পার্থ ঘনিষ্ঠ অর্পিতার বাড়ি থেকে কোটি কোটি টাকা উদ্ধার হওয়ায় দল বিড়ম্বনায় পড়েছে, মানিক অনুব্রতের ক্ষেত্রে তা ঘটেনি বিতর্কিত মন্তব্য করলেন সাংসদ সৌগত রায়
বাংলার জনরব ডেস্ক : দুর্নীতির দায়ে গ্রেফতার হয়েছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায় মানিক ভট্টাচার্য এবং অনুব্রত মণ্ডল। কিন্তু একদা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছের লোক এবং তৃণমূল কংগ্রেসের মহাসচিব রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ দফতরের মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় গ্রেপ্তার হওয়ার পরেই তাকে দলের সমস্ত পথ থেকে সরিয়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়। কিন্তু ব্যতিক্রম দেখা গেল মানিক ভট্টাচার্য এবং অনুব্রত মণ্ডলের ক্ষেত্রে। যদিও অনুব্রত মণ্ডল গরু পাচার মামলায় অভিযুক্ত হয়ে জেলে আছেন। কিন্তু মানিক ভট্টাচার্য তো পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মতোই শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতেই ইডির হাতে জেলবন্দী। তা সত্ত্বেও মানিকের বিরুদ্ধে এখনো পর্যন্ত কোনো কড়া পদক্ষেপ করা হয়নি। এবার এই প্রসঙ্গে মুখ খুললেন দমদমের সাংসদ সৌগত রায়।
প্রবীণ তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা এবং সাংসদ সৌগত রায় এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘‘পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে স্তূপীকৃত নগদ টাকা উদ্ধার হতে দেখা গিয়েছে। কিন্তু মানিকের ক্ষেত্রে টাকা পাওয়া যায়নি। অনুব্রতের ক্ষেত্রেও মোটা পরিমাণ টাকা দেখা যায়নি। পার্থের সহযোগীর থেকে যে টাকা মিলেছে, সেটা সবাই দেখেছে। তার পর দল চুপ করে বসে থাকতে পারে না। বাকিদের ক্ষেত্রে তো ইডি, সিবিআই কিছু নথির কথা বলছে কিন্তু কিছুই তো প্রমাণিত হয়নি।’’
প্রসঙ্গত, পার্থ গ্রেফতার হন ২৩ জুলাই। এর পরে তাঁকে মন্ত্রিত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেটা ২৮ জুলাই। একই দিনে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির বৈঠকে দলীয় পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়।
অন্য দিকে, অনুব্রত গত ১১ অগস্ট এবং মানিক গ্রেফতার হয়েছেন ১১ অক্টোবর। প্রথম জন গরুপাচার তদন্তে এবং দ্বিতীয় জন শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে। দু’জনের ক্ষেত্রেই এখনও পর্যন্ত কোনও দলীয় পদক্ষেপ করা হয়নি।
‘পার্থ-ঘনিষ্ঠ’ অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের ফ্ল্যাট থেকে বিপুল নগদ টাকা উদ্ধার নিয়ে দল যে অস্বস্তিতে তা কোন রকম রাখ – ঢাক না রেখেই সৌগত রায় বলেন, ‘‘সারা ভারতেই এই রকম দুর্নীতির ব্যাপার কম হয়েছে। বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লালুপ্রসাদ অনেক দিন জেলে ছিলেন। কিন্তু লালুর কাছ থেকে এত নোট তো বার হয়নি। এর আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ছিলেন সুখরাম। তাঁর ওখান থেকে দু-তিন-চার কোটি টাকা উদ্ধার হচ্ছে দেখা গিয়েছে। এই ভাবে তো কোথাও কখনও দেখা যায়নি।’’

