কলকাতা 

বন্যপ্রাণ সচেতনতা বাড়াতে কলকাতা চিড়িয়াখানার উদ্যোগে ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে বার্ষিক উৎসব ‘জু-ফেস্টিভ্যাল’

শেয়ার করুন

গৌরাঙ্গ সরখেল ও নায়ীমুল হকের প্রতিবেদন : অতিমারির কঠিন দু’বছর কাটানোর পর ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরছে ছাত্র-ছাত্রীরা, জেগে উঠছে শিক্ষাঙ্গন। লেখাপড়ায় উৎসাহ দিতে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আসন্ন শীতের মরশুমকে স্বাগত জানিয়ে কলকাতা চিড়িয়াখানা আয়োজন করেছিল পাঁচ দিনের আকর্ষণীয় বার্ষিক উৎসব, নাম দেওয়া হয়েছিল জু-ফেস্টিভ্যাল। আলিপুর চিড়িয়াখানা প্রাঙ্গণে ১৪ই নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই ফেস্টিভ্যাল শেষ হয় ১৮ নভেম্বর। ফেস্টিভ্যালের মূল বিষয় ছিল বন্যপ্রাণী সচেতনতা।

এই ফেস্টিভ্যালে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ১০০টি স্কুলের পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়ারা অংশগ্রহণ করেছিল। উৎসবের প্রতিটি দিন বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিল ছাত্র ছাত্রীরা। বন্যপ্রাণী নিয়ে ছবি আঁকার কর্মশালা, কুইজ, স্বরচিত গল্প পাঠ, সেমিনার এগুলোই ছিল জু ফেস্টিভ্যালের মূল প্রতিযোগিতা। উৎসাহী ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণ ছিল দেখার মতো। ফেস্টিভ্যালে উপস্থিতি বিগত তিনটি বছরের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছিল।

জু-ফেস্টিভ্যালের উদ্দেশ্য ও আগামী কর্মসূচি সম্পর্কে আলিপুর চিড়িয়াখানার অধিকর্তা আশিস কুমার সামন্ত বলেন, বন্যপ্রাণ সচেতনতা বাড়াতে আগামী প্রজন্মের নাগরিক হিসেবে স্কুল পড়ুয়াদের বেছে নেওয়া হয়েছে। পড়ুয়াদের উৎসাহিত করতে ও প্রতিযোগিতা আকর্ষণীয় করে তুলতে প্রতি বিভাগে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানাধিকারীকে যথাক্রমে ৫০০০, ৩০০০ এবং ২০০০ টাকা পুরস্কার দেওয়া হয়। ডিরেক্টর আশিস কুমার সামন্ত ও ডেপুটি ডিরেক্টর পিয়ালী সিনহার সার্বিক তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা সুসম্পন্ন হয়। ১৮ই নভেম্বরের শেষ দিন সেমিনার প্রেজেন্টেশনে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বুড়ুল হাই স্কুল ( উঃমাঃ) দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে ৩০০০ টাকা পুরস্কার জিতে নেয়। এছাড়াও সেমিনার প্রেজেন্টেশনে এই বিদ্যালয়ের হিয়া হাজরা, সৌমিলি ঘোষ পুরস্কার লাভ করে।

সেমিনার প্রেজেন্টেশনের দুটি দিক ছিল। একটি ছিল পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে, আরেকটি পোস্টারের মাধ্যমে ।সেমিনারের পোস্টার প্রেজেন্টেশনে পারিজাত কুমার পোস্টার প্রদর্শনের মাধ্যমে তার বক্তব্য উপস্থাপন করে উপস্থিত বিচারকের মন জয় করে নেয়। ফেস্টিভ্যালের প্রথম দিন ১৪ ই নভেম্বর বুড়ুল হাই স্কুলের অঙ্কিতা মন্ডল অঙ্কনে , ১৭ই নভেম্বর স্বরচিত গল্প লিখন সৃজন চক্রবর্তী সান্তনা পুরস্কার লাভ করে । বুড়ুল হাই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক তুষার কান্তি মন্ডল বলেন ২০১৯ সালে তাৎক্ষণিক বক্তৃতা ও মডেলিং এ বিদ্যালয়ের ছাত্র সায়ন ঘোষ প্রথম স্থান অধিকার করে ৫০০০ টাকা পুরস্কার পেয়েছিল। তাই জু ফেস্টিভ্যালে বুড়ুল হাই স্কুলের সাফল্য বিশেষভাবে লক্ষণীয়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার শতাব্দী প্রাচীন এই বুড়ুল হাই স্কুলে শিক্ষকতা করতেন মাস্টারদা সূর্য সেনের সহযোগী বিপ্লবী অনুরূপ চন্দ্র সেন। সেই ঐতিহ্য আজও বহন করে চলেছেন বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষিকারা। ছাত্র-ছাত্রীদের উৎসাহিত করতে তাঁরা বিভিন্ন রকম কর্মসূচিও নিয়ে থাকেন। তার নমুনা সদ্য হয়ে যাওয়া এই জু-ফেস্টিভ্যালে ছাত্র-ছাত্রীদের দারুণ সাফল্য।

কলকাতা চিড়িয়াখানার উদ্যোগে এবারের জু-ফেস্টিভ্যালে সব কটি প্রতিযোগিতা ছিল বেশ উন্নতমানের এবং চিন্তা-প্রসূত। স্বাভাবিকভাবেই কলকাতা চিড়িয়াখানার এই বার্ষিক উৎসবের সার্বিক আয়োজনে খুশি ছাত্র-ছাত্রী এবং তাদের অভিভাবকেরা। এ ধরনের আরও অনুষ্ঠান হওয়া উচিত বলে তাঁরা মত প্রকাশ করেছেন। একই কথা জানিয়েছেন শিক্ষা সমাজের গুণীজনেরাও।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ