গোটা দুনিয়াতে সমস্ত গ্রন্থের মধ্যে কোরআন- ই বেস্ট সেলার : দেবাশীষ চৌধুরী
আজিজুল হক, দক্ষিণ ২৪ পরগনা :’সারা পৃথিবীতে যত গ্রন্থ রয়েছে সম্প্রীতি ভাবনায় কোরআনই দৃষ্টান্ত।। পবিত্র কোরআন শরীফে রয়েছে ৬, ৬৬৬ টি আয়াত। কোথাও সাম্প্রদায়িকতার উস্কানি নেই। কোরআনে রয়েছে সম্প্রীতি ও সাম্যবাদের বার্তা। তাই এন সাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা তথ্য অনুযায়ী গোটা দুনিয়ার সমস্ত গ্রন্থের মধ্যে কোরআনই বেস্ট সেলার।’রবিবার উস্তি দেউলা মোড়ে সম্প্রীতি সচেতনতা ও বাংলা কোরআন বিতরণী সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে একথা বলেন শিক্ষক ও চিন্তাবিদ দেবাশীষ চৌধুরী।
উক্ত মনোজ্ঞ সভায় শ্রী চৌধুরী আরো জানান, কোরআন শরীফ কেবল মুসলিমদের নয়, তামাম বিশ্ববাসীর জন্য রহমত স্বরূপ। কোরআনের শিক্ষা প্রত্যেকের জন্য প্রয়োজন। মহানবী হযরত মুহাম্মদ স: কোন বিশেষ সম্প্রদায়ের নয়, বিশ্ববাসীর। বঞ্চিত নিপীড়িত মানুষের প্রকৃত বন্ধু হলেন আমাদের প্রিয় নবী।
কোরআনের সাম্যের বাণী বিশ্বকে দেয় দিশা।মগরাহাট এক নম্বর ব্লক সম্প্রীতি মঞ্চ আয়োজিত সম্প্রীতি সচেতনতা সভা ও বাংলা কোরআন বিতরণী সভা হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের বিভিন্ন বয়সের কৌতুহলী জনতার উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায় এই সম্প্রীতি সভাকে কেন্দ্র করে।
প্রখ্যাত ওলামা এ এফ এম খালিদ বলেন, সম্প্রীতি ও সহনশীলতা একটাকে বাদ দিয়ে হয় না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-‘অপরের হিংসা করোনা, অপরের নিন্দা করো না।’ সেই অর্থে পৃথিবীতে যত সম্প্রদায় আছে একে অপরের ভাই।
ড. তুষার সরকার বলেন, সব সম্প্রদায়ের মিলে ভালোবাসার বন্ধনে একটা মালার থাকতে হবে। দেশের বিভেদগামী শক্তি সম্প্রীতির ভালোবাসাকে দুর্মুষ করতে না পারে সে লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

সমাজসেবী নবকুমার বিশ্বাস বলেন, ভারতবর্ষ সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে বিভাজনের ট্রাজেডি দেশ। আবার সর্ব আবার সর্ব ধর্ম সমন্বয়ের দেশ। সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠা না হলে সম্প্রীতি হতে আসতে পারেনা।
অধ্যাপক ডঃ কাত্তিক চন্দ্র প্রামানিক তার দীর্ঘ বক্তব্যে বলেন, মানুষের অধিকারকে ক্রমাগত কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। দেশজুড়ে ব্রাহ্মণ্যবাদ মাথাচাড়া দিয়েছে। উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশে নিম্ন বর্ণের মানুষরাও আক্রান্ত। মন্দিরে উঠতে দেওয়া হয় না। অথচ ভারতবর্ষে মোঘল ও সুলতানি শাসন কেটেছে ৬০০ বছরের অধিক। শাসকরা ছিল ইসলাম ধর্মের। ইচ্ছে করলে সমগ্র ভারতবাসীকে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করতে পারত। তারা তা করেনি। তাঁরা বৈষম্য নয়, সহিষ্ণুতার পথ দেখিয়েছেন।
সমাজকর্মী দীপক কুমার বলেন, ব্রাহ্মণ্যবাদীরা ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্র করতে চায়। হিন্দুত্ব চাপিয়ে দিতে চায়। দেশের মানুষ কি খাবে সেই ভাবনা সরকার বাহাদুরের নেই। এনআরসি জুজুতে হিন্দুত্ববাদীরা দেশের মানুষের সমস্ত অধিকার কেড়ে নেবে। ভোটাধিকার থাকবে না। জায়গা জমি কেড়ে নিয়ে দেশবাসীকে দাসে পরিণত করবে।
এই সভায় বিশিষ্টদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক সনৎকুমার পুর্কায়েত, অধ্যাপক আলি মুর্শেদ মোল্লা, শিক্ষক আনোয়ারুল হক মোল্লা, শিক্ষক আলিনুর মন্ডল, সমাজসেবী দীপক বেপারী, শিক্ষারত্ন আবুল হাসেম লস্কর, সমাজকর্মী মাকসুদা খাতুন, মাওলানা রাকিব হক, অধ্যাপক শেখ আমিনুদ্দিন, শিক্ষিকা নিপা বিশ্বাস, তন্ময় পুর্কায়েত, শিক্ষক দেবাশীষ চৌধুরী, মালঞ্চ মিশনের প্রধান শিক্ষক আবুল বাসার হালদার, কবি জাহাঙ্গীর দেওয়ান প্রমুখ।

