেওয়া হয়। ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার আইনজীবী সহ বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে যারা পড়াশোনা করছেন যারা আর্থিকভাবে দুর্বল সেইসব মেধাবী ছেলেমেয়েদের প্রতি বছর আমানত ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট স্কলারশিপ দিয়ে থাকে। এ বছরও স্কলারশিপ দেওয়া হয় আজ রবিবার ৫ই ফেব্রুয়ারি।

এই উপলক্ষে আমানত ফাউন্ডেশন এর পক্ষ থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে কেরিয়ার কাউন্সেলিং এর আয়োজন করা হয়। এই কেরিয়ার কাউন্সিলিংয়ে এদিন বক্তব্য রাখেন আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আয়তুল্লাহ ফারুকী, শিশু বিকাশ একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা এবং সম্পাদক মুন্সি আবুল কাশেম। বক্তব্য রাখেন প্রাক্তন আমলা সরফরাজ আহমেদ, বক্তব্য রাখেন পুবের কলম পত্রিকার সম্পাদক আহমদ হাসান ইমরান। এ দিনের অনুষ্ঠানের স্বাগত ভাষণ দেন আমানত ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের চেয়ারম্যান মুহা শাহ আলম।

এদিনের অনুষ্ঠানে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য এবং আকর্ষণীয় বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট প্রশাসক নাইমুর রহমান। তিনি উপস্থিত ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা যে যে বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করুন না কেন আপনাদের প্রথম টার্গেট হওয়া উচিত প্রশাসক হওয়া। ইন্ডিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস বা আই এ এস হতে গেলে অনেক বেশি পড়াশোনা করতে হয়।

এটা যেমন ঠিক তেমনি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সিভিল সার্ভিস বা ডব্লু বি সি এস পরীক্ষায় পাশ করতে গেলে একটু বেশি পড়াশুনা করলেই তা সফল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, আপনারা মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত অংক, ইংরেজি, বাংলা, বিজ্ঞান, ইতিহাস ভূগোল যা পড়েছেন বা যা পড়ছেন তার থেকে একটু বেশি পড়াশুনা করলেই ডব্লুবিসিএস এ সাফল্য পাওয়া যাবে। মনে রাখবেন আমাদের সমাজে চিকিৎসক ইঞ্জিনিয়ার অনেক হয়েছে আমাদের প্রয়োজন এবার প্রশাসক।

জামিয়া মিলিয়া গতবছর ৩৩ জন আইএ এস উপহার দিয়েছে দেশকে, আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয় ২২ জন আইএএস উপহার দিয়েছে আমাদের দেশকে। অথচ আমরা পশ্চিমবাংলার বাসিন্দারা বাঙালি মুসলিমরা প্রশাসক তৈরি করতে পারিনি। যে গুটি কয়েক প্রশাসক হয়েছে, তারা নিজেদের মেধার জোরে প্রতিষ্ঠিত লাভ করেছে। প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণ করতে হলে প্রশাসক প্রয়োজন। প্রশাসনের কাছ থেকে ন্যায় বিচার পেতে হলে আমাদেরকে প্রশাসকের ভূমিকায় যেতে হবে আগামী প্রজন্মকে সেই ভূমিকা বেশি বেশি করে গ্রহণ করতে হবে।

তিনি বলেন, কলকাতার বুকে আমরা একটাও কম্পিটিশন পরীক্ষার জন্য ইনস্টিটিউট গড়ে তুলতে পারিনি। আল আমীন মিশন এই রাজ্যে শিক্ষা ক্ষেত্রে সংখ্যালঘু সমাজের এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার তৈরি করে চলেছে। এবার আমাদেরকে ডব্লিউবিসিএস আইএএস পরীক্ষার জন্য উন্নত মানের সেন্টার গড়ে তুলতে হবে কলকাতা শহরে ।এটা এই মুহূর্তেই করা প্রয়োজন বলে নাইমুর রহমান বলেন।

এদিনের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আয়তুল্লা ফারুকী বলেন, আজ এমন একটা সময়ে আমরা পৌঁছে গেছি যেখানে google নিয়ন্ত্রক শক্তি হয়ে উঠেছে। গুগলের অ্যালগোরিদম সমাজ পরিবর্তনের অন্যতম চাবিকাঠি হয়ে উঠেছে। এই সিস্টেমটা যে সমাজ আয়ত্ব করতে পারবে সেই সমাজ আগামী দিনে সমগ্র বিশ্বকে পরিচালনা করবে। তাই আমাদেরকে কম্পিউটার টেকনোলজির সঙ্গেও সংযুক্ত করতে হবে এবং তাকেও নিজেদের আয়ত্তে আনতে হবে।

সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আমানত ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিন আহমেদ, সবাইকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে এক অপূর্ব সুন্দর বক্তব্য রাখেন আইনজীবী মাসুদ করিম।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ