যুদ্ধবিরতি শেষ! ফের শুরু ইরান আমেরিকা যুদ্ধ!
যুদ্ধবিরতি শেষ। ইরানে ফের হামলার ইঙ্গিত দিয়ে ঘোষণা করে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার থেকে ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে হামলা, পাল্টা হামলা শুরু হয়েছে। নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পশ্চিম এশিয়া। সেই পরিস্থিতিতে ইরানের সঙ্গে সব সম্পর্ক ‘ছেদ’ করার কথা জানালেন ট্রাম্প। এ-ও জানান, তিনি মনে করেন ইরানের সঙ্গে যে সমঝোতাপত্র (মউ) স্বাক্ষর হয়েছিল, তা শেষ। অর্থাৎ, দু’দেশের মধ্যে যে যুদ্ধবিরতি চলছিল, তা শেষ করে পুরোদমে যুদ্ধের পথে হাঁটতে পারে আমেরিকা।
মঙ্গলবার হরমুজ় প্রণালীতে তিনটি পণ্যবাহী জাহাজ আক্রান্ত হয়। তার পরেই আমেরিকা দাবি করে, এই হামলার নেপথ্যে রয়েছে আইআরজিসি। ওই জাহাজগুলির মধ্যে একটি ছিল ভারতমুখী। সেই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর বুধবার ভোর থেকে (স্থানীয় সময়) ইরানে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর মিলেছে। তার পর জবাবে বুধবার ইরান সেনার ‘এলিট ফোর্স’ ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ধারাবাহিক ভাবে বাহরিন এবং কুয়েতে আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। তারা জানিয়েছে, কুয়েতের আল সালেম এবং বাহরিনের সলমন বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, হামলা প্রতিহত করার চেষ্টা করছিল যে মার্কিন ড্রোন, সেটিকেও গুলি করে নামানো হয়েছে।
ইরানি সেনার হামলার পর থেকেই বাহরিন, কুয়েত জুড়ে সাইরেনের শব্দ শোনা যাচ্ছে। তবে এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছে কুয়েত। পাশাপাশি সে দেশের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার মোকাবিলা করেছে।
সেই আবহে ট্রাম্প ‘সংঘর্ষবিরতি শেষের’ কথা জানালেন। পাশাপাশি, ইরানি নেতৃত্বকে ‘নিকৃষ্ট’, ‘অসুস্থ’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, ‘‘ওরা হিংস্র। ওদের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে ওরা তা ব্যবহার করত।’’ তবে কি দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনার আর কোনও জায়গা নেই? চূড়ান্ত চুক্তি আবার বিশ বাঁও জলে? ট্রাম্প জানান, উভয় পক্ষের আলোচনাকারীরা কথা চালিয়ে যেতে পারেন। কিন্তু এই প্রচেষ্টাকে ‘সময়ের অপচয়’ বলে মনে করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি মনে করেন, ‘অবাস্তব’ লোকদের সঙ্গে আলোচনা করে কোনও লাভ নেই।
হরমুজ়ের কাছে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার প্রত্যাঘাত শুরু করে মার্কিন বাহিনী। বুধবারের হামলা প্রসঙ্গে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সমাজমাধ্যমের পোস্টে ইরানে হামলার খবর জানায়। তাদের বক্তব্য, ‘‘বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার দায় ইরানের। তাই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। মার্কিন বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক হামলা শুরু করেছে।’’ হরমুজ় প্রণালীতে জাহাজের উপর হামলার ঘটনার নিন্দা করেছে আমেরিকা। সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, ইরানের এই আগ্রাসন অযৌক্তিক, বিপজ্জনক এবং যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন। মার্কিন বাহিনীর দাবি, তারা ইরানি বাহিনীর ৬০টিরও বেশি ছোট নৌকা-সহ বিভিন্ন জায়গায় নিশানা করেছে।
অন্য দিকে, বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত তেল বিক্রির ক্ষেত্রে ইরানকে যে ছাড়পত্র দিয়েছিল আমেরিকা, তা প্রত্যাহারের কথা জানানো হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের তরফে। গত ১৭ জুন আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে সমঝোতাপত্র (মউ) স্বাক্ষর হয়। তার পরই ইরানি তেলের উপর নিষেধাজ্ঞা সাময়িক প্রত্যাহারের কথা জানায় আমেরিকা। বিজ্ঞপ্তি জারি করে আমেরিকার অর্থ দফতর জানিয়েছিল, ইরানের জন্য একটি সাধারণ লাইসেন্স জারি করা হচ্ছে। এই লাইসেন্স ২১ অগস্ট পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল এবং পেট্রোকেমিক্যাল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদন, সরবরাহ এবং বিক্রির অনুমতি দেবে ইরানকে। সেই সিদ্ধান্ত বাতিলের কথা জানায় আমেরিকা। আর তার পরই সংঘর্ষবিরতি ‘শেষ’ করার কথা ঘোষণা করলেন ট্রাম্প।

