বাবুল সুপ্রিয় দূর হটো বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে বিজয়া সম্মিলনীতে তৃণমূল কর্মীদের একাংশের স্লোগানে বিব্রত দল, দলটা পচে গেছে কটাক্ষ দিলীপের
বাংলার জনরব ডেস্ক : মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেস ইদানিং নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শকে সরিয়ে রেখে নরম হিন্দুত্ব নিয়ে বিজেপির মোকাবিলায় নেমেছে। আর এই নরম হিন্দুত্বই যে তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে এ রাজ্যে কাল হতে চলেছে তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে যে ধর্মনিরপেক্ষ ইমেজ ছিল সেই ইমেজকে কাজে লাগিয়ে তিনি নিজের ভাবমূর্তিকে অক্ষুন্ন রাখতে পারতেন তা না করে নরম হিন্দুত্বকে সামনে আনার জন্য ইদানিং সব বিধানসভা এলাকাতে বিজয়া সম্মিলনী করছে তৃণমূল কংগ্রেস।
আর তৃণমূল কংগ্রেসের এই বিজয় সম্মেলনকে সামনে রেখেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব তীব্র আকার ধারণ করেছে কয়েকদিন আগেই খরদহে তীব্র ভাষায় এলাকার বিধায়ক নির্মল ঘোষ দলের সমালোচনা করেছিলেন অন্যদিকে আজ রবিবার ১৬ই অক্টোবর বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে বিজয়া সম্মিলনী ঘিরে এলাকার বিধায়ক বাবুল সুপ্রিয় দূর হটো বলে স্লোগান উঠলো, জানিয়ে চরম অস্বস্তিতে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
রবিবার বালিগঞ্জে তৃণমূলের বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠান ঘিরে অশান্তি সামনে চলে এল। এ দিন বাবুলই কমলা চ্যাটার্জি গার্লস স্কুলে বিজয়া সম্মিলনীর আয়োজন করেন। কিন্তু নিজেদের তৃণমূল বলে দাবি করে স্কুলের সামনে জড়ো হন একদল মানুষ। বাবুলের বিরুদ্ধে ‘দূর হটো’ স্লোগানও দিতে শোনা যায় তাঁদের। এর পাল্টা বাবুলের অনুগামীরা ফার্ন রোডে জড়ো হন। সেখানে ম্যাটাডোরের সামনেই সম্মিলনী হবে বলে ঘোষণা করেন।
তাতে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে পুলিশকে ছুটে আসতে হয়। এলাকায় এনে দাঁড় করানো হয় প্রিজন ভ্যান পর্যন্ত। বিক্ষোভকারীদের দাবি, তাঁরা বালিগঞ্জের বাসিন্দা। অথচ বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠানে যাঁরা বাবুলের অনুগামী হিসেবে জড়ো হয়েছেন, তাঁরা সব বহিরাগত। ছ’মাস ধরে বাবুলকে এলাকায় দেখা যায়নি বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা। এক মহিলা বলেন, “আমাদের ভোটে জিতেছেন। অথচ এলাকায় আসেননি কখনও।”
সেই নিয়ে প্রতিক্রিয়া চাইলে বাবুল বলেন, “পাড়ার লোকজন বলছেন, বিক্ষোভকারীরা পাড়ার কেউ নন। আমি তো পাড়ার প্রত্যেককে চিনি না। কী করে বুঝব! এঁদের কাছ থেকেই বিবরণ জানতে হবে। আমার মনে হয় বিষয়টিকে এত বড় করে দেখার কিছু নেই। আমি এসেছি। ক্রিকেট থেকে ফুটবল এবং রাজনীতি, সব জায়গাতেই বিবদমান গোষ্ঠী থাকে। কী সমস্যা, আমি বসে দেখে নেব।”
প্রকাশ্য বিবাদ নিয়ে অসন্তোষও প্রকাশ করেন বাবুল। তাঁর কথায়, “তৃণমূল একটি দল। এখানে কোনও কাউন্সিলর বা অন্য কারও দলের কোনও সদস্যের বিরুদ্ধে ক্যামেরার সামনে কটূক্তির অনুমতি নেই। আমরা সকলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী। কিছু বলে থাকলে দল ব্যবস্থা নেবে।”
এ নিয়ে যদিও কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছেন বিজেপি-র সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, “তৃণমূল থাকবে আর ঝামেলা থাকবে না, এটা হয় না। সর্বোচ্চ স্তরে খেউড় দেখেছি আমরা। কুণাল ঘোষ-পার্থ চট্টোপাধ্যায় থেকে এখন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়-তাপস রায়। নিচের স্তরে তো গোলাগুলি চলছে! বিজয়া সম্মিলনীতে ঝগড়া, মারামারি। দলটি পচে গিয়েছে। কিছু মুখপাত্র বড় বড় কথা বলছেন। কোথায় দল, কোথায় সরকার, কিছু বোঝা যাচ্ছে না। কিছু পাওয়ার আশা নেই।”

